রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৭
হোম > সাক্ষাৎকার > পুঁজিবাদের ইসলামীকরণ প্রচেষ্টার মৌলিক অসংগতি

পুঁজিবাদের ইসলামীকরণ প্রচেষ্টার মৌলিক অসংগতি তারিক রমাদানের সাথে আলাপচারিতা

এডিটর’স নোট:

প্রেস টিভির Islamic Awakening প্রোগ্রামে ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর তারিক রমাদান অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে পুঁজিবাদ ও ইসলামের তুলনামূলক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। গত তিন দশকে বিশ্বজুড়ে ‘ইসলামী অর্থনীতি’ হিসেবে যে ব্যবস্থাটি দাঁড়িয়েছে, পুঁজিবাদের সাথে তার কোনো পার্থক্য তো নেইই, এমনকি ইসলামের উদ্দেশ্যের সাথেও এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি সমালোচনা করেন। আলোচনাটি ইংরেজি থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট করেছেন মো. আইয়ুব আলী, অনুবাদ করেছেন মাসউদুল আলম।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমসাময়িক পশ্চিমা অর্থব্যাবস্থা নানা ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত। ফলে মুনাফা অর্জনের সীমাহীন পুঁজিবাদী প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে ওঠেছে। পুঁজিবাদ সাধারণত এক ধরনের ইতিবাচক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মুখোশ পরে থাকে। ইসলাম ও পুঁজিবাদের মতো দুটি ভিন্ন ধারার সাথে একই ধরনের ব্যবসায়িক উদ্যোগ কি আসলেই কার্যকর থাকতে পারে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার পতন থেকে বুঝা যায়, পাশ্চাত্যধারার পুঁজিবাদ অনেক সমস্যা তৈরি করেছে। ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়, অর্থ (money) হচ্ছে নিছক বিনিময়ের মাধ্যম, ব্যবসায়ের পণ্য নয়। অর্থনৈতিক লেনদেনসহ যে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে সততার উপর কোরআন জোর দিয়েছে। মুসলমানরা ব্যবসায়ে প্রতারণা করতে পারে না। তারা এমন কোনো ব্যবসায়ে জড়িত থাকতে পারে না, যেখানে এক পক্ষের বিনিয়োগ থেকে আরেক পক্ষ মুনাফা অর্জন করে। কোরআন বলেছে,

وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ

তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না (সূরা বাকারা: ২৭৯)

এই ইস্যুটিসহ আরো কিছু ইস্যু নিয়ে আমাদের নির্ধারিত অতিথি প্রফেসর তারিক রমাদানের সাথে এখন কথা বলবো।



রেজা কাজেম: প্রফেসর তারিক রমাদান, আপনাকে স্বাগতম।

তারিক রমাদান: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

রেজা কাজেম: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পুঁজিবাদ সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা দেয়ার অনুরোধ করে আজকের অনুষ্ঠান শুরু করছি।

তারিক রমাদান: পুঁজিবাদ সম্পর্কে বলার আগে ‘অর্থনীতি’ সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা উচিত। কারণ, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যে উপায়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, বণ্টন ইত্যাদি করা হয়, সেই পুরো ব্যাপারটি হলো অর্থনীতি।

অর্থনীতি একইসাথে এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্স ও হিউম্যান সায়েন্স। মোটাদাগে অর্থনীতির দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে – (১) সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এখানে রাষ্ট্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। (২) পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এখানে মুক্তবাজার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, পণ্যের উৎপাদন ও মানুষের ভোগ – এই দুয়ের মাঝে বাজার নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে আমরা জানি।

বেচাকেনার মাধ্যমে মুনাফা অর্জিত  হয়। মুনাফাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যক্তিউদ্যোগগুলো এই প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুদ (interest), চড়া সুদ (usury) এবং ফটকাবাজি (speculation) – এই তিনটি ধারণার পর্যালোচনা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, এই স্বনিয়ন্ত্রিত মুক্তবাজার আসলে খুব একটা কার্যকর নয়। এই তথাকথিত স্বনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার পেছনে ‘ঈশ্বরের হাত’ কাজ করে বলে আমরা জানি! তাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভিত্তিটাই একটি সমস্যা। মুক্তবাজার স্বয়ং কোনো সমস্যা নয়, যদি তা মানুষের অধিকার ও তাদের প্রতি দায়িত্বপালনের ব্যাপারে কিছু নিয়মনীতি মেনে চলে।

রেজা কাজেম: পুঁজিবাদ, নব্য-উদারবাদ – এইসব নিয়ে আপনি যে ধরনের ব্যাখ্যা দিলেন, তা খুবই ইন্টারেস্টিং। আপনি জানেন, পুঁজিবাদের একটা ডগম্যাটিক উপনিবেশিক অতীত রয়েছে। যেখানে একদল লোককে ধনী করার নিমিত্তে দাসব্যবস্থার পত্তন করা হয়েছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, কিছু পরিভাষা ও সংজ্ঞার সামান্য পরিবর্তনের আড়ালে প্রকৃত ঘটনা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে…।

তারিক রমাদান: না। এটা বরং আগের চেয়েও বাজে ব্যাপার। ব্যাপারটা শুধু অতীতেই  নয়, এখনও বিদ্যমান। সেটা হচ্ছে বিশ্বায়ন। মূলত অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন। এটা বর্তমানকালের বৈশ্বিক ব্যবস্থা। এর উপর ভিত্তি করেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চলছে।

হ্যাঁ, নব্য-উদারবাদের প্রসঙ্গে আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে হবে – এর প্রকৃত মর্মবাণী কী? মানবতার সেবাধর্মী কোনো ইকোনমির কথা কি এখানে বলা হচ্ছে? নাকি, এমন এক ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, যার একমাত্র চালিকা শক্তি হচ্ছে মুনাফা?

এগুলোই হচ্ছে আমাদের জন্য সমস্যা। কারণ, যে কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে শুরুর প্রশ্নটা হবে ব্যবস্থাটির চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে। অর্থাৎ, এটি কী অর্জন করতে চায়? এটি কি ন্যায্যতা (justice) প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ অর্জন করতে চায়?

মানুষকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে বিবেচনা করার অর্থ হলো, অন্য সবকিছু হচ্ছে উপায় (means) মাত্র। কিন্তু যদি মুনাফাকে কেন্দ্রে রাখা হয়, তাহলে ব্যক্তি তো বটেই, সমগ্র মানবজাতিও মুনাফা অর্জনের উপায়ে পরিণত হয়। এটাই হলো নব্য-উদারবাদী ব্যবস্থা। এখানে মুনাফার স্বার্থেই সবকিছু করা হয়, এর পরিণতি যাই হোক না কেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি তার স্বার্থে মানুষ ও জাতিসমূহকে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে দাসপ্রথা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা মাত্র। অথচ দাসপ্রথা নিয়ে আমরা এখন আর তেমন কথা বলছি না।

কিন্তু অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, সর্বত্রই দাসপ্রথা রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে শুরু করে গ্লোবাল সাউথ (অর্থাৎ আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ দেশ) পর্যন্ত দাসপ্রথা এখনো বিদ্যমান। যেখানে নিছক টাকা বানানোর জন্য বড় বড় বহুজাতিক করপোরেশন মানুষকে ব্যবহার করছে। দাসের মতো সারাদিন খেটে আপনি পাবেন মাত্র এক ডলার। এটা দাসত্বের নতুন ধরন। অথচ এ নিয়ে আমরা কথা বলি না, যেন এটা অতীতের কোনো ব্যাপার। দাসপ্রথা আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, তাই আগের মতো চোখে পড়ে না হয়তো; কিন্তু ব্যাপারটা এখনো আছে।

রেজা কাজেম: দাসপ্রথাসহ প্রাসঙ্গিক অনেকগুলো ইস্যু নিয়ে আপনি বললেন। অন্য কোনো অনুষ্ঠানে আমরা হয়তো এগুলো নিয়ে আলাপ করতে পারবো। তবে এখন একটা বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারি। সেটা হলো, পুঁজিবাদ ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে দেখা হবে? ব্যবসায় উদ্যোক্তাগণ এটা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। এমন কোনো স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যবসা বা ইসলামী ব্যবস্থা কী আছে, যাকে সঠিক বলা যায়?

তারিক রমাদান: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটা কোনো সমস্যা বলে আমি মনে করি না। কোরআনে এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবেই বলা হয়েছে,

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّ‌بَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّـهُ الْبَيْعَ وَحَرَّ‌مَ الرِّ‌بَا

তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে ব্যবসা তো সুদ নেয়ার মতোই! অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন (সূরা বাকারা: ২৭৫)

এ আয়াতের মানে কী? এর সহজ অর্থ হলো, ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়া। অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মানে হলো আপনি পণ্য উৎপাদন করবেন এবং সেগুলো বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। এটা ব্যবসা। এটা এমন ‘একটা কিছু’ যা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে হচ্ছে। তবে এটা অবশ্যই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। এই ‘একটা কিছু’ হলো আপনি যা ক্রয় কিংবা বিক্রয় করছেন।

ইসলামী ব্যবস্থায় ‘রিবা হারাম  হওয়া’র মানে হলো, কোনো কিছু বিক্রি করার সময় আপনি অতিরিক্ত যা পেতে চাচ্ছেন, সেটা হারাম। প্রকৃতপক্ষে, ব্যাপারটা তখনই ঘটে, যখন অর্থ নিজেই অর্থ উৎপাদন করে। অর্থাৎ যে অর্থ পণ্য উৎপাদন ছাড়াই অর্জিত হয়। কোনো ফিনান্সিয়াল সিস্টেমে অর্থ নিছক একটা উপায় (means) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে নিজেই উদ্দেশ্যে (goal) পরিণত হলে তা অগ্রহণযোগ্য।

যেমন – কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি থাকতেই পারে। নৈতিক শর্তাবলি পূরণ করলে ইসলামের দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা আমরা দেখি না। অর্থাৎ, আপনি মানুষকে শোষণ করতে পারবেন না, দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ উপায়ে ব্যবসা করতে হবে এবং অর্থ থেকে অর্থ বানাতে পারবেন না। তবে কাজের বিনিময়ে অর্থ কামাতে পারবেন। অতএব, আপনার নিজস্ব অংশগ্রহণ ও ঝুঁকি গ্রহণের মাধ্যমে যা কিছুই করবেন, ইসলামে তা অনুমোদিত। নিছক টাকা খাটিয়ে আরো টাকা অর্জন এবং অন্যায্য লেনদেন নির্ভর কোনো ব্যবস্থা চালু করার মতো ব্যাপারগুলো ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।

রেজা কাজেম: ইসলামী কাঠামোর মধ্যে থেকে ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম কীভাবে পরিচালিত হবে, তার নিয়মনীতি সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে আপনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ ব্যাপারে আপনি কি আরেকটু বিস্তারিত  বলবেন?

তারিক রমাদান: হ্যাঁ, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কারণ, আমাদের অনেক ভাইবোনেরা এখন ইকোনমি ও ফাইনান্সে সম্পৃক্ত  হচ্ছেন। তারা একে ‘ইসলামিক ইকোনমি’ ও ‘ইসলামিক ফাইনান্স’  হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের সাথে কথা বললে বুঝা যায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে এর কোনো পার্থক্য তো নেইই, ‘আমরা’ বরং ‘ইসলামী’ উপায় (means) অবলম্বন করে এমন একটা সিস্টেম তৈরি করতে চাচ্ছি, যা দিয়ে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা কামানো যায়। এটাই হচ্ছে সমস্যা। আমি শুরু থেকেই বলছি, সিস্টেমের যে মূল উদ্দেশ্য (goal), সেখানেই সমস্যা।

রেজা কাজেম: আপনি ইসলামী উপায় ব্যবহারের কথা বলেছেন। তো, কেউ যদি ইসলামী উপায় অবলম্বন করে কিন্তু ইসলামী উদ্দেশ্য অর্জনের দিকে না যায়, তাহলে এই ব্যবস্থা দিয়ে আমাদের কী লাভ?

তারিক রমাদান: আসলেই তাই। আমরা আমাদের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছি। আসলে উপায় ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করার আগে উদ্দেশ্য ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ আপনি আসলে কী অর্জন করতে চাচ্ছেন? তথাকথিত ‘ইসলামিক বিজনেস’ বা ‘ইসলামিক কেয়ার এন্টারপ্রাইজ’ বা ‘ইসলামিক ব্যাংক’ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যদের চেয়ে যথাসম্ভব বেশি টাকা কামাতে চায়। তারা বলে, ‘দেখো, আমরা বেশি দক্ষ…।’ কিন্তু এটা কোনো যুক্তি নয়।

মূলকথা হলো, আপনার সিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দু কি মানবতার সেবা, নাকি মুনাফা কামানো? অথচ, এখন নিছক উপায় পরিবর্তন করে দিয়েই মুনাফাকে ইসলামীকরণ করা হচ্ছে! আপনি জানেন তারা এ ব্যাপারে কী বলে? তারা বলে, ‘না, এটা ‘রিবা’ নয়। এটা প্রশাসনিক ব্যয়।’ এমনটা বলা সঠিক নয়।

তাই, স্বয়ং সিস্টেম নিয়েই আমাদের গভীর চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমি মনে করি। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে হবে – যে কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সামগ্রিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত? তারপরই আমরা কেবল উপায় নিয়ে কথা বলতে পারি। উপায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

আমরা সবসময় রিবা ও ফটকাবাজির নিষিদ্ধতা এবং জাকাত, ওয়াকফ ও সমবায় নিয়ে কাজ করার কথা বলি। এ কারণেই আমরা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ব্যবসা করাকে উৎসাহিত করি।

তাই অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটা নৈতিক ভিত্তি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলতে বলেছিলেন। প্রথমত, পুরো প্রক্রিয়াটির সাথে যিনি জড়িত, তার উদ্দেশ্য ও ব্যবহৃত উপায়কে যাচাই করতে হবে। দুর্নীতি ও ফটকাবাজি না করে পণ্যটি বিক্রির ঝুঁকি নিতে হবে। এটা হলো শুরুর কথা। নয়া-উদারবাদ ব্যবস্থায় আমরা মুনাফার প্রতি যে বিকার লক্ষ্য করি, তা থাকা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, সকল উপায় হতে হবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে, যা আপনার পুঁজি ও অর্থকে পরিচালিত করবে। মানব কল্যাণভিত্তিক অর্থনৈতিক ভিশন থাকতে হবে। এটা হতে হবে এমন একটা কিছু, গরিবের অধিকার হবে যার কেন্দ্র। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এটা নেই। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা হচ্ছে ধনী ও ক্ষমতাবানদের অধিকারকেন্দ্রিক।

রেজা কাজেম: কিছু লোক হয়তো আপনার এইসব কথাকে খুবই চমৎকার, আদর্শবাদী ইত্যাদি ইত্যাদি বলবে। আপনি মূলত টাকা কামানোর উদ্দেশ্যকে সমালোচনা করেছেন। অথচ, যে কোনো ব্যবসা বা ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে ওঠার অন্যতম একটা উদ্দেশ্য হলো মুনাফা করা। নয়তো সেদিকে কেউ কেন যাবে?

তারিক রমাদান: হ্যাঁ, আপনার পয়েন্ট ঠিকই আছে। কিন্তু আমার কথা থেকে যদি এমনটা ধরে নেয়া হয়, তাহলে তা ভুল হবে। আমি এমনটা বুঝাতে চাইনি। মুনাফা করার অধিকার থাকার কথাই আমি বলেছি। কিন্তু আপনি কীভাবে মুনাফা করবেন, সেটা হলো বিবেচ্য বিষয়। উদ্দেশ্যকে বাদ দিয়ে শুধু উপায়কে গুরুত্ব দেয়ার প্রবণতাও পর্যালোচনার দাবি রাখে। আমার মূল কথা হলো ইসলামে মুনাফা অর্জনে কোনো নিষেধ নেই। কিন্তু উপায়কে উদ্দেশ্যে রূপান্তর করবেন না।

কেউ ধনী হওয়া মানে তিনি মন্দ লোক, আবার কেউ গরিব হলে তিনি ভালো – ব্যাপারটা এমন নয়। ইসলামে এ রকম কোনো ধারণা নেই। নৈতিকভাবে ভালো মানুষ হতে হলে আপনাকে অবশ্যই গরিব হতে হবে – এ ধরনের ধারণা মূলত খ্রিস্টান ট্র্যাডিশনে রয়েছে। ইসলাম এমনটা বলেনি।

কেউ ধনী হয়েও ভালো হতে পারে, আবার গরিব হয়েও মন্দ হতে পারে। এটা কোনো প্রসঙ্গ নয়। আসলে ব্যাপারটা নির্ভর করে ব্যক্তির নিয়ত, উপায় ও উদ্দেশ্যের উপর। আপনাকে নৈতিক জায়গা থেকে ব্যাপারটা বিবেচনা করতে হবে। তাই শুধু উপায়কে ইসলামীকরণ করবেন, আর উদ্দেশ্যকে পুঁজিতান্ত্রিকই রেখে দেবেন – তা যেন না হয়। আবার, উদ্দেশ্যকে নিছক আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামীকরণ করবেন, আর অনৈসলামী উপায় ব্যবহার করবেন – তাও যেন না হয়।

অথচ বর্তমান সমগ্র বিশ্বব্যবস্থাটিই চলছে এমন করে, যার অন্তর্গত বৈশিষ্ট্যকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই পর্যালোচনা করতে চাই। তাই ব্যাপারটাকে এতো সরলভাবে দেখা উচিত নয়। সত্য কথা হলো, অর্থব্যবস্থার ইসলামী প্রেক্ষিত নিয়ে আমরা সিরিয়াস হলে দেখবো, প্রচলিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই। আমাদের আছে কিছু মূলনীতি ও উদ্দেশ্য। কিন্তু এগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, আমরা তা জানি না। এক সাগর হারাম বা একটি হারাম ব্যবস্থার মধ্য থেকে কীভাবে হালাল মেকানিজম প্রয়োগ করা যায় – এ ধরনের ম্যানেজমেন্ট জাতীয় কিছু কাজ আমরা বর্তমানে করার চেষ্টা করছি মাত্র।

রেজা কাজেম: ইন্টারেস্টিং! হারামের সাগরের মধ্যে কয়েক ফোঁটা বা ছিটেফোঁটা মাত্র হালাল কিছু মিশ্রিত থাকা! – আপনি এমনটা বলছিলেন। কথাটি কি এমন – বিকল্প কোনো ইসলামী অর্থব্যবস্থা যদি আমাদের বাস্তবে না থাকে… সেক্ষেত্রে আমরা কী করবো?

তারিক রমাদান: হ্যাঁ, এটা একটা সমস্যা। বাস্তবে আসলে কী ঘটছে? প্রচলিত নয়া-উদারবাদী ব্যবস্থা দুনিয়ার মাত্র ১০ শতাংশেরও কম মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছে! এটাই বাস্তবতা। দুনিয়ার বাদবাকি মানুষ বর্তমানে এই ব্যবস্থার নীরব ভিকটিম। তারমানে ব্যবস্থাটি কাজ করছে না। এটি অন্যায় ও অনৈতিক।

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّـهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। (সূরা বাকারা: ২৭৮)

অর্থাৎ, এই ওহী মুসলমানদের কাছে পৌঁছার সাথে সাথে সমস্ত বকেয়া সুদ ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে।

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّـهِ وَرَسُولِهِ

অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। (সূরা বাকারা: ২৭৯)

আপনি যদি টাকা কামানোর স্বার্থে মানুষকে মেরে ফেলতে থাকেন, অর্থাৎ এই ব্যবস্থাকে জারি রাখেন তাহলে যুদ্ধের হুশিয়ারি দেয়া হচ্ছে। কারণ, এটা শুধু মানুষ মারার একটা হাতিয়ারই নয়, বরং যে কোনো প্রকার অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে মুনাফা অর্জনের জন্য।

তাই এ সম্পর্কে আমাদের ভাবতে হবে। আমরা চোখ বুজে বলে দিতে পারি না, ‘আপনি এ ব্যাপারে কদ্দুরই বা জানেন? আসলে এর কোনো বিকল্প নাই। দেখেন, মুক্তবাজারই হচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়।’ সাধারণত নব্য-উদারবাদপন্থীরা প্রচলিত ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে গিয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলে থাকে।

বিংশ শতাব্দীর আশির দশকের শেষ দিকে সর্বশেষ যে বিপর্যয়টা গেলো, তারপর আমরা স্টিগলিজ, জর্জ সরোসসহ কোনো কোনো অর্থনীতিবিদের কাছ থেকে শুনেছি, ‘আমাদের আসলে কী দরকার? আমাদের দরকার একটা নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ।’

অন্যদিকে আমি কোনো কোনো মুসলিম স্কলারের নিকট থেকে এমনটাও শুনেছি, ‘এটা তো ঠিক তা-ই, মুসলিম হিসেবে আমরা যা বলে আসছি। অর্থাৎ ইসলাম এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদকে প্রমোট করে।’

এটা সঠিক নয়। সম্ভাব্য সকল পন্থায় টাকা কামানো তথা মুনাফা করা যে ব্যবস্থার কেন্দ্র, তাকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। মুসলিম হিসেবে আমরা এটা করতে পারি না।

রেজা কাজেম: আমি কি অন্তত এই প্রশ্নটা করতে পারি, ইসলামিক ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম কেন চালু হচ্ছে না? এর কারণ হিসেবে আপনি হয়তো বলবেন – একটা মডেল তো আছে। এখন এর বাস্তবায়ন দরকার। প্রশ্ন হলো, কেন তা হচ্ছে না?

তারিক রমাদান: বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো গ্লোবাল ইকনমিক সিস্টেমের সাথে সম্পৃক্ হওয়ায় এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে আমি মনে করি। তারা এ থেকে ফিরে আসতে চায় না, যদিও তারা যথেষ্ট ধনী। উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে তাকান, আফ্রিকার দিকে তাকান – আমরা যথেষ্ট ধনী। হ্যাঁ, আফ্রিকা! সমস্ত ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ সেখানে ছিল। কিন্তু উপনিবেশবাদের কারণে তাদের সবই চুরি হয়ে গেছে। উপনিবেশবাদ আজো বিদ্যমান। রাজনৈতিক উপনিবেশবাদ না থাকলেও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ এখনো আছে। এটা একটা বাস্তবতা। কিন্তু উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো তেল, গ্যাস ও অর্থবিত্ত নিয়ে যা করছে, সেগুলো দেখার পর আমরা শুধু অন্যদেরকেই দোষারোপ করতে পারি না। এসব দেশের সম্পদ বিশ্বের বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্র ও বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন। তারা এগুলো তাদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করছে।

দিন শেষে আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা দরকার – আমরা কি সত্যিই একটা বিকল্প চাই? যদি চাই, তাহলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিভাষার জায়গা থেকে ইসলাম সম্পর্কে আমাদের কথা বলতে হবে। বিকল্প তৈরি করার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলা শুরু না করে গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে অর্থনীতির মাধ্যমে। গরিবের অধিকার, জাকাত, মুনাফার নিয়ন্ত্রণ – এইসব আমরা কীভাবে ডিল করছি, তার উপর সামাজিক ন্যায়বিচার নির্ভর করছে। হ্যাঁ, আপনি মুনাফা করতে পারেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হতে পারেন; কিন্তু মানুষকে শোষণ করা আপনার লক্ষ্য হতে পারবে না, টাকা কামানোর জন্য মানুষকে মেরে ফেলা যাবে না। বর্তমানে তো তাই ঘটছে।

রেজা কাজেম: অমুক ব্যবসার অনুমোদন নেই কিংবা অমুক ব্যবসা করা যাবে বা করা গেলেও কিছুটা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হয় – এই সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নির্ধারিত হয়? প্রশ্নটা এ জন্যই করলাম, আপনি ইতোপূর্বে এ সম্পর্কিত কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন।

তারিক রমাদান: ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুই অনুমোদিত নয়। যেমন – অ্যালকোহলের সাথে সম্পর্কিত যে কোনো ব্যবসাকে বর্জন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে সুদ ও ফটকাবাজি বর্জন করতে হবে। আপনি যদি ফটকাবাজি করেন, তাহলে এর একটা সম্ভাব্য মানে হতে পারে – আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে আফ্রিকার মানুষ বেঁচে থাকবে কি থাকবে না, সে সম্পকির্ত সিদ্ধান্ত আপনি নিবেন। তারপর সে অনুযায়ী আপনার পণ্য মজুদের হিসাব-নিকাশ করবেন। ইসলামে এ ধরনের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি এতে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। কারণ, মানুষের জীবন নিয়ে এ ধরনের ফটকাবাজি করা অন্যায়। তাই ফটকাবাজিকে নিষিদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আরেকটু গভীরে যাওয়া যাক। আপনি জানেন, আমি পাশ্চাত্যে বাস করি এবং আমি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলমান। আমি যথাসম্ভব ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি বলতে চাই, অ্যালকোহলমুক্ত যে কোনো ধরনের ড্রিংকস হালাল হওয়া সত্বেও আমি সেগুলো বর্জনের চেষ্টা করি। কারণ, পানীয় পানের আমাদের যে সংস্কৃতি, তার বিরুদ্ধে এই বহুজাতিক করপোরেশনগুলো আগ্রাসন চালাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আপনি আফ্রিকান দেশগুলোতে যান। তারা যা পান করছে তার সবই বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর পণ্য। আমি এগুলো বর্জনের পক্ষে। এগুলো পান করাকে আমি উচিত মনে করি না।

তারমানে হলো, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়কে ডিল করার জন্য ইকোনমিই একমাত্র উপায় নয়। আপনি কী খাচ্ছেন, কী পান করছেন এবং কীভাবে করছেন, তাও বিবেচ্য বিষয়। আফ্রিকা, গ্লোবাল সাউথ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার লোকেরা বহুজাতিক কোম্পানির সফট ড্রিংকস পানের চেয়ে বেশি করে স্থানীয় পানীয় পান করুক, এটাই আমি চাইবো। আমার কথা হলো, অ্যালকোহল এবং এ জাতীয় যেসব বিষয়কে কোরআনে হারাম বলা হয়েছে সেগুলো তো নিশ্চয়ই হারাম। কিন্তু কোরআনের বাইরেও আমাদেরকে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। কিছু কিছু ড্রিংকস আমাদেরকে বর্জন করতে হবে। যেমন – কোনো কোনো স্কলার ধূমপান সম্পর্কে খুব পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। তারা একে মাকরুহ তথা অপছন্দনীয় কাজ বলে অভিহিত করেছেন। এটাও আপনাকে বর্জন করতে হবে। একজন মুসলিম স্কলার হিসেবে আমার বক্তব্য হলো – এমন কোনো কিছুর পেছনে আপনি অর্থ খরচ করতে পারেন না, যা আপনার স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয়। অথচ অনেক মানুষ খাবার কিনতে পারছে না! তাই এটা আমার বর্জন করা উচিত। এর সাথে সম্পর্কিত কোনো কিছুর সাথেই জড়িত হওয়া যাবে না।

রেজা কাজেম: ইন্টারেস্টিং! সর্বশেষ অস্ত্র নিয়ে কিছু বলুন। ব্যাংকিং সিস্টেম দিন দিন এক ধরনের অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংক্ষেপে কিছু বলুন।  

তারিক রমাদান: হ্যাঁ, প্রয়োজনে নিজেকে রক্ষা করা কিংবা প্রতিরোধের জন্য আমরা অস্ত্র ব্যবহার করতেই পারি। কিন্তু তার আগে আমাদেরকে বৈশ্বিক ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। যেমন – পারমাণবিক অস্ত্র এবং এ জাতীয় অন্যান্য অস্ত্র। আমরা একটা নৈতিক প্রশ্ন তুলতে পারি – অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের সীমারেখা কী? প্রশ্নটা এ জন্যই যে, এটি মানুষ হত্যা করছে। এ বিষয়ে আলোচনা করা মুসলিম হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা এখনো এ ব্যাপারে যথেষ্ট আলোচনা করিনি। আমরা খুবই পিছিয়ে রয়েছি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা এক ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকায় আমাদের নৈতিক উদ্দেশ্য থেকে আমরা মাঝেমধ্যে সরে যাচ্ছি।

রেজা কাজেম: পুঁজিবাদী কাঠামোর বিকল্প হিসেবে একটি নির্ভরযোগ্য ও টেকসই ইসলামী বিকল্প কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে এতক্ষণ কথা হচ্ছিল। এমন কোনো ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম গড়ে তোলা কি সম্ভব, যা মুসলমানদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে সাহায্য করবে এবং আল্লাহর সৃষ্টিকূলের সেবা করায় সহায়ক হবে? আরো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে – মুসলমানরা এ রকম কিছু করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বাধ্য। সময় প্রায় শেষ। এ বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য তারিক রমাদানকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা যারা ঘরে বসে অনুষ্ঠানটি দেখছেন, তাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন:

১। ইসলামিক ফাইন্যান্স: মিথ নাকি বাস্তবতা?

২। হালাল হলেই কি ইসলামিক হবে? ইসলামী নৈতিক চেতনার গুরুত্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *