'রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক' বইয়ের ধারাবাহিক অনুবাদ: শেষ পর্ব

রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক: সারসংক্ষেপ ও উপসংহার

[এডিটর’স নোট: রাসূলের (সা) যুগে মসজিদে প্রবেশাধিকার ও মসজিদকেন্দ্রিক নানা ধরনের ভূমিকা পালনের সুযোগ নারীদের ছিলো, যা বর্তমানে মুসলিম সমাজ থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে। ‘Reclaiming the Mosque: The Role of Women in Islam’s House of Worship’ শীর্ষক বইটিতে ড. জাসের আওদা ইসলামের সোনালী যুগের সেই চিত্রটি দলীল-প্রমাণের সাহায্যে তুলে ধরেছেন। নারীদেরকে মসজিদে যেতে না দেওয়ার পক্ষে ফিকহী ব্যাখ্যাসমূহের সীমাবদ্ধতাগুলো তিনি একে একে দেখিয়ে দিয়েছেন। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বইটি ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করছেন জোবায়ের আল মাহমুদ। যথাযথ সম্পাদনার পর আমরা একটি করে পর্ব পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছি। আজ প্রকাশ করা হলো সর্বশেষ পর্ব। সবগুলো পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে।]

*****

সারসংক্ষেপ

এই বইটিতে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলোর একটি সারসংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো:

১। দুনিয়া জুড়েই মসজিদে নারীদের উপস্থিতির সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। কোথাও কোথাও তাদের মসজিদে আসার সুযোগ থাকলেও ‌‘দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা’ দেওয়া হয়।

২। যে মসজিদ যত বেশি নারীবান্ধব, সে মসজিদে সমাজসেবা কার্যক্রম, আন্তঃধর্মীয় বৈঠক এবং শিশু ও তরুণদের অংশগ্রহণ তত বেশি।

৩। শুধু নারীদের জন্য মসজিদ প্রতিষ্ঠা একটি অস্থায়ী সমাধান। এখনকার মসজিদগুলোতে নারীদেরকে কোণঠাসা করে রাখার বিরুদ্ধে এটি এক ধরনের প্রতিবাদ বটে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এসব মসজিদ আমাদের সমাজে আরো বেশি বিভক্তি তৈরি করবে।

৪। ইসলাম হলো এমন এক ধর্ম, যেখানে নারীরা সমাদৃত নয় এবং নারীদের সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয় না— মসজিদে নারীদেরকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার কারণে অমুসলিমরা যখন ইসলাম সম্পর্কে এমন ভুল ধারণা পোষণ করে, তখন তাদেরকে দোষ দেওয়া যায় না।

৫। কোনো বিষয়কে ‘ইসলামী’ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার আগে ‘ইসলামী’ বলতে আসলে কী বুঝায়, তা বুঝে নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের প্রাথমিক উৎস হলো আল্লাহর বাণী তথা কোরআন এবং দ্বিতীয় মৌলিক উৎস হলো রাসূলের (সা) সুন্নাহ। কোনটি ‌‘ইসলামিক’, তা বুঝার জন্য এ দুটো উৎসই কেবল প্রকৃত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

৬। কোরআন ও সুন্নাহর অনেক সূত্রে বলা হয়েছে, কেউ যেন কাউকে ‌‘অন্ধ অনুসরণ’ না করে। ফলে কোনো ফকীহ বা মাযহাবের অন্ধ-অনুসরণ করারও কোনো সুযোগ নাই।

৭। মানুষের কথাবার্তা বা সাহিত্যের মতো কোরআন ও রাসূলের (সা) সুন্নাহ কোনো ‘সাংস্কৃতিক পণ্য’ (cultural products) বা নিছক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মাত্র নয়। কোরআন ও সুন্নাহ হলো শাশ্বত ও সর্বজনীন ঐশী জ্ঞান।

৮। কোরআনে মসজিদ সম্পর্কিত কয়েক ডজন আয়াত আছে। সব আয়াতেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হেদায়াত, নূর ও জ্ঞান অন্বেষী সকল ঈমানদারকে নিয়মিত মসজিদে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯। নারী বা পুরুষ কাউকে মসজিদে আসতে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে কোরআনে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

১০। রাসূলের (সা) যুগে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে মসজিদে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যেতো। মহানবীর (সা) সুন্নাহ থেকে এ সম্পর্কিত শতাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়।

১১। নারীদের মসজিদে প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়ার প্রচলিত প্রথা উঠিয়ে দিতে হবে। নারীদেরকে মসজিদে যেতে এবং মসজিদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।

১২। রাসূল (সা) কর্তৃক উম্মে হুমাইদকে ঘরে নামায পড়ার উপদেশ দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো: মসজিদে নামায পড়া নিয়ে উম্মে হুমাইদ ও তাঁর স্বামীর মাঝে সৃষ্ট দাম্পত্য সমস্যা মেটানো। এই হাদীসকে ভিত্তি করে সকল নারীকে ঘরে নামায পড়তে রাসূল (সা) বলেছেন মর্মে যে দাবি করা হয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

১৩। “কোনো নারীর উচিত নয় পুরুষকে দেখা এবং কোনো পুরুষেরও উচিত নয় নারীকে দেখা”, “নামাযরত পুরুষের সামনে দিয়ে নারী, কুকুর, বা গাধা হেঁটে গেলে নামায ভেঙ্গে যাবে”, “তোমাদের নারী ও গৃহ তোমাদের জন্য অশুভ”, ‍“জাহান্নামের অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী”— হাদীসশাস্ত্র পর্যালোচনার মূলনীতির আলোকে যাচাই করলে দেখা যায়, এই হাদীসগুলো নির্ভরযোগ্য নয়।

১৪। রাসূলের (সা) যুগে নারী-পুরুষ সবার জন্য মসজিদে নববীর দ্বার উন্মুক্ত ছিলো। তা সত্ত্বেও মসজিদের মাঝখানে কোনো ধরনের পার্টিশন, দেওয়াল বা পর্দা ছিলো না।

১৫। তখনকার প্রচলিত সুন্নাহ অনুযায়ী, রাসূলের (সা) ঠিক পেছনে থাকতো পুরুষদের প্রথম কাতার। নারীদের কাতার শুরু হতো মসজিদের পেছন থেকে। এভাবে একের পর এক কাতার পূরণ হতো। আর নারী ও পুরুষদের মাঝখানে থাকতো শিশুদের কাতার।

১৬। খুতবা দেওয়ার সময় নারী মুসল্লীরা ইমামকে দেখতে পারলে মনোযোগ ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

১৭। মসজিদে ‌নারীদের জন্য সংরক্ষিত প্রবেশদ্বারের প্রচলন হয়েছে রাসূলের (সা) যুগের অনেক পরে। কেবল পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত দরজা, যেটি দিয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ— এ ধরনের কোনো কিছু রাসূলের (সা) সুন্নাহ কিংবা সাহাবীদের যুগে থাকার প্রমাণ নেই।

১৮। নামাযরত অবস্থায় রাসূলের (সা) কোলে-পিঠে শিশুদের চড়ে বসাটা ছিলো স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি নামাযরত অবস্থায় তিনি শিশুদেরকে নামাযের নিয়ম-কানুনগুলো দেখিয়ে দিতেন।

১৯। শিশুদেরকে, বিশেষত নারীদেরকে মসজিদে আসতে বাধা দেওয়াটা কোরআনের শিক্ষা এবং রাসূলের (সা) সুন্নাহর বিপরীত।

২০। রাসূলের (সা) যুগে মসজিদে নারী-পুরুষের মাঝে সাধারণ কথাবার্তা হতো। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তারা কথাবার্তা বলতেন।

২১। কিছু পুরুষ যখন মসজিদে নববীতে শিষ্টাচারবিরুদ্ধ আচরণ করেছে, তখন তাদেরকেই দায়ী করা হয়েছে এবং উপদেশ দেওয়া হয়েছে। হাদীসের এমন কোনো বর্ণনা নেই, যেখানে নারীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের সীমালঙ্ঘনমূলক কাজ নারী-পুরুষের স্বাভাবিক কথাবার্তা বলার রীতির ক্ষেত্রে যেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি, তেমনি মুসল্লীদের একোমোডেশনেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

২২। পাবলিক প্লেসে এবং মসজিদে বা নামায আদায়ের সময় পোশাকের কোনো পার্থক্য আছে বলে রাসূলের (সা) সুন্নাহ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় না।

২৩। স্বয়ং রাসূল (সা) বিভিন্ন সময় নারী সাহাবীদেরকে পরিপাটি থাকতে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতে বলেছেন। তবে অতিরিক্ত সাজসজ্জা বা পারফিউম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বলাবাহুল্য।

২৪। যদিও সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, নারীদের জুমার নামায জামায়াতে আদায়ের বাধ্যবাধকতা নেই। তারপরও সম্ভব হলে নারীদের জুমার নামাযে অংশগ্রহণ করা উচিত।

২৫। আল্লাহ তায়ালা অমুসলিমদেরকে কোরআন ধরতে বা তাঁর বাণী পড়তে নিষেধ করেননি, এটি নিঃসন্দেহ। বরং তাদের উদ্দেশ্যেই শুরুতে কোরআন নাযিল করা হয়েছিলো।

২৬। রাসূলের (সা) যুগে অন্য ধর্মের নারী-পুরুষদের সাথে মতবিনিময়ের জন্য উন্মুক্ত স্থান ছিলো মসজিদে নববী।

২৭। ঋতুমতী নারী বা গোসল ফরজ হওয়া পুরুষের মসজিদে যেতে বা কোরআন পড়তে কোনো বাধা নেই।

২৮। কোনো ঋতুমতী নারী হজ্জ চলাকালে যদি হজ্জের পুরো মওসুম, অথবা তাওয়াফে বিদার সময় পর্যন্ত মক্কায় থাকতে না পারে, তাহলে তার জন্য তাওয়াফ করে ফেলার অনুমতি রয়েছে।

২৯। রাসূলের (সা) যুগে মসজিদভিত্তিক সকল সামাজিক কাজকর্মে নারীরা অংশগ্রহণ করতেন।

৩০। নারীরা মসজিদে দান করলেও মসজিদকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার পায় না, যা অন্যায়। ইসলাম এটি সমর্থন করে না।

৩১। রমজান বা অন্যান্য মাসে নারীদের মসজিদে এতেকাফ করার অনুমতির পক্ষে রাসূলের (সা) যুগ হতে যথেষ্ট দলীল রয়েছে।

৩২। রাসূলের (সা) যুগ পরবর্তীকালে পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য এমনকি হাদীসশাস্ত্রের পুরুষ স্কলারগণও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নারী স্কলারদের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতেন।

৩৩। ইতিহাসে দেখা যায়— ইসলামী জ্ঞানজগতে, বিশেষত মসজিদে, নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ফলে ইসলামী সভ্যতা এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চার সকল ধারা সমৃদ্ধ হয়েছে।

৩৪। নারীদের জামায়াতে নারীর ইমামতি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে পুরুষদের জামায়াতে নারীর ইমামতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। ঘরোয়া মসজিদ ও পারিবারিক পর্যায়ে পুরুষদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জামায়াতে নারীর ইমামতি করার অনুমোদন না থাকার পক্ষে আমার অবস্থান।

৩৫। কোরআনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের যেসব দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে নবী-রাসূলদের বাইরে সাবার রানী বিলকিস হলো একমাত্র উদাহরণ, যা ইতিবাচক অর্থে বর্ণিত হয়েছে।

৩৬। নারী নেতৃত্বের উপর ইসলামের কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

উপসংহার

নারীদের মর্যাদা ও অধিকারকে যদি ‌‘নারীবাদ’ বলা হয়, তাহলে মানব ইতিহাসে প্রথম নারীবাদী আন্দোলন হিসেবে ইসলামকে বিবেচনা করা উচিত। রাসূলের (সা) নারী সাহাবীগণ মসজিদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাজারে ব্যবসা করেছেন, কোরআন শিখেছেন এবং শিখিয়েছেন, রাসূলের (সা) হাদীস বর্ণনা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, অনুদানের অর্থ সংগ্রহ করেছেন, নিজের পছন্দে বিয়ে করেছেন, বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করেছেন। কিন্তু ইসলামের সোনালী যুগের পরে নারীদের সাথে সম্মান এবং ন্যায্য আচরণ করার ক্ষেত্রে মুসলমানরা রাসূলের (সা) সুন্নাহ থেকে সরে গেছে। এবং অনেক মুসলিম সমাজ পূর্বেকার জাহেলী যুগে ফিরে গেছে। মসজিদে নারীদের যে অবস্থান ও ভূমিকা ছিলো, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা তথা রিক্লেইম করার মাধ্যমে ইসলামী আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি আহ্বান হলো এই বই।

নারীরা যদি মসজিদে ফিরে আসে এবং মসজিদভিত্তিক সমস্ত কার্যক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালনের সুযোগ পায়, তাহলে দুনিয়াতে ইসলাম একটি ভিন্নতর অবস্থানে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এই বইটিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যাতে করে আমরা সেদিকে অগ্রসর হতে পারি। আমরা বেশ কিছু ভুল ফিকহী ব্যাখ্যা জেনে এসেছি, যেগুলো জনজীবনে, বিশেষত মসজিদে, নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। এসব ফিকহী প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। মুসলিম সমাজে সামগ্রিকভাবে যে মানসিক ব্যাধি সামাজিক অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তা সারানোর আসল দাওয়াই হলো এই ভুল ব্যাখ্যাগুলো সংশোধন করা।

সর্বোপরি কথা হলো, মসজিদে নারীদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নারীরা নিজেরা যদি সচেষ্ট না হয়, তাহলে এর বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে আমার ধারণা। নারীদের অধিকারে বিশ্বাস করে এবং বাস্তবে তা প্রদান করে, এমন পুরুষের সংখ্যা খুব কম। বিভিন্ন দেশের ফতোয়া কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট ফোরামগুলোতে এ ধরনের মধ্যপন্থী পুরুষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে না। ফলে নারীদের উচিত হবে না পুরুষদের জন্য বসে থাকা। বরং তাদের জন্য জরুরি হলো অধিকার আদায়ের জন্য স্বতন্ত্র সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

কয়েক মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান মসজিদে আমার একটি বক্তব্য অনুষ্ঠান ছিলো। সেখানে অংশ নিতে গিয়ে একদল নারী বাধাপ্রাপ্ত হয়। যেসব তরুণ তাদেরকে বাধা দিচ্ছিলো, আমার অনুরোধেও তারা তেমন কর্ণপাত করছিলো না। তখন উপস্থিত নারীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলো, তাতে আমি চমৎকৃত হয়েছি। প্রথমে তারা মসজিদের সামনের দরজায় জড়ো হয়। তারপর ভেতরে ঢোকার জন্য জোর করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা মসজিদে প্রবেশ করে, নামায আদায় করে, বক্তব্য শুনতে বসে এবং নানান ধরনের প্রশ্ন করে। তারা একটি নজির স্থাপন করেছে, একটি অন্যায্য প্রতিবন্ধকতা ভেঙে ফেলেছে। এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। এভাবেই পরিবর্তন ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।

[মূল: ড. জাসের আওদা, অনুবাদ: জোবায়ের আল মাহমুদ]

***

অন্যান্য পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পূর্ববর্তী আর্টিকেলআধুনিক কালের সংকট
পরবর্তী আর্টিকেলইসলাম ও প্লুরালিস্ট সংস্কৃতি
জাসের আওদাhttp://www.jasserauda.net
মাকাসিদে শরীয়াহর উপর একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। ‘মাকাসিদ ইনস্টিটিউট গ্লোবাল’ নামক একটি থিংকট্যাংকের প্রেসিডেন্ট। ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা, দ্য ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফতওয়া এবং ফিকহ একাডেমি অব ইন্ডিয়ার সদস্য। পড়াশোনা করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে ইসলামী আইন ও সিস্টেম অ্যানালাইসিসের উপর দুটি পিএইচডি করেছেন। বিভিন্ন দেশের বেশ কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। আরবী ও ইংরেজিতে প্রায় ২৫টি বইয়ের লেখক।

সাম্প্রতিক

এ ধরনের আরো নিবন্ধ