কিছু হাদীসের বর্ণনায় দেখা যায়, সেগুলোতে নারীদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এসব বর্ণনা বেশ জনপ্রিয়। বিশেষত মসজিদে নারীদের ভূমিকার উপর এই সন্দেহজনক বর্ণনাগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা হোক, এই বর্ণনাগুলো নারীদের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কিত কোরআনের মূলনীতিরও বিপরীত। এছাড়া এসব বর্ণনা অসংখ্য শক্তিশালী হাদীসেরও বিপরীত, যেসব বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে, রাসূল (সা) নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করেছেন এবং তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা সহকারে মূল্যায়ন করেছেন। আমরা এমন কিছু বর্ণনা এখন তুলে ধরবো, যেগুলোতে রাসূলকে (সা) হয় ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে, নয়তো হাদীসের প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত অর্থ বাদ দিয়ে ভুল ব্যাখা দেয়া হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে একটি বর্ণনার কথা বলা যায়, যেখানে দাবি করা হয়েছে– মসজিদের ভেতর নামাজরত কোনো পুরুষের সামনে দিয়ে একজন নারী হেঁটে গেলে পুরুষটির নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। মসজিদের একই ফ্লোরে নারী-পুরুষের নামাজ আদায়ের বিপক্ষে যেসব আপত্তি তোলা হয়, সেগুলোর একটি অন্যতম ভিত্তি হলো এই বর্ণনাটি। এমনকি কোনো কোনো ফকীহ মনে করেন– নামাজরত অবস্থায় সামনে দিয়ে কোনো নারীকে হেঁটে যেতে দেখলে সংশ্লিষ্ট পুরুষকে নামাজ ছেড়ে দিয়ে নতুন করে শুরু করতে হবে।[1]

আবু হোরায়রার (রা) সূত্রে ইমাম মুসলিম ও আহমদ বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা) বলেছেন – “নামাজরত কোনো ব্যক্তির সামনে দিয়ে নারী, গাধা, কিংবা কুকুর চলাচল করলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়।”[2] বাস্তবতা হলো, এই বর্ণনাটি মসজিদে নববী সম্পর্কিত অসংখ্য সহীহ হাদীসের বিপক্ষে যায়। এমনকি, সম্পূর্ণ বিপরীত বর্ণনাগুলোর কোনো কোনোটির বর্ণনাকারী স্বয়ং আবু হোরায়রা (রা)।

যেমন, আবু হোরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল (স) বলেছেন– “নারী, গাধা ও কুকুরের কারণে নামাজ ভঙ্গ হয় না। নামাজরত অবস্থায় একদম সামনে দিয়ে কোনো কিছু গেলে হাত দিয়ে দূরে সরিয়ে দেবে।”[3] দুটি ‘সহীহ’ হাদীসের মধ্যে এ ধরনের বৈপরীত্যের সহজ মানে হলো, দুটি হাদীসের কোনো একটির মধ্যে ভুল আছে।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত অন্য কিছু হাদীস আমরা পাই, যেখানে তিনি এখানে উল্লেখিত আবু হোরায়রার (রা) প্রথম বর্ণনাটিকে ভুল হিসাবে সমালোচনা করেছেন। যেমন–

আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমাইর (রা) বর্ণনা করেন– নামাজের সামনে দিয়ে কুকুর, নারী ও গাধা যাতায়াত করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত বর্ণনা সম্পর্কে আয়েশাকে (রা) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “তোমরা কি এই প্রাণীগুলোর সাথে মুসলিম নারীদের তুলনা করো?” আরেক বর্ণনা অনুযায়ী তিনি বলেছেন, “তোমরা কীভাবে গাধা ও কুকুরের সাথে আমাদেরকে তুলনা করলে?” তৃতীয় বর্ণনায় তিনি বলেছেন, “আমি ঘুম থেকে জেগে ওঠে দেখতাম রাসূলুল্লাহ (সা) নামাজ আদায় করছেন, আর আমি রাসূলুল্লাহ (সা) ও কেবলার মাঝখানে জানাযার নামাজের লাশের মতো শুয়ে আছি।”[4]

আবু হোরায়রার প্রথম বর্ণনাটিকে ইমাম শাফেয়ী অশুদ্ধ আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বর্ণনাটির ব্যাপারে আয়েশার (রা) আপত্তির উপর ভিত্তি করে বলেছেন– “যেহেতু নামাজরত ব্যক্তির সামনে কোনো নারী উপস্থিত থাকলে নামাজ ভঙ্গ হয় না, সেহেতু নামাজের সামনে দিয়ে কোনো নারী হেঁটে গেলেও নামাজ ভঙ্গ হবে না।”[5] মোহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানীও এই বর্ণনাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এর মানে হলো, নামাজরত ব্যক্তির সামনে বা পাশে তাঁর স্ত্রী শুয়ে থাকুক, দাঁড়িয়ে থাকুক, কিংবা বসে থাকুক, তাতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না।[6]

এ বিষয়ে সাহাবীদের আমল থাকা সত্ত্বেও দুটি বিপরীতমুখী বর্ণনা থাকার বিষয়টি খেয়াল করে আবু দাউদ বলেছেন, “রাসূলের (সা) দুটি হাদীস সাংঘর্ষিক হলে সাহাবীরা যেটি আমল করেছেন, আমাদেরকে সেটি বিবেচনায় নেয়া উচিত।”[7] সাহাবীদের প্রতিষ্ঠিত আমল বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, নারী-পুরুষ উভয়ে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় কেউ কারো সামনে দিয়ে হেঁটে গেলে সাহাবীগণ কখনোই কোনো আপত্তি করেননি।

এ ধরনের আরেকটি জনপ্রিয় কিন্তু ভুল বর্ণনা আবু হোরায়রার (রা) সূত্রে বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে। আবু হোরায়রা (রা) বর্ণনা করেছেন– “নারী, বাড়িঘর এবং ঘোড়ার মধ্যে অশুভ ব্যাপার রয়েছে।”[8] অনেক হাদীস ব্যাখ্যাকারের মতে– এ হাদীসটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে, মসজিদ থেকে কারো বাসস্থান বেশ দূরে হলে, কিংবা কারো স্ত্রী বন্ধ্যা হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর অশুভ প্রভাব পড়তে পারে।[9]

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, অতীত ও বর্তমানের অনেক ফকীহ এই হাদীসটিকে গ্রহণ করেছেন কেবল এ জন্যে যে, হাদীসটি বুখারীতে রয়েছে। অথচ, বুখারী নিজেই একই গ্রন্থের অন্য একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, “অশুভ বলে এ ধরনের কোনো কিছু নেই।”[10]

এছাড়া আবু হোরায়রার (রা) এই বর্ণনাটি সম্পর্কে আয়েশা (রা) মন্তব্য করেছেন, “আবু হোরায়রা হাদীসটি সঠিকভাবে স্মরণ করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে, নারী, বাড়িঘর ও ঘোড়ার মাঝে অশুভ ব্যাপার রয়েছে বলে যারা দাবি করে, তাদের ব্যাপারে রাসূল (সা) বদদোয়া করছিলেন। আবু হোরায়রা (রা) বেশ পরে এসেছিলেন। তাই তিনি হাদীসটির প্রথম অংশ শুনতে পাননি, কেবল শেষের অংশ শুনেছেন।[11]

হাদীস শাস্ত্রের দিক থেকে দেখলে, আয়েশা (রা) আবু হোরায়রার (রা) হাদীসটি বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতায় (সনদ) ত্রুটি থাকার কারণে বাতিল করেননি, বরং হাদীসটির বক্তব্যের (মতন) দুর্বলতার কারণে বর্জন করেছেন। আবু হোরায়রা (রা) নিশ্চয় একজন বড় মাপের সাহাবী, কিন্তু এ হাদীসটিতে তিনি ভুল করে ফেলেছেন। বাহ্যত, তিনি রাসূলের (সা) সম্পূর্ণ বক্তব্যটি শুনেননি, কিন্তু তাঁর মনে হয়েছে, তিনি সম্পূর্ণটা শুনেছেন।[12] তবে আশ্চর্যজনক ব্যাপারে হলো ইমাম ইবনুল জাওযী এ ব্যাপারে ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “আয়েশা (রা) কীভাবে একটা সহীহ বর্ণনাকে বাতিল করে দিলেন?” ইবনুল আরাবীর (সুফী ইবনুল আরাবী নন) মন্তব্য আরো আপত্তিকর। তিনি বলেন, “আবু হোরায়রার (রা) বর্ণনাটি আয়েশার (রা) বাতিল করে দেয়াটা নির্বুদ্ধিতা।”[13] আমার মতে, এই উদ্ভট বর্ণনাটির ব্যাপারে উম্মুল মুমিনীন আয়েশার (রা) মূল্যায়নটি যেন গ্রহণ করতে না হয়, সে জন্যে ইবনুল জাওযী এবং ইবনুল আরাবী চোখ বুঁজে থাকার ভান ধরেছিলেন। অন্যদিকে, বদরুদ্দীন জারকাশী এবং জালালুদ্দীন সুয়ুতীর মতো ফকীহগণ আয়েশার (রা) বক্তব্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আয়েশা (রা) কর্তৃক সাহাবীদের বিভিন্ন বর্ণনার সমালোচনা এবং সংশোধনীগুলো নিয়ে তাঁরা দুজনেই আলাদাভাবে কিতাব রচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট কিতাবগুলোতে তারা ‘অশুভ ব্যাপার’ সম্পর্কিত এই বর্ণনাটিসহ আয়েশা (রা) কর্তৃক এ ধরনের কয়েক ডজন সংশোধনীর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।[14]

আমাদের তৃতীয় উদাহরণটি হলো একটি হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা সম্পর্কিত। নারীদেরকে মসজিদে যেতে নিরুৎসাহিত করার জন্য এটি প্রায়ই উদ্ধৃত করা হয়। আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত সেই হাদীসটি হলো–

“আমি রাসূলকে (সা) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন– পুরুষদের জন্যে সর্বোত্তম কাতার হলো সামনের কাতার এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো পেছনের কাতার। অন্যদিকে, নারীদের জন্যে সর্বোত্তম হলো পেছনের কাতার এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো সামনের কাতার।[15]

এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে কেউ কেউ নারীদেরকে মসজিদে নামাজ পড়তেই নিষেধ করেন, কিংবা তাদেরকে একটা কক্ষে বিচ্ছিন্ন করে রাখেন, কিংবা নারীদেরকে মসজিদের পেছনে পাঠিয়ে দেন। এই হাদীসটির ব্যাপারে তাদের ব্যাখ্যা হলো, কোনো নারী যদি কোনো না কোনোভাবে মসজিদের সামনের কাতারে নামাজ আদায় করে ফেলে, তাহলে সে আসলে গুনাহর কাজ করে; কারণ, নারীদের সামনের কাতার হলো ‘সবচেয়ে মন্দ কাতার’।

এই ব্যাখ্যাটি অদ্ভুত। পুরুষদের জন্য সামনের কাতার ও নারীদের জন্য পেছনের কাতারকে অগ্রাধিকার দেয়া ছাড়া এই হাদীসের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় বিবেচনায় এই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিলো:

১) পুরুষদের সামনের কাতার এবং নারীদের পিছনের কাতার কেবল তারাই পূর্ণ করবে, যারা মসজিদে আগে আসবে। এটি অত্যন্ত সুপরিচিত একটি সদাচারণ। মসজিদে নববী কীভাবে ডিজাইন করা হয়েছিলো এবং তখন কীভাবে নামাজের কাতার পূর্ণ করা হতো, পরবর্তী দুই অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হবে।

২) পুরুষ ও নারীদের দুটি কাতার মসজিদের বিপরীতমুখী দুই দেয়ালের দিকে থাকলে মসজিদের মাঝখানটা ফাঁকা থাকে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় না। এতে মুসল্লীদের সুবিধা হয়। নিরবচ্ছিন্ন ও একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করা যায়।

৩) এই নির্দেশনাটির সাথে এ সংক্রান্ত অন্যান্য হাদীসেরও মিল রয়েছে, যেখানে রাসূল (সা) নারীদেরকে পুরুষদের আগে সেজদা থেকে মাথা তুলতে নিষেধ করেছিলেন। এর কারণে ছিলো পুরুষরা যেন আগে দাঁড়িয়ে নিজেদের কাপড় ঠিক করার জন্যে যথেষ্ট সময় পায়। তখন মুসলমানদের আর্থিক দৈন্যতা এতটাই প্রকট ছিলো যে, সেজদায় নিজেদেরকে ঢেকে রাখার মতো লম্বা কাপড় সব সাহাবীর ছিলো না। আসমা (রা) বর্ণনা করেন– “আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে নারী আল্লাহ তায়ালা ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন পুরুষদের মাথা তোলার আগে সেজদা থেকে মাথা না তোলে।’ অন্যথায়, পুরুষ সাহাবীদের পোশাক ছোট হবার কারণে নারীরা তাঁদের সতর দেখে ফেলার আশংকা ছিলো।”[16]

এ ধরনের একটি ঘটনা আমর ইবনে সালামাহ (রা) বর্ণনা করেছেন–

“কিছু সাহাবী নামাজে ইমামতি করার জন্যে কাউকে খুঁজছিলেন। কিন্তু আমার চেয়ে কোরআন বেশি জানা কাউকে পাওয়া গেলো না। এর কারণ হলো, কোনো কাফেলার সাথে সফরে থাকলেও কোরআন মুখস্ত করার অভ্যাসটি আমি ছাড়তাম না। ফলে তারা আমাকেই ইমামতি করতে বললেন। তখন আমি ছিলাম মাত্র ৬/৭ বছরের এক বালক। আমার পরনে ছিলো একটা বুরদাহ (কালো রঙয়ের চারকোন আকৃতির একটি কাপড়)। এটি এতটাই ছোট ছিলো যে সেজদায় গেলে আমার শরীর অনাবৃত হয়ে পড়তো। তখন গোত্রের একজন নারী পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘তোমাদের ক্বারী সাহেবের সতর ঢাকার জন্যে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা করবো নাকি?’ তারপর তারা একটি কাপড় কিনে আমার জন্যে একটা জামা বানিয়ে দিলো। এটি পেয়ে আমি যতটা খুশি হয়েছিলাম, অন্য আর কিছুতে ততটা খুশি হইনি।”[17]

এই ঘটনাটি থেকে নারীদের নামাজের কাতার সম্পর্কিত হাদীসটির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং প্রচলিত ভুল ব্যাখ্যার সংশোধন করা যায়। ‘উৎকৃষ্ট’ ও ‘নিকৃষ্ট’ কাতারের বিষয়টি আসলে পুরুষ বনাম নারীর বিষয় নয়। বরং, মসজিদে সুশৃঙ্খলভাবে জামায়াতে নামাজ আদায়ের জন্যে কিছু প্রায়োগিক বিষয়ের বিবেচনা হাদীসটিতে রয়েছে।

আমাদের চতুর্থ ও সর্বশেষ উদাহরণটি নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। কারণ, এই জনপ্রিয় বর্ণনাটি নারীদের ব্যাপারে নেতিবাচক ও ভুল ধারণা প্রদান করে। বুখারীতে এসেছে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেছেন–

“আমি রাসূলের (সা) সাথে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করলাম। তিনি আজান ও ইকামত ছাড়া এবং খুতবা দেয়ার পূর্বেই নামাজ শুরু করলেন। নামাজ শেষে তিনি দাঁড়ালেন এবং বেলালের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করেই তিনি মানুষকে উপদেশ দিলেন– আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর আদেশ মেনে চলো। তিনি প্রথমে পুরুষদেরকে উপদেশ দিলেন। তারপর নারীদের সামনে হেঁটে গেলেন এবং তাদেরকে উপদেশ দিলেন। তিনি বললেন– ‘তোমরা দান করো।’ … নারীরা তাদের কানের দুল ও হাতের আংটি খুলে বেলালের (মেলে ধরা) কাপড়ে ছুঁড়ে দিতে লাগলো।[18]

এই বিশেষ হাদীসটি পর্যালোচনা করে একটা ব্যাখ্যা দেয়া আমি নিজের জন্যে অপরিহার্য কর্তব্য বলে মনে করছি। যদিও কোনো কোনো পাঠক বুখারী শরীফকে উচ্চ মর্যাদা দেয়ার কারণে আমার ব্যাখ্যাকে আক্রমনাত্মক বলে মনে করতে পারেন। এটি সংকলন করার মাধ্যমে ইমাম বুখারী একটি অসাধারণ কাজ করেছেন, এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তিনি এবং তাঁর বর্ণনাকারীদের কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। ইমাম বুখারীর নিজের বর্ণনাগুলোই যখন পরস্পর সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, কিংবা কোরআনের সাথে যখন কোনো একটি বর্ণনা কোনোভাবেই মিলানো যায় না, তখন এটি আমরা আরো বিশেষভাবে বুঝতে পারি। ইমাম বুখারীর এই বিখ্যাত গ্রন্থটিতে এমন ঘটনা বেশ কয়েকবারই ঘটেছে।

হাদীসের প্রতিটি সংকলনেই ২/৩টি শাব্দিক পার্থক্যসহ ঘটনাটির বর্ণনা রয়েছে। কখনো কখনো এসব শব্দগত পার্থক্যের ফলে অর্থের কোনো বিশেষ তারতম্য ঘটে না। আবার, কখনো কখনো বর্ণিত হাদীসের দুটি বাক্য বিপরীতমুখী হয়ে যায়। দেখা যায়, একটি বাক্য কোরআনের মূলনীতি এবং রাসূলের (সা) ন্যায়পরায়ণতার সাথে মিলছে, কিন্তু অপর বাক্যটি (কিংবা, বাক্যের দুয়েকটি শব্দ) সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ বুঝাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট হাদীসটির বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূল (সা) নারীদেরকে দান করতে বলার পর তাদের সাথে জাহান্নাম নিয়ে কথা বলেছেন। ডজনখানেক হাদীস গ্রন্থের কয়েক ডজন বর্ণনা মতে, ওইদিন রাসূলের (সা) বক্তব্যের ধারাবাহিকতা এমনটাই ছিলো।[19]

যা হোক, খুঁটে খুঁটে দেখলে বর্ণনাগুলোর মাঝে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য পাওয়া যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত বর্ণনা হলো জাবিরের (রা) সূত্রে বুখারীতে বর্ণিত উপরে উদ্ধৃত হাদীসটি। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘দান করো’ বলার পরপর রাসূল (সা) তাঁর বাকি খুতবা নারী সাহাবীদের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছিলেন। অর্থাৎ, তিনি এভাবে বলেছেন, “তোমরা দান করো। কারণ, আমি তোমাদের অধিকাংশকে জাহান্নামের অধিবাসী হিসেবে দেখেছি” (تَصَدَّقْنَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ)।

অন্য একটি বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, রাসূল (সা) সেখানে উপস্থিত নারী সাহাবীদেরকে বিশেষভাবে উদ্দেশ্য করেননি, বরং সাধারণভাবেই জাহান্নাম ও অধিকাংশ নারীদের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন। এমনকি বুখারীরই অন্য একটি বর্ণনায় (নং–২৯) বলা হয়েছে, “আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে, এবং আমি দেখেছি, সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী” (أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ)।

বুখারীসহ অন্যান্য সূত্রে একই ধরনের কয়েক ডজন বর্ণনা রয়েছে। এসব বর্ণনার ভাবার্থ উপরের দুটি উদ্ধৃতির যে কোনো একটির সাথে মিলে যায়। এই বর্ণনাগুলোতে দাবি করা হয়েছে, তারপর নারীরা জিজ্ঞেস করলো, কেন এমন হলো? এর জবাবে বলা হলো, “নারীরা তাদের জীবনসঙ্গীর প্রতি অকৃতজ্ঞ” (يَكْفُرْنَ العَشِيرَ)। অথবা, নারী সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, “তোমরা কথায় কথায় অভিশাপ দাও এবং তোমরা তোমাদের জীবনসঙ্গীর প্রতি অকৃতজ্ঞ” (تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ العَشِيرَ)।

এই উভয় ধরনের বর্ণনাই আমার কাছে অত্যন্ত সমস্যাজনক বলে মনে হয়েছে। ঈদের দিনের খুতবায় এ ধরনের কথাবার্তা অপ্রাসঙ্গিক। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, রাসূলের (সা) সংবেদনশীলতা ও সর্বোত্তম আচরণের ব্যাপারে কোরআনে যেভাবে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে এবং অন্যত্র নারীদের সাথে তাঁর সর্বোত্তম আচরণের যেসব দৃষ্টান্ত আমরা পাই, সেগুলো সাথে এ বর্ণনাগুলো খাপ খায় না। যেখানে কোরআনে সুস্পষ্টভাবে তাদের উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে,[20] সেখানে ঈদ উদযাপনের মতো একটি দিনে মহানবী (সা) তাঁর নারী সাহাবীদের অধিকাংশকেই জাহান্নামের অধিবাসী আখ্যায়িত করবেন, এটা কীভাবে সম্ভব? এটা দ্বারা কী বুঝা যায়?

‘জাহান্নামের বেশিরভাগ অধিবাসী হলো নারী’ এই ‘অনুমাননির্ভর সত্য’ ও ভুল ধারণাটি এই বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। নারীদের মর্যাদা সংক্রান্ত ইসলামের বক্তব্য এবং মুসলিম সংস্কৃতির উপর এগুলোর প্রভাব কমবেশি নেতিবাচকভাবে পড়েছে।

যা হোক, বুখারীসহ অন্যান্য সংকলনে আরো কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, যেগুলোতে মহানবীর (সা) বক্তব্যটি সামান্য ভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাতে করেই অর্থ সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। পূর্বে উল্লেখিত বুখারীর ২৯ নং হাদীসটির মতোই অন্য একটি বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেন, “আমাকে জাহান্নাম দেখানো হলো। আমি দেখলাম, জাহান্নামের বেশিরভাগ অধিবাসী হলো অবিশ্বাসী নারী” (أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ يَكْفُرْنَ)। বর্ণনাটির বাকি অংশেও – অর্থাৎ, যারা সবকিছুকেই অভিসম্পাত করে এবং জীবনসঙ্গীর প্রতি অকৃতজ্ঞ থাকে – ‘অবিশ্বাসী নারীদেরকে’ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এই বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝা যায়। রাসূল (সা) তাঁর নারী সাহাবীদের নিকট কিছু অবিশ্বাসী নারীর কথা বলেছিলেন, যারা জাহান্নামের অধিবাসী। নারী সাহাবী কিংবা সাধারণ নারীদেরকে তিনি উদ্দেশ্য করেননি।

প্রকৃতপক্ষে, অন্যান্য বর্ণনায় (উদাহরণ হিসেবে সহীহ ইবনে হিব্বানের কথা বলা যায়) রাসূল (সা) ‘জাহান্নামের অধিবাসী’ নারীদের একজনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “হিমইয়ার গোত্রে লম্বা একজন নারী ছিলো। সে তার  বিড়ালটিকে কোনো খাবার ও পানি না দিয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেঁধে রেখেছিলো। এমনকি মাটিতে পড়ে থাকা পোকামাকড়ও বিড়ালটিকে খেতে দেয়নি” (امرأة من حمير طوالة ربطت هرة لها لم تطعمها ولم تسقها ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض)।[21] যে নারী একটি বিড়ালকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, সে নিশ্চিত ‘জাহান্নামের অধিবাসী’। ‘জাহান্নামের অধিবাসী’ বলতে হাদীসে রাসূলের (সা) নারী সাহাবীগণ কিংবা সাধারণ নারীদের কথা বুঝানো হয়নি।

উপরে উল্লেখিত বর্ণনাগুলোসহ আরো কিছু বর্ণনা নারীদের মর্যাদা সম্পর্কিত ইসলামের বহুল প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির উপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে মুসলিম-অমুসলিম, তরুণ-বৃদ্ধ নির্বিশেষে বহু মানুষ ধর্মবিশ্বাসকেই পুরোপুরি অস্বীকার করছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। যা হোক, আমরা এখানে দেখলাম, নারীরা মসজিদে পুরুষদের নামাজের সামনে দিয়ে গেলে নামাজ ‘ভঙ্গ’ হয় না। নারীরা ‘অশুভ’ নয়। মসজিদের ‘সবচেয়ে মন্দ কাতারটি’ নারীদের জন্য, এ ধারণা সঠিক নয়। ‘জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী’ নারী নয়। এইসবই হলো হাদীসের ভুল উদ্ধৃতি ও ভুল বুঝাবুঝির পরিণতি। মসজিদে, সামগ্রিকভাবে ইসলামে, নারীদের ভূমিকা হলো ন্যায্যতাভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ। এই বাস্তবতার পক্ষে রাসূলের (সা) সুন্নাহয় অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এ ধরনের আরো উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।

[মূল: ড. জাসের আওদা, অনুবাদ: জোবায়ের আল মাহমুদ]

অন্যান্য পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

রেফারেন্স ও নোট:

[1] উদাহরণস্বরূপ দেখুন– সহীহ ইবনে হিব্বান, ৬/৫১; সুনান ইবনে মাজাহ, ১/৩০৫।

[2] দেখুন– সহীহ মুসলিম, ১/৩৬৫; মুসনাদে আহমদ, ২/২৯৯। এই হাদীসটির ব্যাপারে শোয়াইব আল-আরনাউত মন্তব্য করেছেন– হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ ইমাম বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বিশ্বস্ত হিসেবে গণ্য, যদিও হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী কাতাদাহ’র ব্যাপারে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।

[3] সুনানে দারকুতনী, ২/১৯৬; সুনানে আবু দাউদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, মুসনাদে আহমদসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে একই ধরনের বর্ণনা রয়েছে।

[4] দেখুন– মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহাওয়াহ, ৩/৬১৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, ৬/১১১; সুনানে আবু দাউদ, ১/১৯৮ (আবু দাউদের বর্ণনাটিকে আল-আলবানী’সহীহ’ বলে অভিমত দিয়েছেন) এবং সহীহ মুসলিম, ১/৩৬৬।

অনুবাদকের টীকা: এ সংক্রান্ত হাদীসগুলোর পুরো বর্ণনা তুলে ধরা হলো:

১।

عَنْ عَائِشَةَ، وَذُكِرَ، عِنْدَهَا مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ الْكَلْبُ وَالْحِمَارُ وَالْمَرْأَةُ ‏.‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ شَبَّهْتُمُونَا بِالْحَمِيرِ وَالْكِلاَبِ ‏.‏ وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَإِنِّي عَلَى السَّرِيرِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ مُضْطَجِعَةً

অর্থ: আয়েশার (রা) সামনে আলোচনা হচ্ছিল যে, কুকুর, গাধা ও নারীরা নামাজের সামনে দিয়ে গেলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। আয়েশা (রা) বললেন, “তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সমতুল্য গণ্য করছ? আল্লাহর কসম, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) নামাজ আদায় করতে দেখেছি; অথচ, তখন আমি তাঁর ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে খাটে শুয়ে থাকতাম। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত, হাদীস নং– ১০২৬)

২।

وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ قَالَ فَقُلْنَا الْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ ‏.‏ فَقَالَتْ إِنَّ الْمَرْأَةَ لَدَابَّةُ سَوْءٍ لَقَدْ رَأَيْتُنِي بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُعْتَرِضَةً كَاعْتِرَاضِ الْجِنَازَةِ وَهُوَ يُصَلِّي ‏.

অর্থ: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রা) বললেন, নামাজরত অবস্থায় সামনে দিয়ে কী অতিক্রম করলে নামায ভঙ্গ হয়? আমরা বললাম, নারী ও গাধা। আয়েশা (রা) বললেন, নারীরা কি নিকৃষ্ট প্রাণী? অথচ, আমি রাসূলের (সা) সামনে জানাজার মত আড়াআড়ি হয়ে শুয়ে থাকতাম আর তিনি নামাজ আদায় করতেন।” (মুসলিম, কিতাবুস সালাত, হাদীস নং– ১০২৫)

[5] আল-উম্ম, ১/১৯৮।

[6] আল-মুয়াত্তা, মোহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনা, ২/৫৮।

[7] সুনানে আবু দাউদ, ২/৪৪।

[8] বুখারী, ৫০৯৩, মুসলিম, ২২৫২।

[9] উদাহরণ হিসেবে দেখুন– আল-জুরকানী কর্তৃক মুয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ৪/২১৬।

[10] বুখারী, ৫৭৭৬; মুসলিম, ২২২৪।

[11] আবু দাউদ, ৩৯২২।

[12] আল-রাযী, আল-মাহসুল, ৪/৩০৩।

[13] আবু বকর আল-মালিকী ইবনুল আরাবী, আরিদাত আল-আহওয়াধী, (কায়রো: দারুল ওহী আল-মোহাম্মদী,), ১০/২৬৪।

[14] বদরুদ্দীন জারকাশী, আল-ইজাবাহ লি-ইরাদ মা ইসতাদরাকাতু আয়েশা আলাস-সাহাবাহ (আয়েশা কর্তৃক সাহাবীদের বর্ণিত হাদীসের সংশোধনীর জবাব), সম্পা. সাঈদ আল-আফগানী, দ্বিতীয় সংস্করণ, বৈরুত: আল-মাকতাবাল ইসলামী, ১৯৭০। জালালুদ্দীন সুয়ুতী, আইনাল আসাবাহ ফি ইসতিদরাক আয়েশা আলাস-সাহাবাহ (সাহাবীদের বর্ণিত হাদীসের আয়েশা কর্তৃক সংশোধনীর ব্যাপারে সঠিক মতামত), কায়রো, আল-ইলম, ১৪০৯ হিজরী।

[15] মুসলিম, নামাজ অধ্যায়, ২/৩২।

[16] মুসনাদে আহমদ, ৪৪/৫১১। আল-আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলে মত দিয়েছেন।

[17] বুখারী, ৫/১৫০।

[18] বুখারী, (১৪৬২)।

[19] বুখারী (২৯, ৩২৪১, ৫১৯৮, ৬৪৪৯, ৬৫৪৬), মুসলিম (২৭৪০), তিরমিজী (২৬০২, ২৬০৩), আহমদ (২০৮৭, ৩৩৭৬, ৭৮৯১, ৫৩২১, ১৯৩৫০, ১৯৪৭৯), ইবনে হিব্বান (৭৬১৫, ৭৬১৬, ৭৬৪৯), বায়হাকী (১৩৪৫), মুয়াত্তা (৪৪৫), নাসাঈ (১৮৯১, ৯২১৫, ৯২১৬, ৯২১৭, ৯২১৯, ৯২২০, ১১৭৫৭), আবু দাউদ (৮৭২, ২৮৮২), আল-বাযযার (৫৩৪০), জামে মুয়াম্মার ইবনে রশিদ (২০৬১০, ২০৬১১), এবং তাবারানী (২৪৮৫, ১২৭৬৫, ১২৭৬৬, ১২৭৬৭)।

[20] কোরআন, ৯:১০০, ৪৮:২৫, ৪৮:২৯, ৫৮:২২ এবং অন্যান্য।

[21] ইবনে হিব্বান, ৭৬৪৯।

জাসের আওদা
ড. জাসের আওদা মাকাসিদে শরীয়াহর উপর বর্তমানে একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। তিনি ‘মাকাসিদ ইনস্টিটিউট গ্লোবাল’ নামক একটি থিংক ট্যাংকের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা, দ্য ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফতওয়া এবং ফিকহ একাডেমি অব ইন্ডিয়ার সদস্য। পড়াশোনা করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে ইসলামী আইন ও সিস্টেম অ্যানালাইসিসের উপর দুটি পিএইচডি অর্জন করেছেন। বিভিন্ন দেশের বেশ কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপনা করেছেন। আরবী ও ইংরেজিতে প্রায় ২৫টি বই লিখেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন