এতক্ষণ আমি ইস্তান্বুলে মোস্তফা আকিউলের বাসায় তাঁর সাথে কথা বলছিলাম। আকিউলের এ সাক্ষাৎকার থেকে তুর্কি জাতি ও এ অঞ্চলের জটিল বাস্তবতাগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কীভাবে নবী মুহাম্মদ (সা) তুরস্কের নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠছেন- ইসলামিক ক্যালভিনিস্ট (সংস্কারবাদী) মোস্তফা আকিউল তা বিশ্লেষণ করেছেন।

তুরস্কে চলমান ধর্ম ও গণতন্ত্রের সমন্বিত মডেলটি নিয়ে জনাব আকিউল তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছেন। মূলত এই বিষয়টিকে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলা যায়। ইস্তান্বুল এক সময় কনস্টান্টিনোপল নামে উসমানীয় সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। গ্রীক ও রোমানদের পতনের পর এই সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে। মোস্তফা আকিউলের মত যারা ‘নয়া তুরস্কে’র স্বপ্ন দেখেন তাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উদার সাংবিধানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ স্বপ্নকে তারা বাস্তবে রূপ দিতে চান।

সাম্প্রতিক একটি জরিপ থেকে এ অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব টের পাওয়া যায়। দেখা গেছে, প্রায় ৬৩ শতাংশ মিশরীয় জনগণ তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ানকে বিশ্বনেতা হিসেবে পছন্দ করেছে। সৌদি বাদশা পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ লোকের সমর্থন। বারাক ওবামাও সৌদি বাদশার সমান ভোট পেয়েছেন।

ক্রিস্টা টিপেট: প্রায় বছরখানেক আগে অর্থাৎ ২০১১ সালে ইউএস-ইসলামিক ওয়ার্ল্ড ফোরামের একটা অনুষ্ঠানে আমি যোগ দিয়েছিলাম। আপনি কি সেখানে ছিলেন?

মোস্তফা আকিউল: দু’সপ্তাহ আগে আমি সেখানে ছিলাম।

ক্রিস্টা টিপেট: ইসলামিক ওয়ার্ল্ড ফোরামের অনুষ্ঠানটির পর, সম্ভবত ২০১১ সালের মার্চ বা এপ্রিলের দিকে, আরব বসন্ত তখন মাত্র শুরু হয়েছে। তারপর থেকে আরব দেশগুলোতে দারুণভাবে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছিল। মিশর-তিউনিশিয়ায় আওয়াজ উঠলো, তারা তুরস্ক মডেলের শাসনব্যবস্থা চায়। আন্দোলনকারীদের মতো আমিও অনুভব করলাম বিষয়টা। অনেকে তো মনে করছে এটা তুর্কিদের কারসাজি, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব তৈরির প্রচেষ্টা। কিন্তু যে মডেলটা গড়ে ওঠতে তুরস্ক দীর্ঘ সময় নিয়েছে, সেখানে আরব দেশগুলোতে হুট করে ‘তুর্কি মডেল’ কতটুকু কাজে লাগতে পারে? সব মিলিয়ে যা কিছু ঘটছে, সেগুলোকে কীভাবে দেখছেন?

মোস্তফা আকিউল: রক্ষণশীল তুর্কিদের একটা বিশ্বাস আছে, যাকে আমি ‘Turkey’s Manifest Destiny’ বলে থাকি। এর মূল চেতনা হলো: বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে তুর্কি জাতির একটা ঐতিহাসিক মিশন আছে। তারা মনে করে, শত শত বছর ধরে ইসলামী সভ্যতার সত্যিকারের ধারক-বাহক ছিল তুর্কি জাতি। শুধু নেতৃত্বই নয়, গণতন্ত্রের সমন্বয়ে ইসলামী সভ্যতা বিনির্মাণের ক্ষেত্রেও তুর্কিরা অগ্রগামী ছিল। আমার মতে, চূড়ান্ত বিচারে গণতান্ত্রিক আদর্শের সাথে ইসলামে কিছু বিষয়ের মিল রয়েছে। তবে গণতন্ত্র আসলে আধুনিক পাশ্চাত্যেরই সৃষ্টি। উসমানীয়রা গণতন্ত্রকে গ্রহণ করেছ, সমন্বয়ের চেষ্টা করেছে। যদি জানতে চাওয়া হয়, তুরস্কের জন্যে উল্লেখযোগ্য দিক কোনটি? উত্তরটা হবে, গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক দিনের।

যদি তুরস্ক ইসলামী মূল্যবোধ ও আচার-আচরণকে যথাযথভাবে ধারণ করতে পারে তাহলে আরবদের সাথে দূরত্ব কমে আসবে। কারণ আরব ও তুর্কিদের মধ্যে এ ব্যাপারটি অভিন্ন। তুরস্কের পক্ষ থেকে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তুরস্কের থিঙ্ক ট্যাঙ্কে যারা আছেন তারা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি কায়রোতে অনুরূপ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উদ্যোগটা প্রশংসনীয়। শুধু তাই নয়, তুরস্ক পশ্চিমাদের সাথেও একত্রে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সংলাপের আয়োজন করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হচ্ছে তুরস্ক। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

ক্রিস্টা টিপেট: মধ্যপ্রাচ্যের সাথে ইউরোপের সেতুবন্ধন তৈরিতেও তুরস্ক কাজ করছে বলা যায়।

কামাল ল্যাটিন হরফ শেখাচ্ছেন ১৯২৮ সালে। ছবি স্বত্ত্ব: লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি
কামাল ল্যাটিন হরফ শেখাচ্ছেন ১৯২৮ সালে

মোস্তফা আকিউল: একদম ঠিক বলেছেন। যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে তুরস্ক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে তুরস্ক এখনো যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। দেখুন না, তুরস্কে খুব কম লোকই আরবিতে কথা বলে থাকে। কারণ আমরা আরববিশ্ব থেকে এক রকম বিচ্ছিন্ন বলা যায়। আমরা যেমন আরবিতে বলি না, তেমনি আরবরা তুর্কিতে বলে না। আরবি ভাষার সাথে তুর্কি ভাষার পার্থক্য রয়েছে।

ক্রিস্টা টিপেট: ঠিক বলেছেন।

মোস্তফা আকিউল: উসমানীয় আমলে ভাষার লিখিত রূপ ছিল আরবি। তখন প্রচুর আরবি শব্দ ছিল। তবে তুর্কি ব্যাকরণই অনুসরণ করা হতো। তুর্কি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার পর তুর্কি বর্ণমালা পাল্টে ফেলা হয়। এমনকি তুর্কি ভাষাকে বিশুদ্ধ রাখার অযুহাতে আরবি ও ফারসি শব্দগুলো ছেঁটে ফেলা হয়।

ক্রিস্টা টিপেট: জানতাম না তো!

মোস্তফা আকিউল: এটাকে সে সময় ভাষার ক্ষেত্রে বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। কাজটা আমার কাছে এক ধরনের বর্বরতা বলেই মনে হয়েছে। এর ফলে তুর্কি শব্দভাণ্ডার সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। পরে নব্য শাসকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত Turkish Language Institution কৃত্রিম শব্দ দিয়ে নতুন অভিধান তৈরি করে।

ক্রিস্টা টিপেট: কাজগুলো আতাতুর্কের আমলে হয়েছিল?

মোস্তফা আকিউল: হ্যাঁ, সময়টা আতাতুর্কেরই ছিল। তুরস্কের সংস্কৃতিকে আরবি ও ফার্সির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে অনেকেই সে সময় তুর্কি ভাষার ওপর এমন নৃশংস পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু আমি মনে করি এটা আমাদের সাহিত্য, এমনকি চিন্তা-চেতনায়ও অবক্ষয় তৈরি করেছে। আমরা তুর্কি ভাষার দ্যোতনা হারিয়ে ফেলেছি। শুধু কি তাই? বর্ণমালা ও শব্দ ভাণ্ডারে এত বড় পরিবর্তনের ফলে অধিকাংশ মানুষ তখন রাতারাতি অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন! এক সময় বাপ-দাদারা কী লিখে রেখে গিয়েছিলেন, সেগুলো বুঝার সাধ্য আর নেই এখনকার নাতি-পুতিদের। এভাবে তুর্কিদের সাথে আরবদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। অবশ্য নয়া তুর্কি শাসক ও শিক্ষিত সমাজ এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

ক্রিস্টা টিপেট: ঠিক। যদি খোলামেলাভাবে চিন্তা করি, তাহলে তুরস্কের গৌরবময় অতীতের সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এখন, তাই না?

মোস্তফা আকিউল: অবশ্যই। তুরস্কে কিছু কথা প্রায় শোনা যায়। যেমন, আপনি যদি কামালপন্থী হন, তাহলে আপনার সেরা সময়টা ছিল আতাতুর্কের যুগ। আপনি ভাববেন, তুরস্কের জন্যে আতাতুর্কের সময়টা ছিল সবচেয়ে ভালো। আর আপনি যদি রক্ষণশীল হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার সেরা সময়টা ছিল উসমানীয় শাসনামল। সব কিছুকে আপনি শুধু সাম্রাজ্যের সময়ের সাথে মেলাতে থাকবেন। তবে তারমানে এই নয় যে, আপনি আবার সেই সাম্রাজ্য ফিরে যেতে চান বা দেশ দখল করতে চান। বরং আপনি সেই সাম্রাজ্যের মানদণ্ডে পুরো দুনিয়াকে মাপতে থাকবেন!

বসনিয়ার কথাই ধরুন। তুর্কিরা তাদেরকে ইউরোপীয় মুসলিম ভাই হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। কারণ বসনিয়া এক সময় উসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, উসমানীয় আমলে বসনিয়ানদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনেকেই জাতিগতভাবে ছিলেন তুর্কি, ফিলিস্তিনি কিংবা বাগদাদের অধিবাসী। অর্থাৎ জাতীয়তা নিয়ে তখন কোনো পার্থক্য করা হতো না। এ ধরনের ব্যবস্থা যদি এখনকার দুনিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে মেলাতে যান, দেখবেন উসমানীয় শাসনব্যবস্থা ছিল অনেক উদার। আর তার বিপরীতে যে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেটা ছিল নিছক জাতীয়তাবাদী চিন্তাপ্রসূত এবং খুবই সংকীর্ণ মনোভাবাপন্ন।

ক্রিস্টা টিপেট: ২০১১ সালের মিসর সফরে এরদোয়ানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। তারা এরদোয়ানের নেতৃত্বকে বেশ পছন্দ করে। তাছাড়া সমাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনের জন্যে সৌদি আরবের চেয়ে ‘তুরস্ক মডেল’ তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাঙ্কের এক জরিপ থেকে এ বিষয়টি উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ৪১ শতাংশ মিসরীয় তুরস্ককে, ২৫ শতাংশ সৌদি আরবকে এবং ৫ শতাংশ লোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সুপার পাওয়ার হিসেবে দেখতে চায়। এরদোয়ান খুবই প্রশংসিত একজন নেতা এবং তুরস্ক আরো বেশি প্রশংসিত। অথচ যেখানে ইসলামের রোল মডেল হিসেবে সমাজ ও রাজনীতিতে সৌদি আরবের আরো বেশি ভূমিকা থাকার কথা। তবে আমি একটা ব্যাপারে আগ্রহী। সেটা হলো, আপনি ৮০’র দশকের তুর্কি ইসলামী সংস্কারবাদ সম্পর্কে লিখেছেন। সেই সংস্কারের ফলে যে সব নতুনত্ব এসেছিল তার ফলাফল আপনি নিজেও। আমার প্রশ্নটা হলো, ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে তুরস্ক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার যে মডেল দাঁড় করাতে যাচ্ছে, তার বিশেষ দিকগুলো কী কী ?

মোস্তফা আকিউল: প্রথমেই বলে নিই, মধ্যপ্রাচ্যে এখন তিনটি মডেল দেখা যায়। একটা হলো ইরানি মডেল, যেখানে ধর্মতন্ত্র শাসনব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে ইসরাঈলকে ধ্বংস করার মনোভাব বেশ তীব্র।

আরেকটা হলো সৌদি মডেল, যারা রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী। যেমন, তারা ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যার ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে’ আগ্রহী। তবে তারা ধর্মীয় দিক থেকে খুবই রক্ষণশীল ও কর্তৃত্ববাদী। ধর্মীয় পুলিশ দিয়ে সেখানে ধর্মপালনে বাধ্য করা হয়! তাই সৌদি আরবকে সালাফী মডেল বলা যেতে পারে।

আর সর্বশেষ মডেলটি হলো সাম্প্রতিক তুরস্ক। ১০ বছর আগেও তুরস্ক অপ্রাসঙ্গিক ছিল। কারণ, এটি ছিল কট্টর সেক্যুলার রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রটা মিলিটারি জেনারেলদের কথায় উঠত আর বসত। মধ্যপ্রাচ্যে এমনটা আর দেখা যায়নি। যেখানে হেডস্কার্ফ পরা পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল। কে জানতো, সেই তুরস্ক এক সময় মুসলিম বিশ্বের জন্যে উদাহরণ সৃষ্টি করবে?

যারা ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আস্থা রাখে এবং একই সাথে আধুনিকতারও অংশীদার হতে চায়, তাদের জন্যে বর্তমান তুরস্ক একটি নতুন মডেল। তিউনিশিয়ায় আননাহদা পার্টির কথাই ধরুন। তাদের বক্তব্য হলো, “আমরা মুসলিম এবং আমাদের ঐতিহ্য ইসলাম। তাই বলে আমরা ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি না। আমরা বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমাজ সংস্কার ও আধুনিকায়নে সেক্যুলারদের সাথে একত্রে কাজ করতে চাই।”

আননাহদার এই কথার সূত্রই হলো তুরস্ক মডেল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো আরবরা এই মডেল কতটুকু বোঝে এবং গ্রহণ করছে? কারণ আরবদের সাথে আমাদের যে সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করা হয়েছে, তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আর দ্বিতীয় কথাটি হলো, তুর্কি মডেলটা হুবহু অনুসরণ করা উচিৎ হবে না। কারণ প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ রয়েছে। সেগুলোকে ভিত্তি করে তাদের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিৎ। সবার উচিত তুরস্ককে অনুকরণ করা- এ কথা বলা খুবই বোকামি হবে। তবে একনিষ্ঠ মুসলিম হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো তুরস্ককে অনুরসণ করা যেতে পারে। তবে আসল মনোযোগ থাকতে হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে। হয়তোবা আন্তর্জাতিক সংস্থায় সদস্যপদ থাকবে, তুরস্ক যেমন ন্যাটোভুক্ত দেশ। তারমানে এই নয়, আপনার সমাজের মূল্যবোধের বিপরীত কিছু আপনাকে করতে হবে। যেমন আপনি ফিলিস্তিনির পক্ষে কথা বলবেন, তবে ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে নয়। দেখুন তুর্কি সরকার ফিলিস্তিনের সমর্থক হলেও ইসরাইলবিরোধী নয়। তুর্কি সরকার কিছু কিছু ইস্যুতে ইসরাইলের খুব কড়া সমালোচনা করে থাকে। তবে আদতে তুর্কি সরকার ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে’ আগ্রহী।

মোটকথা হলো, আরব বসন্তের পর থেকে আরব অঞ্চলে পরিবর্তনের জন্যে যারা রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক তাদের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। কারণ তারা শুধু ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীলই নয়, তারা মন-মানসিকতায় আধুনিক এবং বাস্তববাদীও বটে।

শেষ পর্ব

1
2
3
4
মোস্তফা আকিউল
তুর্কি সাংবাদিক ও লেখক। 'ইসলাম উইদাউট এক্সট্রিমস, 'দ্য ইসলামিক জেসাস' তাঁর উল্লেখযোগ্য বই। হুররিয়াত ডেইলি নিউজ, আল মনিটর, নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিয়মিত কলাম লেখক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন