নয়া তুরস্কে ধর্ম ও গণতন্ত্র

এডিটর’স নোট:

তুরস্কের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা আকিউল তার স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও অকপট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তুর্কি ইংরেজি দৈনিক Hürriyet Daily News-এ তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন। Islam without Extremes: A Muslim Case for Liberty তাঁর সাড়া জাগানো বই। আরব বসন্ত প্রভাবিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তুর্কি মডেলের শাসনব্যবস্থার দাবি উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতে আমেরিকান পাবলিক মিডিয়ার রেডিও শো On Being প্রোগ্রামের উপস্থাপক ক্রিস্টা টিপেট ২০১২ সালের জুলাই মাসে আকিউলের একটি নাতিদীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেন। আকিউল তাঁর ব্যক্তিজীবনে ধর্মের ভূমিকা, তুরস্কের সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের প্রভাব, একেপি’র শাসনব্যবস্থাসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথাবার্তা বলেন। এতে একটি ‘নয়া তুরস্কে’র চিত্র উঠে আসে। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্য উপস্থাপক ক্রিস্টা টিপেটের ভূমিকাসহ সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন আবিদুল ইসলাম চৌধুরী।



পশ্চিমা প্রকাশনা ছাড়াও তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত মোস্তফা আকিউলের বেশকিছু লেখালেখি রয়েছে। তুরস্কে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ১৯৭২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বিংশ শতকের মাঝামাঝিতে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তখন পর্যন্ত দুই বার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। তৃতীয় অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকে। এসবের মাঝেই আকিউল বেড়ে উঠেন। তাঁর জীবনের গল্পগুলোর মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে তুরস্কে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলো ধরা পড়ে। দাদা ধর্মিক মুসলমান হলেও বেড়ে ওঠার বয়সগুলোতে তিনি তাঁর বাবাকে দেখেছেন আতাতুর্কের গড়া সেক্যুলারিজমের সমর্থক হিসেবে। তাঁর বাবা সাংবাদিক ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান ধার্মিক মুসলিম। জনাব আকিউল নিজেকে একাধারে এরদোয়ানের সমর্থক ও সমালোচক মনে করেন।

*****

ক্রিস্টা টিপেট: আপনি জানেন, এক সময় গোটা মধ্যপ্রাচ্য উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। আমরা আজকে যে জায়গাটায় বসে কথা বলছি সেটা ছিল এই সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র। তো মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে দেখছেন?

মোস্তফা আকিউল: আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যে উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রভাব এখনো রয়েছে।

ক্রিস্টা টিপেট: অবশ্যই, এ অঞ্চলে উসমানীয় সাম্রাজ্য এখনো তাৎপর্য বহন করে।

মোস্তফা আকিউল: আমরা যেটাকে আজকে মধ্যপ্রাচ্য বলছি, সেটা বিংশ শতক পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। একজন তুর্কি হিসেবে কথাটা আমি অহংকার বা জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক বোধ থেকে বলিনি। বলেছি এ অঞ্চলের পরিবর্তন ও সংস্কারের মানসিকতা এবং গণতান্ত্রিকতার ঐতিহাসিক ধারার ওপর ভিত্তি করে। দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্য আধুনিকায়নের ধারায় নিজেকে উন্নীত করার চেষ্টা করেছে। উসমানীয় শাসকদের আধুনিকায়নের এই চিন্তাভাবনা ও পদক্ষেপ নিয়ে এখানে কিংবা পশ্চিমে– কোথাও কোনো আলোচনা হয়নি।

পতন মুহূর্তেও এই সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা মধ্যযুগের অন্যসব রাজতন্ত্রের মতো ছিল না। বলা যায়, এটি ছিল এক ধরনের সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। সেখানে আইনসভা ছিল। ছিল এর নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ। শুধু কি তাই? ইহুদী এবং খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীদেরও আইনসভার সদস্য হওয়ার সুযোগ ছিল। সেই আইনসভায় প্রণীত আইনগুলোতে নারীদের সমান অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হতো। উসমানীয় সাম্রাজ্যে খ্রিস্টান এবং ইহুদীরা অন্য সবার মতো একই রকম নাগরিক মযার্দা ভোগ করতো, যা এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশে নেই। অভিজাত শ্রেণী, প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ এবং আলেমদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করা হতো।

ইসলাম ও গণতন্ত্রের কথাই ধরুন। এ দুটোর মধ্যে সমন্বয় হতে পারে কি, পারে না– তা নিয়ে এখন নতুন করে বির্তক হচ্ছে। অথচ একবিংশ শতকের প্রথম থেকেই উসমানীয় গবেষকরা এসব নিয়ে আলোচনা করতেন। উসমানীয় বুদ্ধিজীবী নামিক কামাল (Namik Kemal) বলেছিলেন, গণতন্ত্র আদতে ইসলামের পরামর্শের ধারণার (শু’রা) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। স্বাধীনতা ও মুক্তির পশ্চিমা মূলনীতি এবং ব্যক্তি অধিকারের ধারণা– এগুলো মূলত আমাদের জীবনব্যবস্থার শেকড় থেকেই উঠে এসেছে।

ক্রিস্টা টিপেট: এখানে ব্যক্তির দায়-দায়িত্বের ওপর কতটুকু গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? এবং তা গণতন্ত্রের আদর্শের সাথে কতটুকু সংগতিপূর্ণ?

মোস্তফা আকিউল: একথা স্বীকার করতে হবে, রাজনৈতিক উদারতার ভিত্তি যেখানে দুর্বল সেখানে গণতন্ত্রের অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্রায়নের নামে যা হচ্ছে তা অনেকটা উপর থেকে চাপানো। যেটাকে উদার গণতন্ত্র না বলে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র বলা যেতে পারে। এ অবস্থায় সেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতার চর্চা বিপজ্জনক। এ সমস্যাটা তুরস্কেও একটু আধটু লক্ষ্য করা যায়। এমনকি আমি নিশ্চিত বলতে পারি, এই সমস্যা তিউনিসিয়া এবং মিশরেও বিদ্যমান।

মোস্তফা রশিদ পাশা। উসমানী খেলাফতের এই কর্মকর্তা ছিলেন তানজিমাতের মূল কারিগর
মোস্তফা রশিদ পাশা। উসমানী খেলাফতের এই কর্মকর্তা ছিলেন তানজিমাতের মূল কারিগর

অথচ, ঊনিশ শতকের শেষদিকে উসমানীয় খিলাফত ‘তানজিমাত’ নামে আধুনিকায়ন শুরু করেছিল। সে সময় খিলাফত ছিল পুরো পৃথিবীতে একমাত্র সর্বোচ্চ ইসলামী কর্তৃপক্ষ বা সরকার ব্যবস্থা। ওই সময়ে তারা সত্যিই কিছু উদার পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা গ্রহণের চেষ্টা করছিল। এসবের সাথে পশ্চিম থেকে ফ্যাসিজম ও একদলীয় শাসনের মতো কিছু বাজে আদর্শও এ অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে। যেমন সিরিয়ায় এই নেতিবাচক ব্যবস্থা এখনো প্রভাব বিস্তার করে আছে। তাই বলা যাবে না যে, পাশ্চাত্যের কাছ থেকে আসা সবগুলো আদর্শই ভালো। অবশ্য, উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা পশ্চিমা আধুনিকতার তুলনামূলক ভালো দিক। আমি মনে করি, ঊনিশ শতকের শেষ এবং বিংশ শতকের শুরুর দিকে উসমানীয়দের চলমান এই আধুনিকায়ন প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা খুব ভালোভাবেই আধুনিকায়নের সাথে ছন্দ মেলাতে সচেষ্ট ছিল। তাই বলা যেতে পারে, গণতন্ত্রের চেতনা এ অঞ্চলের জন্য নতুন কিছু নয়।

ক্রিস্টা টিপেট: আপনার এ কথার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে।

মোস্তফা আকিউল: হ্যাঁ, কিছুটা তো বটেই। এছাড়া আমি ঊনিশ শতকের উসমানীয় আমলে সংস্কারের ব্যাপারটাও উল্লেখ করবো। যেমন ধর্মত্যাগের (মুরতাদ) কথাই ধরুন। এটা অনেকটা এক ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করার মতো। ক্লাসিক্যাল ইসলামী আইনে ধর্মত্যাগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও আমি মনে করি, এর ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা উচিৎ নয়। তবে আপনি যদি বিষয়টার গোড়ায় যান তাহলে দেখবেন, ধর্মত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে মূলত রাজনৈতিক কারণে। সে সময় নিজের দলের কেউ ধর্মত্যাগ করার অর্থ ছিল যুদ্ধের মাঠে প্রতিপক্ষের দল ভারী করা।

দৃশ্যত উসমানীয় শাসকরা বাস্তবতা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই ধর্মত্যাগকে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন করে দেয়া হয়েছিল। পরিবেশটা এমন করে দেয়া হয়েছিল যে, কোনো মুসলিম ইচ্ছে করলে খ্রিস্টান ধর্মও গ্রহণ করতে পারতো। এমনকি খোলাখুলিভাবে নাস্তিকতার চর্চাও করতে পারতো। সে সময় অনেকেই ছিল ইউরোপের বস্তুবাদী চিন্তাবিদদের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা অনুপ্রাণিত। কই, এ জন্যে তো উসমানীয় সাম্রাজ্যের আলেমগণ শিরশ্ছেদ বা পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার ফতোয়া দেননি! বরং তাঁরা বস্তুবাদী দর্শনের গঠনমূলক সমালোচনা করে বই লিখেছেন। পাশাপাশি ইসলামী দর্শনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

তো, আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আসলে কী ধরনের ব্যবস্থা দরকার তা নিয়ে উন্মুক্ত আলাপ-আলোচনা হওয়া জরুরি। যারা মনে করেন- এ অঞ্চলের লোকজন উদারতা ও মুক্তচিন্তার ধারা সম্পর্কে অজ্ঞ- তারা আসলে ভুলের মধ্যে আছেন। এখানে আগে থেকেই উদারতাবাদের একটা ধারা ছিল। তবে এটাও সত্য, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে কর্তৃত্ববাদী এবং স্বৈরশাসনের ধারাও ছিল। এ অঞ্চলের মানুষগুলো পুরো শতাব্দী জুড়ে এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

ক্রিস্টা টিপেট: আপনি আধুনিক তুরস্ক বলতে কী বুঝেন? প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক সেক্যুলার আদর্শে যে তুরস্ককে গড়ে তুলেছেন সেটাকে কীভাবে দেখেন? আপনি তো এগুলোর মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। আমি আসলে আতাতুর্ক সস্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহী। কারণ গত দুদিন এখানে থেকে বুঝতে পেরেছি, আতাতুর্ক এখনো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

মোস্তফা আকিউল: হ্যাঁ, একেবারে পূজনীয় ব্যক্তিত্ব বলা চলে।

ক্রিস্টা টিপেট: তাহলে আতাতুর্ক এবং তুর্কি পরিচয় নিয়ে আপনার অভিমত কী? এক্ষেত্রে কোনটাকে সেক্যুলার বলা চলে?

মোস্তফা আকিউল: চমৎকার প্রশ্ন। আমার মনে হয়, আসলে সেক্যুলারিজমকে অতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। সেক্যুলারিজমকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে মনে হবে, সেক্যুলারিজমের কাজ হলো পাবলিক স্পেস থেকে ধর্মকে নির্মূল করা। যা ফ্রান্সে চর্চা করা হয়। কিন্তু ফ্রান্সের মতো যদি এ অঞ্চলে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয় তাহলে সেটা গণতন্ত্র বা উদারতাবাদকে নিশ্চিত করবে না।

বহু সেক্যুলার স্বৈরশাসকের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা এ অঞ্চলের রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আপনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ আমলের সাথে সেক্যুলার প্রজাতান্ত্রিক তুরস্কের তুলনা করতে পারেন। দেখা যায়, সেক্যুলার প্রজাতান্ত্রিক তুরস্কের একজন খ্রিস্টানের চেয়ে উসমানীয় সাম্রাজ্যের একজন খ্রিস্টান বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে। এই পার্থক্যের কারণটা হলো, আমদানি করা সেক্যুলারিজমের সাথে জাতীয়তাবাদের নেতিবাচক দিকগুলো ঢুকে পড়েছে। ফলে এমন এক শাসন ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে, যেটা ক্লাসিক্যাল ইসলামী আদর্শের তুলনায় অনেক বেশি অসহিঞ্চু। আপনি নিশ্চয় জানেন, ক্লাসিক্যাল ইসলামী ঐতিহ্যে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের আহলে কিতাব তথা খ্রিস্টান ও ইহুদী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে তাদের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করা হয়।­­

সেক্যুলার আদর্শ অনুসারে রাষ্ট্রের কোনো ধর্মীয় মতাদর্শ থাকবে না। যাতে করে ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে কেউ নিগৃহীত না হয়। খুব ভালো কথা। কিন্তু রাষ্ট্র তো ধর্ম বাদে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মতো অন্যান্য তত্ত্বগুলোকে আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে ঠিকই গ্রহণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ফ্যাসিজম এবং স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে কমিউনিজমের ইতিহাস তারই স্বাক্ষ্য বহন করে।

ক্রিস্টা টিপেট: আপনার পরিবারে ধর্মের চর্চাটা কেমন? যতটুকু পড়েছি, আপনার দাদা ছিলেন…

মোস্তফা আকিউল: আমার দাদা-দাদী উভয়ই ধার্মিক মুসলিম ছিলেন। আমার মনে আছে, ইসলামের প্রথম শিক্ষাটা আমি তাঁদের কাছে থেকেই পেয়েছি। দাদা আমাকে ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো শিখিয়েছিলেন। শুরুটা বেশ নাটকীয় ছিল। তখন আমার বয়স ছিল ৯ বছর। একদিন দাদার লাইব্রেরিতে আমি একটি বই খুঁজে পাই। কোরআন নয়, সেটা ছিল একটা পুরোনো ইসলামী বই। বইটাতে মানুষের সত্ত্বা, জীবন, সৃষ্টিরহস্য- এসব বিষয়ের আলোচনা ছিল। প্রতিটি বিষয়ের সাথে ছিল শিহরণ জাগানো কোরআনের বাণী। এক জায়গায় গিয়ে আমি থমকে যাই, সেখানে বলা ছিল অনেকটা এরকম, “তোমার সন্তান যদি তার ১০ বছর বয়স থেকে নামায পড়া শুরু না করে, তাহলে তাকে প্রহার করো।” সম্ভবত তখন থেকেই ইসলামী আইন এবং ঐতিহ্যের কর্তৃত্ববাদী বিষয়গুলোর সাথে আমার পরিচয় ঘটে। আমার মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিশ্বাসী মুসলিম হয়েও কীভাবে আমরা ইসলামের কর্তৃত্ববাদী আইনগুলোতে পরিবর্তন আনতে পারি– এসব নিয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়।

আমার বাবা-মা ধর্ম মোটামুটি পালন করতেন। আসলে সময়টাও ছিল তেমন। ধর্মপালনের বিষয়টা তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তবুও আমি তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষ করে বাবার কাছ থেকে। তাঁর অবস্থান ছিল সবসময় স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে। ১৯৮০ সালে সামরিক জান্তা-সরকার যখন রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের জেলে পুরছিল তখন আমার বাবাও নির্যাতনের শিকার হন। সে সময় জান্তা সরকার দ্বারা গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয় প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ। মনে আছে, আমার বয়স তখন ছিল আট। বাবাকে দেখতে গিয়েছিলাম। দেখলাম বাবা মিলিটারি ব্যারাকের অসংখ্য কাঁটাতারের মধ্যে আবদ্ধ। এটা দেখতে ঠিক সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘গুলাগ’ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের মতোই ছিল।

দ্বিতীয় পর্ব

Leave a Reply