'রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক' বইয়ের ধারাবাহিক অনুবাদ: পর্ব-১৪

নারীদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ পড়ায় কোনো ফযিলত আছে কি?

সূরা জুমায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوٓا إِذَا نُودِىَ لِلصَّلٰوةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلٰى ذِكْرِ اللَّهِ

 “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্যে আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও।” (সূরা জুমা ৬২:৯)

এই আয়াতসহ যেসব আয়াতে মসজিদ ও মুমিনদের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিতেই নারী-পুরুষদের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

অথচ, ফিকাহ শাস্ত্রে রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত মতামত হলো– পুরুষদের মতো নারীদের জুমার নামাজ জামায়াতে আদায়ের বাধ্যবাধকতা নেই। এই মতামতের পেছনে রাসূলের (সা) কিছু সহীহ হাদীস প্রভাব ফেলেছে। যেমন: “জুমার নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করা নারীদের জন্য আবশ্যক নয়।”[1] এতদসত্ত্বেও, সম্ভব হলেই নারীদের জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করা উচিত।[2]

অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এর ব্যতিক্রম কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দলীল-প্রমাণ নেই। নিম্নোক্ত হাদীসটিতে স্বাভাবিকভাবেই নারীরাও অন্তর্ভুক্ত:

“কোনো ব্যক্তির একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে জামায়াতে নামাজ পড়ার ফযিলত ২৭ গুণ বেশি।”[3]

এছাড়া আবু হুরায়রার (রা) বর্ণনা মোতাবেক রাসূল (সা) বলেছেন,

“তোমাদের কেউ ঘরে বা বাজারে একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে জামায়াতে নামাজ পড়লে বিশ গুণের বেশি ফজিলত পাবে। এর কারণ হলো, যখন তুমি ভালোভাবে অজু করবে এবং শুধু জামায়াতে নামাজের নিয়তেই মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে, তখন প্রতিটি কদমের বিনিময়ে তোমার মর্যাদা এক ধাপ বাড়ানো হবে এবং একটি গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। এবং নামাজ আদায়ের পর যতক্ষণ কেউ নামাজের স্থানে বসে থাকবে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্যে এই বলে দোয়া করতে থাকে, ‘হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন; হে আল্লাহ, তার প্রতি রহম করুন; হে আল্লাহ, তার তাওবা কবুল করুন।’ এভাবে যতক্ষণ তোমার অযু ভঙ্গ না হবে এবং কারো ক্ষতিসাধন না করবে, ততক্ষণ ফেরেশতারা এই দোয়া করতে থাকবে। … এভাবে যতক্ষণ পরবর্তী নামাজের জন্য অপেক্ষা করবে এবং মসজিদ ত্যাগ না করবে, তোমার সেই সময়গুলো নামাজ হিসেবে গণ্য হবে।[4]

(চলবে)

[মূল: জাসের আওদা, অনুবাদ: জোবায়ের আল মাহমুদ]

অন্যান্য পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

রেফারেন্স:

[1] মুস্তাদরাক আলাস-সহীহাইন আল-হাকীম বলেছেন, “শায়খাইন তথা ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি সংকলন না করলেও তাঁদের প্রণীত মানদণ্ড অনুযায়ী এটি বিশুদ্ধ।” (১/৪২৫); সুনানে আবু দাউদ, ২/২৯৫, মুসান্নাফে আবু শায়বা, ২/১০৯, এবং মুসনাদে শাফেয়ী, ১/৬১।

[2] সুবুলুস সালাম, ২/৫৮

[3] সহীহ বুখারী, ১৩১/১।

[4] সহীহ বুখারী, ৬৬/৩।

জাসের আওদা
জাসের আওদাhttp://www.jasserauda.net
মাকাসিদে শরীয়াহর উপর একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। ‘মাকাসিদ ইনস্টিটিউট গ্লোবাল’ নামক একটি থিংকট্যাংকের প্রেসিডেন্ট। ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা, দ্য ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফতওয়া এবং ফিকহ একাডেমি অব ইন্ডিয়ার সদস্য। পড়াশোনা করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে ইসলামী আইন ও সিস্টেম অ্যানালাইসিসের উপর দুটি পিএইচডি করেছেন। বিভিন্ন দেশের বেশ কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। আরবী ও ইংরেজিতে প্রায় ২৫টি বইয়ের লেখক।

সাম্প্রতিক নিবন্ধ

ইসলামী রাজনীতি, অর্থনীতি, নারী অধিকার ও দ্বীন শিক্ষা প্রসঙ্গে আকরাম নদভী

গত ২২ জুলাই ২০২০ তারিখে ড. আকরাম নদভীর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন ড. ইয়াসির ক্বাদী। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ইয়াসির ক্বাদীর প্রশ্নের জবাব দেন।...

তালাকের যেসব নিয়ম আপনি জানেন না

এমন না যে তালাকের কোনো নিয়মই আপনি জানেন না। বরং, আমি অনেকখানি নিশ্চিত, আপনি যা জানেন, তা খণ্ডিত ও একপাক্ষিক। এক অর্থে, পুরুষতান্ত্রিক। এই...

পর্দা প্রসঙ্গে কোরআনের দলীলসমূহের পর্যালোচনা

পর্দা সংক্রান্ত সূরা আহযাবের আয়াতসমূহ: পর্দা সংক্রান্ত আয়াত রয়েছে কোরআনের সূরা আহযাব এবং সূরা নূরে। চলুন, আয়াতগুলোর অর্থ শুরুতে পড়ে নেই। প্রথমে সূরা আহযাবের ৩০-৩৩...

‌দুনিয়াবী শিক্ষাকে ইবাদতে পরিণত করা

পর্ব— এক ১. কথা বলছিলাম মাতৃস্থানীয়া একজন মুরুব্বীর সাথে। প্রায় জীবন সায়াহ্নে পৌঁছে যাওয়া এই নারীর গভীর জীবনবোধ আমাকে প্রায়ই চমৎকৃত করে। অথচ তিনি পড়াশোনা করেছেন...