রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক

ইসলামের সোনালী যুগে মসজিদে নারীদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ ছিল। মহানবীর (সা) ইমামতিত্বে মসজিদে নববীতে নারী-পুরুষ মিলে একই ফ্লোরে নামাজ আদায় করতেন। অথচ, বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল সমাজে হাতেগোনা ব্যতিক্রম বাদে মসজিদগুলোতে নারীদের প্রবেশাধিকারই নেই। যদিও ইসলামের দৃষ্টিতে সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হলো মসজিদ। মসজিদে নারীদের প্রবেশাধিকার, অবস্থান ও কার্যক্রম ইত্যাদি নিয়ে ড. জাসের আওদা 'Reclaiming the Mosque: The Role of Women in Islam’s House of Worship' শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। সিএসসিএস বইটির ধারাবাহিক অনুবাদ প্রকাশ করছে।

মূল: জাসের আওদা | অনুবাদ: জোবায়ের আল মাহমুদ

>> প্রথম পর্ব থেকে শুরু <<

রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক: কেন এই বই?

বর্তমানে মুসলিম সমাজের সর্বত্র নারীদের যে দুরবস্থা বিদ্যমান, এর পেছনে ইসলামে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা ও অযৌক্তিক মতামতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। এ বিষয়ে আশু কর্তব্য নির্ধারণ ও এই অবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। আমি আশা করছি, এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বইটি ভূমিকা পালন করবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এ বিষয়ে কথা বলা ও পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগী হওয়ার সাহস যোগাবে।

কীভাবে বুঝবো কোনো কিছু ‘ইসলামিক’ কিনা?

কয়েক বছর আগে আমি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গিয়েছিলাম। একদল মুসলিম তরুণ একদিন খুব উৎসাহ নিয়ে আমাকে ইতিহাসের প্রথম ‘ইসলামিক মুভি’ দেখার আমন্ত্রণ জানালো। আমি জানতে চাইলাম, ‘ইসলামিক মুভি’ বলতে তারা কী বুঝাচ্ছে? তারা বললো, তাদের শরিয়াহ কমিটি ঠিক করে দিয়েছে – সিনেমায় কোনো নারী চরিত্র এবং বাদ্যযন্ত্র আছে এমন গান থাকতে পারবে না। তাই মুভিটিতে নারীর পরিবর্তে পুরুষরাই মাথায় ওড়না পরে নারী চরিত্রে অভিনয় করেছে এবং কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই গান তৈরি করা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মুভির গল্পটা কী? তারা বললো, এখানে গল্প তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সহীহ বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত সাহাবীদের কথোপকথন নিয়ে মুভিটা বানানো হয়েছে। তখন আমি...

মসজিদ ও নারী প্রসঙ্গে কোরআনের বক্তব্য কী?

আল কোরআনে মসজিদ সম্পর্কিত কয়েক ডজন আয়াত আছে। সব আয়াতেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈমানদারদেরকে নিয়মিত মসজিদে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কিছু আয়াত তুলে ধরা হলো – قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ ۖ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ “(হে মোহাম্মদ!) আপনি বলে দিন, ‘আমার প্রতিপালক ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা প্রতিটি মসজিদে নিবিষ্ট মনে ইবাদত করবে এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকবে’।” (সূরা আরাফ: ২৯) يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক (নামাযের সময়) মসজিদে (যাওয়ার আগে) সাজসজ্জা করে নাও।” (সূরা আরাফ: ৩১) إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّـهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ...

মসজিদ ও নারী প্রসঙ্গে সুন্নাহর বক্তব্য

রাসূলের (স) যুগে প্রতিটি ঘটনা বা উপলক্ষ্যে মসজিদে নারীদের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি থাকতো। মহানবীর (সা) সুন্নাহ থেকে এ সম্পর্কিত শতাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে এখানে মাত্র কয়েকটি বর্ণনা তুলে ধরছি। একটি কাহিনী দিয়ে শুরু করা যাক। আয়েশার (রা) সূত্রে ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন। এক আফ্রিকান দাসীর ঘটনা। আরবের একটি গোত্র তাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিলো। তারপর ওই নারীকে মসজিদে নববীর ভেতর একটি তাঁবুতে থাকতে দেয়া হয়। ঘটনাটির তাৎপর্য সহজে বুঝার স্বার্থে পুরো বর্ণনাটি এখানে উদ্ধৃত করছি। আফ্রিকান তরুণীটি বলেন– “আমি যে গোত্রের দাসী ছিলাম, সেই গোত্রের একটি বাচ্চা মেয়ে মূল্যবান পাথর খচিত একটি লাল চামড়ার স্কার্ফ পরে বাইরে...

কীসের ভিত্তিতে নারীদেকে মসজিদে যেতে বাধা দেয়া হয়?

ইমাম তাবারানী বর্ণনা করেছেন, “বেলাল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) আমার নিকট বলেছেন, একদিন তাঁর বাবা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) তাঁকে বলেছেন, ‘আমি রাসূলকে (সা) বলতে শুনেছি– ‘তোমরা নারীদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিও না।’ বেলাল বললেন, ‘আমি অবশ্যই আমার ঘরের নারীদেরকে বাইরে যেতে বাধা দিবো। তবে কেউ যদি তাদের নারীদেরকে বাইরে যেতে বাধা না দেয়, তাহলে সেটা তার ব্যাপার।’ এ কথা শুনে আমার বাবা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন এবং আমাকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক! আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক! আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক! তুমি আমার কাছ থেকে শুনলে যে, নারীদেরকে বাধা না দিতে আল্লাহর...

‘মসজিদের চেয়ে ঘরে নামাজ পড়াই নারীদের জন্য উত্তম’ এই কথাটি কি রাসূল (সা) বলেছেন?

‘মসজিদের চেয়ে ঘরে নামাজ পড়াই নারীদের জন্য উত্তম’ এই কথাটি কি রাসূল (সা) বলেছেন? হ্যাঁ, বলেছেন। তবে কথাটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। রাসূলের (সা) এই কথাটি সব নারীর জন্যেও নয়, সবসময়ের জন্যেও নয়। পূর্ববর্তী অধ্যায়ে উম্মে হুমাইদ (রা) সম্পর্কে ইবনে হিব্বান ও আহমদ কর্তৃক উদ্ধৃত একটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছিলো– ‘তোমার জন্যে জামায়াতে নামাজ পড়ার চেয়ে ঘরে নামাজ পড়া উত্তম’। হাদীসটি সহীহ, কিন্তু উদ্ধৃত বর্ণনাটি অপূর্ণাঙ্গ। প্রচলিত বর্ণনাগুলোতে হাদীসটির প্রেক্ষাপট ও পূর্ণাঙ্গ ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়নি। যাইহোক, ইমাম তাবারানী, বায়হাকী, ইবনে আবু শাইবাহ, ইবনে আবু আসিমসহ অন্যান্য হাদীস সংকলকগণ এ ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁদের (বিশুদ্ধ) বিস্তারিত বর্ণনা থেকে জানা যায়, উম্মে হুমাইদের...

হাদীসে কি সত্যিই নারীদেরকে হেয় করা হয়েছে? অধিকাংশ নারীই কি ‘জাহান্নামী’?

কিছু হাদীসের বর্ণনায় দেখা যায়, সেগুলোতে নারীদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এসব বর্ণনা বেশ জনপ্রিয়। বিশেষত মসজিদে নারীদের ভূমিকার উপর এই সন্দেহজনক বর্ণনাগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা হোক, এই বর্ণনাগুলো নারীদের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কিত কোরআনের মূলনীতিরও বিপরীত। এছাড়া এসব বর্ণনা অসংখ্য শক্তিশালী হাদীসেরও বিপরীত, যেসব বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে, রাসূল (সা) নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করেছেন এবং তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা সহকারে মূল্যায়ন করেছেন। আমরা এমন কিছু বর্ণনা এখন তুলে ধরবো, যেগুলোতে রাসূলকে (সা) হয় ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে, নয়তো হাদীসের প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত অর্থ বাদ দিয়ে ভুল ব্যাখা দেয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি বর্ণনার কথা বলা যায়,...

মসজিদে নববীর গঠনকাঠামো যেমন ছিলো

মদীনায় রাসূল (সা) কর্তৃক নির্মিত মসজিদটির নকশা বর্তমানে বিশ্বের কোথাও নেই। এমনকি স্বয়ং মদীনাতেও নেই। বর্তমানে আরব বিশ্বে সাধারণত পুরুষদের নামাজের কক্ষ নারীদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক থাকে, বিশেষত পার্ক ও পাবলিক স্পেসগুলোতে। এমনকি একই ভেন্যুতে নারী-পুরুষের পৃথক দুটি নামাজের কক্ষ পাশাপাশি থাকে না, হেঁটে যাওয়ার মতো বেশ দূরত্ব বজায় রাখা হয়। আর বড় মসজিদগুলোতে পৃথক স্থান, পার্শ্ববর্তী ছোট কক্ষ কিংবা মূল বিল্ডিংয়ের সাথে লাগোয়া বারান্দায় নারীরা নামাজ আদায় করে। নারী ও পুরুষের নামাজের স্থানের ব্যবধান কড়াকড়িভাবে মেনে চলা হয়। মসজিদের মূল কক্ষে নারীদের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত, যদিও বা থেকে থাকে। পাশ্চাত্যের যেসব মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে...

মসজিদে ‘পুরুষদের প্রবেশপথ’ বলে কি কিছু আছে?

মসজিদে ‘পুরুষদের প্রবেশপথ’ বলে কি কিছু আছে? যদি রাসূলের (সা) দেখিয়ে যাওয়া পথই আমাদের জন্য অনুসরণীয় হয়, তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হলো– না। মসজিদে ‘নারীদের প্রবেশপথ’ যুক্ত হয়েছে রাসূলের (সা) পরবর্তী সময়ে, যেটি দিয়ে পুরুষদের ঢোকার অনুমতি ছিলো না। তবে নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করে শুধু পুরুষদের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রবেশপথ থাকার কোনো দৃষ্টান্ত রাসূলের (সা) সুন্নত কিংবা সাহাবীদের জীবনী থেকে পাওয়া যায় না। (পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরো ভালো করে বুঝা যাবে– সম্পাদক) আগের চ্যাপ্টারে উল্লেখিত চিত্রে দেখা যায়, রাসূল (সা) মসজিদে নববীতে তিনটি প্রবেশপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যেগুলো নারী-পুরুষ উভয়ে ব্যবহার করতো। সেগুলো হলো: ১। বাবে রহমত বা রহমতের দরজা। এটিকে...

শিশুদের কি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি আছে? তারা মসজিদের কোথায় নামাজ পড়বে?

রাসূলের (সা) যুগে ছোট বাচ্চাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া মা-বাবাদের জন্য ছিলো কমন একটি ব্যাপার। কিছুটা বড় বাচ্চারা পুরুষ ও নারীদের কাতারের মাঝখানে আলাদা কাতার করে দাঁড়াতো। এমনকি, কখনো কখনো বাচ্চারা নামাজের ইমামতি করার বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন– আমর ইবনে সালামাহ (রা)। আগের একটি অধ্যায়ে উল্লেখিত হাদীস থেকে জানা যায়, মাত্র সাত বছর বয়সে আমর (রা) নামাজের ইমামতি করেছিলেন। তবে বর্তমানে খুব কম বাচ্চারই মনোযোগ সহকারে নামাজ আদায় কিংবা ইমামতি করার প্রশিক্ষণ রয়েছে। এ কারণেই আমাদের ইসলামী শিক্ষার কারিকুলামে এবং পারিবারিক প্রোগ্রামে ‘মসজিদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ যুক্ত করাটা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় যদি তাদের মা-বাবারা সন্তানদেরকে মসজিদে নিজেদের সাথে রাখেন।...

মসজিদে কি নারী-পুরুষ পরস্পর কথা বলতে পারবে?

যেসব মসজিদে নারীদেরকে যেতে দেয়া হয়, সেখানেও মসজিদের ভেতর নারী-পুরুষের সাধারণ কথাবার্তাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হয়। কখনো কখনো কথাবার্তা বলার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এখনকার মসজিদগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলোর মধ্যে এটিও অন্যতম। মজার ব্যাপার হলো, ঠিক এই নারী-পুরুষরাই তাদের সামাজিক ও পেশাগত জীবনের অন্যসব ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে এবং অন্যান্যদের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলেন। আমরা যদি আবারো সুন্নাহর দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখি যে রাসূলের (সা) যুগে মসজিদে নারী-পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ছিলো। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে তাঁদের মাঝে স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো। এটা সত্য যে সীমালঙ্ঘনের কিছু ঘটনা হাদীসে এসেছে। কিন্তু সেগুলোকে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত সমস্যা  হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।...

মসজিদে শিষ্টাচারবিরুদ্ধ আচরণের বিষয়ে করণীয় কী?

সাহাবীদের সমাজ ছিলো মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সমাজ। যদিও তাঁরা রাসূলের (সা) মতো ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না। সকল সাহাবীর ঈমান এবং একীনও একই পর্যায়ের ছিলো না। সেই সমাজের অনেকেই ইসলামের জন্য নিজের জীবনবাজি রেখেছিলেন, এটি সত্য। কিন্তু সেই সমাজেরই কেউ কেউ আবার অন্যায় দৃষ্টি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, এটিও সত্য। এমনকি মসজিদের মতো পবিত্র অঙ্গনেও এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন: "একজন সুন্দরী নারী, যাকে সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের একজন হিসাবে গণ্য করা হতো, তিনি মসজিদে নববীতে নারীদের কাতারে নিয়মিত নামাজ পড়তেন। ওই নারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া থেকে বাঁচতে পুরুষদের অনেকে প্রথম কাতারে চলে যেতো; আবার কেউ...

নারীদের মসজিদে যাওয়ার উপযোগী পোশাক

মসজিদে যেতে হলে নারীদের কি বিশেষ কোনো পোশাক পরিধান করতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর হলো– না। পাবলিক প্লেস, নামাজ আদায় বা মসজিদে যাওয়ার সময় নারী-পুরুষের পোশাকের কোনো পার্থক্য আছে বলে রাসূলের (সা) সুন্নাহ থেকে কোনো ধরনের প্রমাণ মেলে না। এটা সত্য যে আয়েশা (রা) বলেছেন: “প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের আল্লাহ উপর রহম করুন। যখন ‘তারা যেন ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে নেয়’ শীর্ষক আয়াতটি নাযিল হলো, তখন তারা নিজের পরিধেয় কাপড় কেটে ওড়না বানিয়ে নেন। … মুমিন নারীরা তাদের ওড়না দিয়ে নিজেদের ঢেকে রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে ফজরের নামাজ পড়তে যেতেন এবং নামাজ শেষ হওয়ার পর পরই ঘরে ফিরে আসতেন।” অবশ্য “যা প্রকাশিত...

নারীদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ পড়ায় কোনো ফযিলত আছে কি?

সূরা জুমায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوٓا إِذَا نُودِىَ لِلصَّلٰوةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلٰى ذِكْرِ اللَّهِ  “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্যে আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও।” (সূরা জুমা ৬২:৯) এই আয়াতসহ যেসব আয়াতে মসজিদ ও মুমিনদের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিতেই নারী-পুরুষদের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। অথচ, ফিকাহ শাস্ত্রে রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত মতামত হলো– পুরুষদের মতো নারীদের জুমার নামাজ জামায়াতে আদায়ের বাধ্যবাধকতা নেই। এই মতামতের পেছনে রাসূলের (সা) কিছু সহীহ হাদীস প্রভাব ফেলেছে। যেমন: “জুমার নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করা নারীদের জন্য আবশ্যক নয়।” এতদসত্ত্বেও, সম্ভব হলেই নারীদের জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করা উচিত। অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে...

অমুসলিম নারী-পুরুষ কি মসজিদে প্রবেশ ও ইবাদত করতে পারবে?

দক্ষিণ আফ্রিকার একজন ধর্মান্তরিত মুসলমানের কাছ থেকে একবার আমি একটি তিক্ত ঘটনা শুনেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, ইসলাম গ্রহণের আগে দীর্ঘদিন তিনি ইসলামের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন নিকটবর্তী একটি মসজিদ পরিদর্শন করতে চাইলেন, তখন তাকে বলা হলো– যেহেতু তিনি অমুসলিম, তাই তার মসজিদে ঢোকার অনুমোদন নেই! তার কয়েকজন মুসলিম বন্ধু তাকে মসজিদ পরিদর্শনের অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে বছরখানেক চেষ্টার পর অবশেষে মসজিদের ইমামকে রাজি করাতে সক্ষম হন। মসজিদের পরিবেশ তার বেশ পছন্দ হয়। তিনি কোরআন পড়তে পারবেন কিনা, তা জানতে চান। কিন্তু তাকে বলা হয়, অমুসলিম হওয়ায় তিনি কোরআন স্পর্শ করার মতো যথেষ্ট পবিত্র নন! আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ এবং...

হায়েয চলাকালে নারীদের মসজিদে প্রবেশ, কোরআন পাঠ, কিংবা তাওয়াফ করা কি নিষিদ্ধ?

নারী-পুরুষ কারো জন্যই আল্লাহর ঘর কখনো ‘নিষিদ্ধ’ নয়– এই মতামতটি দিয়ে এ বিষয়ে কথা শুরু করতে চাই। যদিও ঋতুমতী নারীদের মসজিদে প্রবেশের ‘অনুমতি’ প্রদানের ব্যাপারে ফকীহগণের মাঝে মতভিন্নতা রয়েছে। শায়েখ ইউসুফ আল-কারযাভী এ প্রসঙ্গে একটি ফতোয়া দিয়েছেন, যেখানে তিনি এ সংক্রান্ত মতামতগুলোর পর্যালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন: “ঋতুমতী নারীরা মসজিদে অবস্থান করার বিষয়ে, অথবা সহবাসের পর নাপাক অবস্থায় নারী বা পুরুষ মসজিদে অবস্থান করতে পারবে কিনা, এ বিষয়ে ফকীহদের মাঝে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلٰوةَ وَأَنتُمْ سُكٰرٰى حَتّٰى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِى سَبِيلٍ حَتّٰى تَغْتَسِلُوا “হে ঈমাণদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের ধারে-কাছেও যেও...

মসজিদের সামাজিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণে কি বিধিনিষেধ রয়েছে?

মসজিদের সামাজিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ আছে কি? উত্তর হলো– না। রাসূলের (সা) যুগে নারীরা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নিচে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো, যার মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে: রুবায়ই বিনতে মুয়াব্বিয ইবনে আফরা (রা) বলেন, আশুরার দিন সকালে রাসূলুল্লাহ (সা) এক ব্যক্তিকে দিয়ে মদীনার পার্শ্ববর্তী আনসার গ্রামগুলোতে এই নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন: “রোযা অবস্থায় যার সকাল হয়েছে, সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। আর যে ইতোমধ্যে নাস্তা করে ফেলেছে, সেও যেন দিনের বাকি অংশটুকুতে রোযা রাখে।” তারপর থেকে আমরা ওই দিন রোযা রাখতাম এবং আল্লাহর চাহে তো আমাদের বাচ্চাদেরকেও রোযা রাখাতাম। আমরা সাধারণত মসজিদে...

নারীরা কি পুরুষদের উদ্দেশ্যে মসজিদে লেকচার দিতে পারে?

রাসূল (সা) সাধারণত তাঁর মসজিদে মানুষদেরকে শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দিতেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সাহাবীগণও তা অব্যাহত রাখেন। অবশ্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার যে প্রথা, সে অনুযায়ী রাসূলের (সা) যুগে কোনো নারী বা পুরুষ শিক্ষা দিয়েছেন বলে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে ইসলামের প্রথম যুগে রাসূলে (সা) হাজার হাজার হাদীস নারীদের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। নারী সাহাবীগণ, বিশেষত রাসূলের (সা) স্ত্রীগণ হলেন তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে জানার অন্যতম প্রধান উৎস। বাস্তব সত্য হলো, রাসূলের (সা) যুগের পরবর্তীকালে পাণ্ডিত্য অর্জনের অন্যতম একটি দিক ছিলো, পুরুষ মুহাদ্দিসগণ সাধারণত নারী সাহাবী ও তাঁদের ছাত্রদের নিকট থেকে বর্ণিত হাদীস শিখতেন। আমাল কুরদাশ ‘প্রথম তিন শতাব্দীতে হাদীস চর্চায় নারীদের...