আমাদের পরিচয়
আমাদের সম্পর্কে আরো জানুন
কীভাবে শুরু হলো
ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক একটা সুন্দর সমাজ গড়তে আগ্রহীদের পর্যবেক্ষণে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ও আন্দোলনসমূহের মাধ্যমে সমাজের এ ধরনের গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নতুন শতাব্দীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে মহাবিস্ফোরণ ঘটে চলেছে এবং তার ফলে তত্ত্ব, আদর্শ ও মূল্যবোধের যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিরসনের জন্য নতুন ধরনের তাত্ত্বিক কাঠামো, নীতি ও মতাদর্শ চর্চার নতুন ধরন উদ্ভাবন ও ব্যাপক প্রচলন জরুরি। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতি-উপনিবেশবাদী তত্ত্বসমূহ তেমন আর উপযোগী নয়।
যেমনটা বলা হলো – পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতা গড়ার পদ্ধতিগত এই নতুন ধরনের কাজ অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে। এর মানে শ্বাশ্বত জীবনবোধ তথা মূল্যবোধের আমূল কোনো পরিবর্তন নয়; বরং চিরন্তন মূল্যবোধসমূহের যুগোপযোগী ও নবতর কাঠামো নির্মাণ, সেসবের উপস্থাপনা ও গণচর্চা জরুরি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুণ সমাজকর্মী ২০০১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্র’ [Centre for Social & Cultural Studies (CSCS)] নামে বিকল্পধারায় স্বাধীন ও স্বতন্ত্র কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সীমিত আকারে শুরু করে। প্রায় এক দশক অনিয়মিতভাবে চলার পর বুদ্ধিবৃত্তি ও সংস্কৃতি চর্চার এই ধারাটি গত জুন, ২০১৩ হতে একটি ব্যক্তি-উদ্যোগনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসাবে অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে নিয়মিত ও কিছুটা-আনুষ্ঠানিক (quasi-formal) ধরনে এর কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।


লক্ষ্য
সিএসসিএস একটি গবেষণাধর্মী অধ্যয়ন কেন্দ্র। এর লক্ষ্য হলো মুক্ত জ্ঞান চর্চার আন্দোলন পরিচালনার মাধ্যমে চিরায়ত সামাজিক মূল্যবোধসমূহের লালন ও বিকাশ সাধনে সহায়তা প্রদান। আমরা মনে করি, বিদ্যমান নানা ধরনের মত ও পথের আপাত বিরোধ ও বৈপরিত্য সত্বেও সমাজের সর্বস্তরের সচেতন মানুষের ন্যায় ও কল্যাণ সম্পর্কে ধারণা এবং এগুলো কায়েমের আকাঙ্খা প্রায় অভিন্ন। বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো অনেকাংশেই প্রয়োগ-পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। মূল্যবোধের অভিন্নতার ওপর ফোকাস না করে সাধারণত বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়, যা সমাজে বিভক্তি ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাসমৃদ্ধ জনপরিমণ্ডল নির্মাণ সম্ভব। এই জনগোষ্ঠীর মূল সমস্যা হলো জ্ঞানের, উপলব্ধির ও দৃষ্টিভঙ্গির। অফুরন্ত সম্ভাবনাময় এ জীবন ও জগতকে গড়ে তোলার জন্য মননের এই জায়গায় কাজ করাকে আমরা জরুরি মনে করি।
মতাদর্শিক অবস্থান
যে কোনো বাস্তব কার্যক্রমেরই কোনো না কোনো মতাদর্শিক অবস্থান থাকে – ঘোষিত কিংবা অঘোষিতভাবে। দর্শনের দিক থেকে ব্যাপারটা এমন যে, সচেতন বা অবচেতনভাবে হোক, মানুষ কোনো না কোনো দার্শনিক তত্ত্ব বা মতাদর্শে নিজেকে আইডেন্টিফাই করে কিংবা করতে বাধ্য হয়।
কার্যক্রমের প্যাটার্ন অনুসরণ করে যে কোনো ‘নিরপেক্ষ’ প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা সংস্থার ফিলোসফিক্যাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। থিংকট্যাংকসমূহ সাধারণত স্বীয় মতাদর্শগত প্রেফারেন্সকে অন্তরালে রেখে কাজ করে। এই প্রচলিত রীতির বিপরীতে সিএসসিএস চিরায়ত সামাজিক মূল্যবোধসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য ইসলামী মতাদর্শকে সামগ্রিকভাবে গাইডিং প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে গ্রহণ করেছে। এর বাইরে ধর্ম বা রাজনৈতিক আদর্শ হিসাবে ইসলাম অনুসরণের ব্যাপারে সিএসসিএস-এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নাই। এ বিষয়ে পক্ষ-বিপক্ষের দৃশ্যমান ধারাগুলোকে সিএসসিএস নির্মোহ (indifferent) দৃষ্টিতে দেখে।
গ্রুপ অব মেন্টরস
কোনো একজন বিশেষ স্কলারকে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব (mentor) হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে নিম্নোক্ত সমকালীন চিন্তাবিদগণকে আমরা মোটাদাগে ফলো করি: ড. ইউসুফ আল কারযাভী, ড. রশিদ ঘানুশী, ড. হাসান তুরাবী, ড. জামাল বাদাবী, ড. তারিক রমাদান, ড. তারেক আল সোয়াইদান, ড. মেহমেদ গরমেজ, ড. ইয়াসির ক্বাদী, ড. জাসের আওদা, জনাব নোমান আলী খান প্রমুখ।
কর্মসূচি
প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহে অধ্যয়ন ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা এবং সেগুলোর প্রকাশনা সিএসসিএস-এর মূল কাজ।
বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের সাথে সম্পর্ক
শিক্ষা, সাহিত্য ও নন্দন চর্চার নানাবিধ ধরনের পাশাপাশি স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগনির্ভর পাঠাগার আন্দোলন, চলচ্চিত্র আন্দোলন ও সামাজিক সহায়তামূলক কার্যক্রমের তাত্ত্বিক বিরোধ নিরসনের ক্ষেত্রে সিএসসিএস বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করে। যার লক্ষ্য হলো সমাজের নানা মত ও পথে বিভক্ত বৃহ্ত্তর জনগোষ্ঠীকে ন্যায় ও কল্যাণের ভিত্তিতে দেশ, জাতি ও সভ্যতা নির্মাণের কর্মপ্রচেষ্টায় ঐক্যবদ্ধ করা। স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্যের মাঝে একটি ইতিবাচক ও সমন্বয়ী ধারা তৈরি করা। সবাইকে একই মত-পথে আনা অর্থে ঐক্যবদ্ধ করার মতো অবাস্তব চিন্তা ও চেষ্টার পরিবর্তে প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থাকতে দিয়ে অভিন্ন ও ইতিবাচক মূল্যবোধের সূত্রে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করাই হলো সিএসসিএস-এর কর্মনীতি।
উদ্দীষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সিএসসিএস-এর পরিচালকবৃন্দ কোনো প্রকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট নন। কোনো ধরনের কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো ধরনের বিরোধে না জড়ানো আমাদের অন্যতম মূলনীতি। যে কেউ চাইলে কেন্দ্রের অধ্যয়ন ও গবেষণাকর্মে অংশগ্রহণ করতে পারে। এ ধরনের আগ্রহী কারো কোনো ধরনের সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে সেটি তার নিতান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবে বিবেচিত হবে।
অনেকেই রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা সাংস্কৃতিক দিক থেকে কোনো না কোনো সংগঠনের সাথে জড়িত। তৎসত্বেও কিছু সৎ ও চিন্তাশীল ব্যক্তি আমাদের সমাজে আছে যারা কোনো দল বা সংগঠনের সাথে জড়িত নয়। আমাদের পর্যবেক্ষণে, এই সংখ্যাটি দেশের মোট জনগোষ্ঠীর আনুমানিক শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ। এরাই হচ্ছে সিএসসিএস-এর উদ্দীষ্ট ব্যক্তিবর্গ (target people)।
তহবিল
‘সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্র’ (সিএসসিএস) একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এর পরিচালক অবৈতনিক হিসাবে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির সকল অর্থ পরিচালকের ব্যক্তিগত অনুদান থেকে প্রাপ্ত।