যাবতীয় প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর উপর। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক রাসূল (সঃ) এর পরিবার ও সাহাবীদের জামাতের উপর। আল্লাহর দয়া ও রহমত বর্ষিত হোক আপনি ও আপনার পরিবারের উপর। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিরাপদ রাখুন যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে এবং তিনি আমাদের দ্বীন ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দিন।

গত কয়েক বছরে ইসলামি সমাজে যে কয়েকটি শব্দ ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিশেষ করে আমাদের ধর্মপ্রাণ মা-বোনদের আবেগকে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘রুকিয়া’ শব্দটি তার মধ্যে অন্যতম। একটি বিশেষ শ্রেণি এই শব্দটিকে রীতিমত একটি ডকট্রিনে রূপান্তর করেছেন।

এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের বন্ধুমহলে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কখনো কিছু লেখার আগ্রহ আমার মধ্যে তৈরী হয়নি। কিন্তু আমার পরিচিত মহলে রুকিয়া কেন্দ্রিক কিছু ভুল ধারণা আছে। এবং তাদের পরিবারের অনেকেই (বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত মা-বোনরা) বিষয়টি না বুঝেই এর পিছনে নিজের কষ্ট অর্জিত অর্থ ব্যয় করছেন। তাছাড়া আমার পরিচিত সম্মানিত এক বড় ভাই মানুষকে সচেতন করার জন্য এই বিষয়ে লিখতে বলেছেন। তাই না লিখে আর পারলাম না। সঠিক কিছু লিখে থাকলে আল্লাহর রহমতে লিখতে পেরেছি। আর ভুল কিছু লিখলে তার জন্য আমিই দায়ী।

প্রথম কথা, কোরআন ও হাদীসের দোয়া দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা শরীয়া সম্মত। কিন্তু আমরা যেভাবে প্রচুর অর্থ খরচ করে রুকি বিশেষণে বিশেষায়িত ব্যক্তিদের দিয়ে ঝাড়ফুঁক করাচ্ছি, যাদের কাছে যাওয়ার পর আমরা জানতে পারছি জীনের আছর অথবা যাদু করা হয়েছে তা কতটুকু যৌক্তিক? এই বিষয়ে আমরা হাদীসগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করব।

হাদীস নাম্বার ১

আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একদল সাহাবী এক সফরে বের হন। এক পর্যায়ে তারা এক বেদুঈন মহল্লায় যাত্রা বিরতি করলেন এবং মহল্লার লোকদের কাছে মেহমানদারির আবদার করলেন। তারা মেহমানদারি করতে অস্বীকৃতি জানালো। ইতোমধ্যে মহল্লার সর্দারকে কোনো কিছু কামড় দিল। তাকে সুস্থ করার জন্য তারা সব ধরনের চেষ্টা চালালো; কিন্তু কোনো কাজ হলো না। অবশেষে তাদের একজন বললো: এখানে যারা যাত্রা বিরতি করেছে আমরা তাদের কাছে যাই, হতে পারে তাদের কারো কাছে কোনো কিছু থাকতে পারে। প্রস্তাবমতো তারা এসে বলল: ওহে কাফেলা! আমাদের সর্দারকে কিছু একটা কামড় দিয়েছে। আমরা সব চেষ্টা করেছি; কাজে আসেনি। তোমাদের কারো কাছে কি কিছু আছে? সাহাবীদের একজন বললেন: আল্লাহ্‌র শপথ! হ্যাঁ। আমি ঝাড়ফুঁক করি। তবে আমরা তোমাদের কাছে মেহমানদারির আবদার করেছি, কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারি করোনি। আল্লাহ্‌র কসম! আমি ঝাড়ফুঁক করব না; যদি না তোমরা আমাদের জন্য কোনো সম্মানি নির্ধারণ না কর। অবশেষে একপাল মেষ দেওয়ার ভিত্তিতে উভয়পক্ষ একমত হলো। সেই সাহাবী গিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (তথা সূরা ফাতিহা) পড়ে তার গায়ে থুথুসমেত ফুঁ দিতে লাগলেন। এক পর্যায়ে সর্দার লোকটি যেন বন্ধন থেকে মুক্ত হল, সে উঠে হাঁটা শুরু করল, যেন তার কোনো রোগ নাই। বর্ণনাকারী বলেন: মহল্লাবাসী যে সম্মানি দেওয়ার চুক্তি করেছিল সেটা তাদেরকে প্রদান করলো। তখন এক সাহাবী বললেন: বণ্টন করে ফেলো। কিন্তু ঝাড়ফুঁককারী সাহাবী বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে যা ঘটেছে সেটা বর্ণনা করার আগে বণ্টন করবে না। আমরা দেখি, তিনি আমাদেরকে কী নির্দেশ দেন। তারা রাসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসার পর তাঁকে ঘটনাটি জানালো। তখন তিনি বললেন: কীসে তোমাকে জানালো যে, এটি (সূরা ফাতিহা) ঝাড়ফুঁকের উপকরণ (রুকিয়া)। এরপর বললেন: তোমরা ঠিকই করেছো, ভাগ করে ফেলো, তোমাদের সাথে আমাকেও এক ভাগ দিও। এই বলে তিনি হেসে দিলেন।” [সহীহ বুখারী (২১৫৬) ও সহীহ মুসলিম (২২০১)]

এই হাদীসটি হলো রুকিয়া করে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল। এই হাদীসটি বিশুদ্ধ হাদীস। কিন্তু আমাদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় সেভাবে না দেখে ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেখলেই আমরা আরো ভালোভাবে বুঝবো। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে:

০১। ঐ সম্মানিত সাহবী বলেছেন, “আমরা তোমাদের কাছে মেহমানদারি চেয়েছি তোমরা আমাদের মেহেমানদারী করোনি।” একথায় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে যদি তারা সাহাবীদের খাওয়াতো তাহলে ওই সাহাবী বিনিময় নিতেন না। অর্থাৎ নিতান্ত অপারগ হয়ে বিনিময় নিয়েছেন।

০২। ইবনে কাছিরে খুব সম্ভবত সুরা ফাতিহার তাফসীরে এই হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাড়তি কিছু কথা আছে যে, যদি সুস্থ হয় তাহলে আমাদেরকে কি দিবে। অর্থাৎ এর সাথে সুস্থ হওয়ার সম্পর্ক আছে। কেউ অর্থ নিতে হলে অসুস্থ ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরে নিতে হবে।

০৩। এই হাদীসের কোথাও পাবেন না রাসূল (সঃ) রুকিয়াকে পেশা হিসাবে নিতে উৎসাহিত করেছেন।

০৪। এই ধরনের আরো কিছু ঘটনার হাদীস পাওয়া গেলে অর্থের বিনিময়ে রুকিয়া করাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার পক্ষে শক্ত দলিল পাওয়া যেত।

০৫। আপনি এমন কোনো হাদীস পাবেন না রাসূল (সঃ) কাউকে উৎসাহিত করেছেন তোমারা রুকিয়া করাও বা রুকিয়া করাকে পেশা হিসাবে নাও।

০৬। ঐ সম্মানিত সাহাবী অর্থের বিনিময়ে রুকিয়া করাকে পেশা হিসাবে নিয়েছিলেন কিনা তা জানা যায় না। যদি নিয়েও থাকেন তাহলে শুধুমাত্র ঐ সাহাবীর সাথেই সম্পর্কযুক্ত। যেমন রাসূল (সঃ) এক সাহাবীকে প্রতি ওয়াক্তে সূরা ইখলাস পড়ার অনুমতি দিয়েছেন যা অন্য কারো জন্য নয়।

০৭। রাসূল (সঃ) কাউকে উৎসাহিত করেননি যে তোমাদের মধ্যে কাউকে কিছু কামড় দিলে ঐ সাহাবীর নিকট গিয়ে রুকিয়া করাও। কিন্তু আপনি হাদীস পাবেন রোগব্যাধিতে রাসূল (সঃ) ডাক্তার দেখাতে বলেছেন।

হাদীস নাম্বার ২

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, “রাসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যখন অসুখ হতো তখন তিনি ‘মুআওয়িযাত’ পড়ে নিজেকে নিজে ফুঁক দিতেন। যখন তাঁর ব্যথা তীব্র হলো তখন আমি মুআওয়িযাত’ পড়ে তাঁকে ফুঁক দিতাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাত দিয়ে মোছন করতাম; তাঁর হাতের বরকতের প্রত্যাশায়।” [সহীহ বুখারী (৪১৭৫)] ও সহীহ মুসলিম (২১৯২)]

এই হাদীসে দেখেন রাসূল (সঃ) নিজে নিজেকে ঝাড়ফুঁক করছেন, কষ্ট হলে আমাদের মা আয়েশা (রাঃ) দোয়া পড়ে রাসূলের হাতে ফুঁ দিচ্ছিলেন। কোনো সাহাবীকে ডেকে আনতে বলেননি।

হাদীস নাম্বার ৩

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, “তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ও হুসাইনকে ঝাড়ফুঁক করতেন এবং বলতেন: নিশ্চয় তোমাদের পিতা (অর্থাৎ ইব্রাহিম আঃ) এই দোয়া দিয়ে ইসমাঈল ও ইসহাক্বকে ঝাড়ফুঁক করতেন:

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّة

(অর্থ- আমি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাণীসমূহ দিয়ে প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী ও প্রত্যেক অনিষ্টকর চক্ষু (বদনযর) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)।” [সহীহ  বুখারী ৩১৯১]

এই হাদীসে দেখেন রাসূল (সাঃ) নিজে ঝাড়ফুঁক করছেন। তবে যাদেরকে করছেন তারা রাসূলের অত্যন্ত আদরের নাতি হাসান (রাঃ) ও হোসাইন (রাঃ)। অন্য কাউকে নয়। এই হাদীস থেকে আমরা শিক্ষা পাচ্ছি কুরআনের ও হাদীসের দোয়া দিয়ে নিজেরাই ঝাড়ফুঁক করা, অন্য কারো কাছে না যাওয়া।

হাদীস নাম্বার ৪

উসমান বিন আবিল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, “ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তার শরীরে একটা ব্যথা করে মর্মে তিনি রাসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আপনার শরীরের যে স্থানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে আপনার হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ্‌’ বলুন এবং সাতবার বলুন:

أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأَحَاذِر

(আমি যে অনিষ্ট পাচ্ছি ও যে অনিষ্টের আশংকা করছি তা থেকে আল্লাহ্‌র ইজ্জত ও কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)” তিরমিযিতে আরেকটু বাড়তি কথা আছে: “তিনি বলেন: আমি তা করলাম। ফলে আল্লাহ্‌ আমার সে ব্যথা দূর করে দেন। এখনও আমি আমার পরিবারকে ও অন্যদেরকে এভাবে করার আদেশ দিই।” [আলবানী ‘সহীহুত তিরমিযি’ গ্রন্থে (১৬৯৬) হাদীসটিকে সহীহ  বলেছেন]

এই হাদীসে খেয়াল করেন, রাসূল (সঃ) ঐ সাহাবীকে দোয়া শিক্ষা দিচ্ছেন এবং নিজেই নিজেকে ঝাড়ফুঁক করতে বলছেন। রাসূল (সঃ) ওই সাহাবীকে ঝাড়ফুঁক করেননি এবং অন্য কারো নিকট যেতেও বলেননি।

মোটামুটি এই হাদীসগুলোই যারা রুকিয়া করে তারা ব্যবহার করে। যা নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম। এবার আসুন দেখি যারা রুকিয়া করবে না তাদের ব্যাপারে রাসূল (সঃ) কী বলেন:

সহীহ মুসলিম (২২০)-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উদ্ধৃত, এই উম্মতের সত্তর হাজার লোক যারা বিনা-হিসাবে ও বিনা-শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন: “তারা ঝাড়ফুঁক করে না, ঝাড়ফুঁকের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হয় না, কুলক্ষণে বিশ্বাস করে না; বরং তারা তাদের রব্বের উপর তাওয়াক্কুল করে।”

“তারা ঝাড়ফুঁক করে না”, এ কথাটি বর্ণনাকারীর প্রমাদ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কথা বলেননি। তাই ঈমাম বুখারী (৫৪২০) এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু এ অংশটি উল্লেখ করেননি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন:

“তিনি এ লোকদের এ জন্য প্রশংসা করেছেন যে, “ঝাড়ফুঁকের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হয় না” অর্থাৎ অন্যকে বলে না যে, আমাকে ঝাড়ফুঁক করুন। ঝাড়ফুঁক দোয়া শ্রেণীর আমল। তাই তারা কারো কাছে এটি তলব করে না। এ হাদিসে “তারা ঝাড়ফুঁক করে না” এমন কথাও বর্ণিত আছে। কিন্তু সেটা ভুল। যেহেতু নিজেরা নিজেদেরকে ঝাড়ফুঁক করা কিংবা অন্যদেরকে ঝাড়ফুঁক করে দেওয়া নেক আমল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নিজেকে ঝাড়ফুঁক করতেন এবং অন্যকেও ঝাড়ফুঁক করতেন; কিন্তু তিনি ঝাড়ফুঁক করার জন্য কাউকে অনুরোধ করতেন না।

আমরা মূলত প্রথম অংশ নিয়ে কথা বলব। যারা ঝাড়ফুঁক করে না তাদের জন্য জান্নাতের সসুংবাদ।

এই হাদীসের ব্যখ্যায় কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফাওয়াজ বলেন, “ঝাড়ফুঁক করে না বলতে বুঝানো হয়েছে যারা অন্যের নিকট গিয়ে নিজেকে ঝাড়ফুঁক করেনা। কেননা এর মাধ্যমে তার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হবে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন না। যা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত অপছন্দীয় ও ঘৃণীত কর্ম।”

শায়েখকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বাংলাদেশে অনেকে অর্থের বিনিময়ে ঝাড়ফুঁক করে এবং রুকিয়া করারকে পেশা হিসাবে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা অর্থ উপার্জন করে।

শায়েখ খুবই অবাক হয়েছিলেন এবং তিনি এটাকে পেশা হিসাবে নেওয়াকে অপছন্দ করেছেন। এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিম বিশেষ করে নারীরা প্রতারিত হচ্ছেন বলে তিনি খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন।

তাছাড়া ঝাড়ফুঁকে কী দোয়া করা হচ্ছে তা তারা জানতে পারছেনা। কিন্তু হাদীস থেকে প্রমাণিত মানুষদেরকে দোয়াগুলো শিক্ষা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। যাতে তারা নিজেরা নিজেদের ও পরিবারকে শিক্ষা দিতে পারে এবং নিজেরা নিজেদের ঝাড়ফুঁক করতে পারে। এবং অন্যের নিকট যেতে না হয়।

এরপর শায়েখ ফাওয়াজ বলেন, “আমি জানিনা ফিকহের চার ঈমাম, হাদীদের ৬ ঈমাম এবং বর্তমানে কোনো শায়েখ রুকিয়া করাকে পেশা হিসাবে নিয়েছে। আমি আমার শিক্ষকদেরকেও দেখি নাই ঝাড়ফুঁক করেছেন। তবে তারা বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। কাজেই আমি এমনটা করাকে অনুচিৎ মনে করি।”

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রাঃ) জীবনীতে একটা ঘটনা পাওয়া যায় যে, তার স্ত্রী একবার এক বৃদ্ধ মহিলা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করালেন। তিনি তা দেখে খুবই রাগান্বিত হলেন এবং বললেন ঐ বৃদ্ধা কুফরি বাক্য পড়ে ঝাড়ফুঁক করে যা শিরক। তিনি তার স্ত্রীকে সূরা ফাতিহা শিক্ষা দিলেন কিন্তু তিনিও তার স্ত্রীকে ঝাড়ফুঁক করলেন না।

প্রিয় পাঠক, আমি আমার লেখায় বুঝাতে চেয়েছি অর্থ খরচ করে অন্য কারো মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক না করা, বরং শরীয়া সম্মত দোয়া দিয়ে নিজেই নিজের ঝাড়ফুঁক করেন। ঝাড়ফুঁক মুলত দোয়া। দোয়া করা একটি ইবাদত। কাজেই অর্থ খরচ করে কারো নিকট না গিয়ে নিজেই নিজের জন্য দোয়া করেন। এর মাধ্যমে আপনি তিন ভাবেই লাভবান হবেন। আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। দোয়া করার কারণে আপনি ইবাদতে লিপ্ত থাকবেন, আর ইবাদত করার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবেন। যা আল্লাহ তাআলা আপনার নিকট চান। এ ব্যাপারে আল্লাহই ভালোই জানে।

একটি মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন