মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭
হোম > ডকুমেন্টারি অনুবাদ > মদীনা: আরবের প্রথম সিভিল স্টেট

মদীনা: আরবের প্রথম সিভিল স্টেট দ্য লাইফ অব মোহাম্মদের অনুবাদ: পর্ব-৮

মদীনায় নতুন জীবন

মোহাম্মদ (সা) ও তাঁর সাহাবীরা মক্কার সাথে ইয়াসরিবের কোনো মিলই খুঁজে পেলেন না। ইয়াসরিব ছিলো মূলত একটি বিশাল মরুদ্যান। অনেকগুলো বস্তি নিয়ে শহরটি গড়ে ওঠেছে। প্রত্যেক বস্তিতেই একেকটা গোত্রের প্রাধান্য ছিলো। সেখানে গোত্রগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং এর পরিণামে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ঘটতো।

মহানবীর (সা) সম্মানে পরবর্তীতে ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মদীনাতুন নবী তথা নবীর শহর। সংক্ষেপে বলা হয় মদীনা। এ ব্যাপারে বারনাবি রজারসন বলেন,

মহানবীর সাথীরা এসেছিলেন একদম খালি হাতে। মক্কার অভিজাত ব্যবসায়ী থেকে তাঁরা হঠাৎ করেই গরীব ও নিঃস্ব মানুষে পরিণত হলেন। বিত্তশালী মরুদ্যানটিতে তাঁরা পুরনো ছেঁড়া কাপড় পরে থাকতেন। নতুন পরিবেশে এসে রুটি-রুজির জন্য তাঁরা ভুট্টা চাষ করেছেন, মাদুর বুনেছেন। এভাবে তারা পরিস্থিতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিলেন।

মদীনা মিউজিয়ামের কর্মকর্তা খালিদ আল খায়েরের সাথে এ বিষয়ে আমার নিম্নোক্ত কথাবার্তা হয়–

– মোহাম্মদ (সা) যখন মদীনায় আসেন, তখন মদীনার অবস্থা কেমন ছিলো?

তখনো মদীনা পরিপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে ওঠেনি বলতে পারেন, ছোট ছোট সম্প্রদায় মিলে

– তারমানে, বিভিন্ন গোত্র ও সম্প্রদায় মিলে মদীনার সমাজ গড়ে ওঠেছিলো?

হ্যাঁ, তাই মদীনার কেন্দ্রস্থলে মহানবী (সা) আনসারদের মূল অংশটি বসবাস করতেন কুবা কেবলাতাইন এলাকায় অনেকে বসবাস করতো মদীনার পূর্ব দক্ষিণাঞ্চলে ছিলো ইহুদীদের বাস অনেকগুলো গোত্র এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চলকে তখন মদীনা নামে ডাকা হতো

মসজিদে নববী

স্বাধীন পরিবেশে মোহাম্মদ (সা) মদীনায় একটি নিজস্ব মসজিদ নির্মাণ করেন। এই মসজিদটি ছিলো তাঁর ঘরের বর্ধিত অংশ। খালিদ আল খায়েরের সাথে এ প্রসঙ্গে আমার কথোপকথন–

– মদীনায় মহানবীর (সা) নির্মিত প্রথম মসজিদটি সম্পর্কে কিছু বলুন।

মদীনার কেন্দ্রস্থলে তিনি একটি জায়গা পেয়েছিলেন। সেখানেই তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

– এই জাদুঘরে মসজিদটির তৎকালীন আকৃতির একটি রেপ্লিকা রয়েছে দেখেছি। মদীনায় এখন যে মসজিদে নববী, সেটি দুনিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও প্রধানতম মসজিদ। অন্যদিকে রেপ্লিকাটি একদম সাদামাটা। এর সাথে তো বর্তমান মসজিদটির বিশাল পার্থক্য রয়েছে…।

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন কিন্তু দেখুন, আমরা ১৪শ বছর আগের কথা বলছি তখন মসজিদটি ছিলো খুবই সাদামাটা দৈর্ঘ্যে ৫৫ মিটার, আর প্রস্থে ৩৫ মিটার তৎকালীন মদীনার অন্যান্য আবাসস্থলের মতোই এটি নির্মিত হয়েছিলো কাদামাটি দিয়ে ফাউন্ডেশনে ব্যবহার করা হয়েছিলো পাথর ছাদে ব্যবহৃত হয়েছিলো খেজুর গাছ মসজিদের পেছনের অংশের ছাদ খোলা রাখা হয়েছিলো

সেই মসজিদটিই কালের বিবর্তনে আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মসজিদে নববীতে একইসাথে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে।

মোহাম্মদ (সা) মসজিদটিকে সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এখানে তিনি শুধু ধর্মীয় কাজই করতেন না, অফিস হিসেবেও মসজিদটিকে তিনি ব্যবহার করতেন। এখানে বসে তিনি লোকদের নানা রকম বিরোধ মিটিয়ে দিতেন, বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন, পাবলিক ডিবেটের আয়োজন করতেন। ইহুদী, খ্রিস্টান, কাফের, এমনকি দাস-দাসীসহ যে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারতো। সেখানে তাঁর সাথে বসে সবাই কথা বলতে পারতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, মসজিদটি প্রতিষ্ঠার ফলে তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ এখানে এসে শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত করতে পারতেন।

আজানের প্রচলন

এবার তাঁরা নতুন এক সমস্যায় পড়লেন। নিরাপদে ইবাদত করার সুযোগ তো হলো, কিন্তু নামাজের সময় হলে লোকজনকে ডাকার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা তখনো পর্যন্ত ছিলো না। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, একদিন মহানবী (সা) সবাইকে মসজিদের আঙিনায় জড়ো করলেন। নামাজের জন্য ডাকার সবচেয়ে ভালো উপায় কী হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করা ছিলো উদ্দেশ্য। লোকজনকে খ্রিস্টানদের মতো ঘণ্টা বাজিয়ে ডাকা হবে, নাকি ইহুদীদের মতো সাইরেন বাজিয়ে ডাকা হবে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে, যেমন– আগুন জ্বালিয়ে নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে, তা নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হলো। অবশেষে মানুষের কণ্ঠে নামাজের আহ্বান তথা আজান প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত হলো। এটি নতুন ধর্ম হিসেবে ইসলামকে বিশেষায়িত করে।

আজান দেয়ার জন্য মোহাম্মদ (সা) প্রথমে যাকে মনোনীত করেন, সেটিও ছিলো যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন একজন মুক্ত আফ্রিকান দাস। তাঁর নাম ছিলো বেলাল (রা)। তিনি মক্কায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, তখন আরবের সর্বত্রই দাসব্যবস্থার প্রচলন ছিলো। মোহাম্মদ (সা) এই ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ না করলেও তিনি ও তাঁর সাহাবীরা বেলালের মতো আরো অনেক দাসকে মুক্ত করেছিলেন। নামাজের ওয়াক্তে মসজিদের ছাদে ওঠে বেলাল (রা) উচ্চস্বরে আজান দিতেন।

তখন থেকেই এটি মুসলমানদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। বিশ্বব্যাপী এখনো আজানের বাক্য হুবহু একইরকম। তবে স্থানভেদে এর সুরের পার্থক্য রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে মসজিদ ও এর স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত মিনার ইসলামের অন্যতম প্রতীকী চিহ্নে পরিণত হয়েছে। ইসলামে মসজিদের তাৎপর্য সম্পর্কে ম্যারল ওয়েন ডেভিস বলেন,

মসজিদ নিছক ইবাদতের স্থান নয়। মসজিদ হলো সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, ইসলামের মিশন হলো মানুষকে সংশোধন করা। এই মিশন বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই মসজিদকে কেন্দ্র করে সমাজের জন্য কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, অভাবী মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে  হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ একইসাথে একটি শিক্ষাকেন্দ্রও বটে। মসজিদগুলো এ রকম হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ইসলামের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্যই এটি সহায়ক। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে এসব মোটেও দেখা যায় না। তাছাড়া মসজিদ শুধুমাত্র মুসলমানের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। সবাই এখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা লাভ করবে। কেননা, ইসলামের সামাজিক উদ্দেশ্য এবং সংস্কারমূলক মিশন শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যই নয়, বরং এটি সকলের জন্য।



মদীনা সনদ

মোহাম্মদ (সা) নিছক নতুন একটি ধর্মের নবীমাত্র ছিলেন না। তিনি মদীনার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মসজিদের আঙিনায় বসেই তিনি যুগপৎভাবে এই দুটি দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এ কারণে দিনের অধিকাংশ সময় তাঁর মসজিদেই কাটতো। দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় তিনি এমন একটি চুক্তিতে আসার প্রয়োজন অনুভব করলেন, যা শুধু তাঁর শাসনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই দিবে না, মদীনার বিভিন্ন গোত্রের সাথে তাঁর সম্পর্কও এর ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এই চুক্তিটিই মদীনার সনদ হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হয়, এটি দুনিয়ার প্রাচীনতম লিখিত সংবিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আরবে গোত্রীয় সম্পর্কের পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার এটিই ছিলো প্রথম উদ্যোগ। পৌত্তলিক, ইহুদী ও মুসলমান– সবাই যেন পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে, সেই জন্য মোহাম্মদকে (সা) পৌত্তলিক ও ইহুদী গোত্রগুলোর আস্থা অর্জন করতে হয়েছিলো।

জর্দানীয় রাজপরিবারের যুবরাজ হাসান বিন তালাল মদিনা সনদের উপর একজন বিশেষজ্ঞ। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য হলো,

মুসলমান, ইহুদী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় নিয়ে মদীনায় একটি নতুন বহুমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান রচনা ছিলো অপরিহার্য। এর উদ্দেশ্য ছিলো জীবন, সম্পত্তি, উপাসনালয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে মুসলিম, ইহুদী, খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য অমুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে আহলে কিতাবদের মধ্যে যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সংবিধানে জনগণের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিলো। এই দৃষ্টিতে আপনি একে মুসলমানদের ‘ম্যাগনা কার্টা’ বলতে পারেন। তৎকালীন মদীনা কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্র ছিলো না। সেটি ছিলো একটি সিভিল স্টেট। শাসক ও জনগণ উভয়ই ছিলো অভিন্ন আইনের অধীন।

মদীনা সনদের প্রাথমিক ভাষ্যের সম্পূর্ণ অংশ এখন আর পাওয়া যায় না। অবশ্য প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের লেখায় এর কয়েকটি সংস্করণ পাওয়া যায়। মহানবীর (সা) মৃত্যুর প্রায় শত বছর পর এগুলো লেখা হয়েছিলো। অন্যদিকে, মদীনা সনদ বলে আসলেই কিছু ছিলো কিনা, তা নিয়ে কোনো কোনো ঐতিহাসিক সন্দেহ পোষণ করে থাকেন। এ ব্যাপারে ইউনিভার্সিটি অব ব্যাকিংহামের পলিটিক্স অ্যান্ড কনটেম্পোরারি হিস্ট্রির অধ্যাপক জিউফ্রে অল্ডারম্যানের কথা হলো,

‘মদীনা সনদ’ বলে কি আসলেই কিছু ছিলো? আমরা তো কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘরানার সূত্র থেকেই এ ব্যাপারে জানি, যাদের আবার বিশেষ পক্ষপাতিত্ব বা নির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে। কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন, তখন মোটেও কোনো সংবিধান ছিলো না, কোনো চুক্তিও ছিলো না। এগুলো পরবর্তীকালে বানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের অবস্থান বিরোধপূর্ণ। মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতে, তখন একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিলো। নিশ্চিতভাবেই তখন একটি সংবিধানও ছিলো। মদীনা সনদটি যদি আপনি পড়ে ফেলেন, তাহলে দেখবেন তৎকালীন রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের বিবেচনায় তাতে চমৎকৃত হওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। এটি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।

তবে সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অ্যারাবিক স্টাডিজের অধ্যাপক হিউ কেনেডি মদীনা সনদের প্রামাণ্যতা ও তাৎপর্য সম্পর্কে বলেন,

মদীনা সনদের যেসব নথিপত্র পাওয়া যায়, সেগুলো যে আসলেই তখনকার, তা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই সনদে যে ধরনের আরবি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা বেশ প্রাচীন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এর মাধ্যমে যেসব বিষয়ের সমাধান করা হয়েছে, তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় সেগুলো ছিলো যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। মদীনার তৎকালীন গোত্রসমূহ, জনগণের সহায়-সম্পদ, বা এ জাতীয় বিষয়গুলোর ব্যাপারে মোহাম্মদের অবস্থান আসলে কী ছিলো, এটি খুবই… এটি নিশ্চয় কোনো সাম্রাজ্য গড়ে তোলার নীলনকশা ছিলো না।

মদীনা সনদ ইসলামী সরকারব্যবস্থার একদম প্রাথমিক মডেল হিসেবে পরিচিত। এতে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের পাশাপাশি শাসকের দায়দায়িত্বের কথাও স্পষ্টভাবে বলা আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই সনদের মাধ্যমে প্রতিশোধ গ্রহণের গোত্রীয় প্রথা এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রতিপক্ষের বিচার করার রীতি ভেঙে দিয়ে সবাইকে আইনের শাসনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিলো। এ প্রসঙ্গে খালিদ আল খায়েরের সাথে আমার নিম্নোক্ত কথাবার্তা হয়েছে–

মদীনার সকল গোত্র সম্মিলিতভাবে এই সংবিধানে স্বাক্ষর করেছিলো

– ইহুদী ও পৌত্তলিকরাও?

একদম সবাই তারা সবাই স্বাক্ষর করেছিলো, যাদেরকে বলা হয়েছে উম্মাহ

– উম্মাহ মানে কমিউনিটি?

হ্যাঁ এই চুক্তির ফলে মদীনার নিরাপত্তার দায় সকলের উপরেই ন্যস্ত ছিলো আইনের দৃষ্টিতে সবাই ছিলো সমান বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে তারা রাষ্ট্রটি পরিচালনা করেছিলেন যেমন, দুজন ইহুদীর মধ্যে ঝগড়া হলে এর মীমাংসার জন্য তারা মহানবীর (সা) কাছে যেতো তখন তিনি এর ফায়সালা করতেন ইহুদী আইন অনুযায়ী এক্ষেত্রে তিনি ইসলামী আইন প্রয়োগ করতেন না একটি পরিপূর্ণ আদালতব্যবস্থা সেখানে ছিলো একটি রাষ্ট্র হতে গেলে যা যা লাগে, তার সবই সেখানে ছিলো এই দৃষ্টিতে, তৎকালীন আরবে তিনি একটি পরিপূর্ণ সভ্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন

বিশপ মাইকেল নাজির আলী বলেন,

মদীনা সনদের একটি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, এতে আরব পৌত্তলিক, আনসার ও মুহাজির উভয় ধরনের মুসলিম, ইহুদী ও খ্রিস্টানসহ নগরীর সবাইকে একই উম্মাহ তথা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে অবশ্য মুসলমানরা ‘উম্মাহ’ বলতে বিশ্ব মুসলিম সমাজকে বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধানে শব্দটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। তাই আমাকে যখন কেউ বলে, ‘আমরা একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই’, আমি তখন জিজ্ঞেস করি, ‘এটি কি মদীনা রাষ্ট্রের মতো হবে, নাকি হবে না? যদি না হয়, তাহলে এর কারণ কী?’

মোহাম্মদ (সা) যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই মদীনা সনদ পুরোপুরি কার্যকর ছিলো। তবে তাঁর মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো এতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। আরো পরে পরবর্তীকালের মুসলিম শাসকরা একে সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করেন। ম্যারল ওয়েন ডেভিস এ ব্যাপারে বলেন,

এটি বর্তমানে আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা। আমার কাছে মহানবীর (সা) জীবনী এবং কোরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সহাবস্থান অর্থে বহুত্ববাদকে মেনে নেয়া। সমাজে নানান ধরনের বিশ্বাস, মত, পথ ইত্যাদি থাকবেই। সবাই মিলেই একটি সমাজ তথা একটি উম্মাহ হিসেবে গড়ে ওঠতে হবে। মুসলমানরা এই শিক্ষাকে অবজ্ঞা করছে, দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে মুসলমানরা বহুত্ববাদকে সমাজ গঠনের প্রধান মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা আসলে মহানবীর (সা) শিক্ষাকেই অগ্রাহ্য করেছে।

(চলবে)


বাকি পর্বগুলো পড়তে ভিজিট করুন এখানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *