মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭
হোম > ডকুমেন্টারি অনুবাদ > কোরাইশদের বয়কট, অহিংস প্রতিরোধ, স্ত্রী ও চাচার মৃত্যু

কোরাইশদের বয়কট, অহিংস প্রতিরোধ, স্ত্রী ও চাচার মৃত্যু দ্য লাইফ অব মোহাম্মদের অনুবাদ: পর্ব-৬

শয়তানের আয়াত

ব্যর্থ মনোরথে মক্কায় ফিরে কোরাইশরা মোহাম্মদ (সা) ও তাঁর সাহাবীদের উপর চড়াও হলো। তারা শহর জুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো, মোহাম্মদ (সা) ও তাঁর পুরো গোত্রের সাথে কেউ কোনো কিছু করতে পারবে না। বিবাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজারে ক্রয়বিক্রয় থেকে শুরু করে কোনো কিছুই তাদেরকে করতে দেয়া হতো না। মোহাম্মদ (সা) ও তাঁর সাথীরা মক্কায় গণশত্রুতে পরিণত হলেন। এভাবে তারা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার দাওয়াত প্রচারে আপস করা এবং কোরাইশদের দেবতাদেরকে মেনে নেয়ার জন্য মোহাম্মদ (সা) ও তাঁর সাহাবীদের উপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখলো।

এখন পর্যন্ত বাদবাকি বিশ্বের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নির্ধারণে যে মৌলিক বিষয়টি মুখ্য ভূমিকা পালন করে, সেই পরিস্থিতিতে হঠাৎ এমন একটি ঘটনা ঘটলো, যার ফলে সেটি হুমকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলো। অবশ্য অধিকাংশ মুসলমান পুরো বিষয়টিকেই বানোয়াট মনে করে। সে যাই হোক, মোহাম্মদ (সা) এবং কোরআনকে ভুল প্রমাণ করার জন্য ইসলামের বিরোধীরা এই ঘটনাটিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। ঘটনাটির নানা ধরনের বর্ণনা আছে, তবে মূল ভাষ্যটি মোটামুটি এ রকম:

একদিন মহানবী (সা) কাবাঘরে বসে থাকা অবস্থায় একটি নতুন ওহী নাজিল হলো। যাতে বলা হলো– তিনি চাইলে কোরাইশদের সাথে সমঝোতায় আসতে পারেন যে, কোরাইশদের দেবদেবীদের উপাসনা করায় তাঁর আপত্তি নেই। কোরাইশরা এই ‘ওহী’ শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলো। তারা মনে করলো– যাক, মোহাম্মদ অবশেষে তাদের চিন্তাধারায় ফিরে আসছে। কিন্তু তারপরই ঘটলো আসল ঘটনা। তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদের (সা) কাছে আরেকটি ওহী নাজিল হলো। এতে বলা হয়, দেবদেবীদেরকে বাহ্যত মেনে নেয়া সংক্রান্ত যে ‘ওহী’টি নাজিল হয়েছিলো, তা ছিলো আসলে শয়তানের প্ররোচনা। এই কারণে এই আয়াতকে পরবর্তীতে ‘শয়তানের আয়াত’ বলে অভিহিত করা হয়। ঘটনাটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে মোহাম্মদ (সা) নিজের ইচ্ছামতো আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে পারতেন, এমন অভিযোগ করার সুযোগ থেকে যায়। সেক্ষেত্রে মোহাম্মদ (সা) ও কোরআন মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়ে যায়। ‘দ্যা ট্রুথ অ্যাবাউট মোহাম্মদ’ গ্রন্থের লেখক রবার্ট স্পেনসার এ ব্যাপারে বলেন,

মুসলমানরা এখন দাবি করে থাকে, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি, এটি ইসলাম বিদ্বেষীদের বানানো গল্প। কিন্তু তুলনামূলকভাবে প্রাথমিক যুগের মুসলিম সূত্রগুলোতে (যেমন আল্লামা জামাখশারী) কিংবা আরো আগের ইসলামী সূত্রে (যেগুলো এখন আর পাওয়া যায় না) এ ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। এমতাবস্থায়, এটি অস্বীকার করা মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট কঠিন। ঘটনাটি যদি ইসলামের শত্রুদের বানানোই হয়ে থাকে, তাহলে একজন খাঁটি মুসলমান কীভাবে এই ঘটনার উল্লেখ করলেন? অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার বটে!

মোহাম্মদের (সা) মৃত্যুর পর মুসলমানদের লেখা তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোর মধ্যে এই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন ও পরস্পর সাংঘর্ষিক তিনটি বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে কোরআনে কিংবা ইবনে ইসহাক কর্তৃক লিখিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মহানবীর (সা) প্রথম জীবনীগ্রন্থে এর কোনো উল্লেখ নেই। এমনকি নবম শতকের বিখ্যাত হাদীস সংকলনগুলোতেও এর উল্লেখ নেই। অথচ মুসলমানরা সাধারণত নিছক মোহাম্মদের (সা) সমালোচনা থাকলেই কোনো বর্ণনাকে অস্বীকার করে না। বরং কোনো বর্ণনা যথাযথভাবে যাচাইযোগ্য না হলেই কেবল তা বাতিল গণ্য করা হয়।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস

১৯৮৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সালমান রুশদীর লেখা ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসের বিরুদ্ধে গোটা মুসলিম বিশ্বে সহিংস প্রতিবাদের ঝড় উঠে। উপন্যাসটি ছিলো ওই ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা একটি কল্পকাহিনী। মুসলমানদের মতে, কোরআনকে শয়তানের কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মোহাম্মদকে (সা) এভাবে চিত্রিত করা ছিলো ভণ্ডামিপূর্ণ অপপ্রয়াস। এ ঘটনায় পুরো দুনিয়ার মুসলিম জনমত ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিল অব মস্কেসের সভাপতি শের আজম স্মৃতিচারণ করে বলেন,

১৯৮৯ সালের ১৪ জানুয়ারির ঘটনা আমার স্পষ্ট মনে আছে। সেদিন আমরা হাজার হাজার মানুষ ওই বইটি নিষিদ্ধের দাবিতে সমবেত হয়েছিলাম। আমরা প্রকাশ্যে বইটি পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।

বই পোড়ানোর মাধ্যমে ঘটনার মাত্র শুরু হয়। কয়েক দিনের মাথায় মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র সহিংস বিক্ষোভ এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে অনেকেই বইটি নিষিদ্ধকরণের দাবির বিরোধিতা করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী ইস্যুটিকে কাজে লাগান। তিনি সম্ভাব্য যে কোনো উপায়ে রুশদীকে হত্যা করার ফতোয়া জারি করেন। ফতোয়াটি এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়নি। এই বইয়ের সাথে যুক্ত অনেকেই আক্রমণের শিকার হয়েছে, এমনকি নিহতও হয়েছে। তবে রুশদী এখনো অক্ষতভাবে বেঁচে আছেন।

মোহাম্মদ (সা) আসলে কে ছিলেন, তাঁর কী অবদান ছিলো এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, বর্তমান যুগে মুসলমান বলতে কী বুঝায়– এই সমস্ত প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে তাঁর জীবনের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার (যা আবার আদতেই ঘটেনি বলে অধিকাংশ মুসলিম স্কলার মনে করেন) আলোকে মোহাম্মদের (সা) জীবন ও কর্মকে বিবেচনা করা নিতান্ত মতলবী কাজ।

এই ইস্যুটির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ও পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে। পাশ্চাত্য মনে করে, ইসলামের ব্যাপারে যা খুশি বলার অধিকার তাদের রয়েছে। অন্যদিকে মুসলমানরা মনে করে, অপমানিত না হওয়ার অধিকারও তাদের রয়েছে। জিয়াউদ্দীন সরদার ব্যাপারটিকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে,

এ ঘটনাটির প্রতিবাদের মাধ্যমে ব্রিটিশ মুসলিমরা একটি স্বতন্ত্র কমিউনিটি হিসেবে সমাজে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। সেদিক থেকে বৃটিশ মুসলিমদের জন্য এটি ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। তবে আন্তর্জাতিকভাবেও মুসলমানদের জন্য সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ ছিলো। কারণ, একদিকে তারা রুশদীর লেখাকে প্রত্যাখ্যান করছিলো, এর প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ করছিলো। অন্যদিকে রুশদীর বিরুদ্ধে দেয়া ফতোয়ার নিন্দা জানাতেও তারা সমবেত হয়েছিলো। পাশ্চাত্যে যা ঘটছে, সেটি যেমন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; তেমনি ট্র্যাডিশনাল ইসলামের কিছু ব্যাপারও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলো না। উভয় দিকের বাস্তবতাই তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিলো।

মোহাম্মদের (সা) প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকে বৃটিশ মুসলিমরাও যে বৃহত্তর বিশ্ব মুসলিম সমাজের অংশ, এ ঘটনার পর তারা সেটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলো। পাশ্চাত্যের প্রধান পরিচয় তথা ‘উদার মূল্যবোধের’ সাথে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের তুলনামূলক রক্ষণশীল ও ট্র্যাডিশনাল মূল্যবোধের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হিসেবেও ঘটনাটিকে চিহ্নিত করা যায়। এই দ্বন্দ্বের মূল বিষয় হলো, মোহাম্মদ (সা) কি বিশ্বের জন্য কল্যাণকর, নাকি ক্ষতিকর– পরস্পরবিরোধী এই বিতর্ক। এর পাশাপাশি মোহাম্মদের (সা) ব্যক্তিচরিত্রকেও অনেক সময় বিতর্কে টেনে আনা হয়।



কোরাইশদের বয়কট ও মহানবীর অহিংস প্রতিরোধ

যা হোক, মোহাম্মদ (সা) তৎকালীন মক্কার কোরাইশদের প্রাচীন গোত্রীয় মূল্যবোধের বিপরীতে এক আল্লাহর ধারণা সংক্রান্ত নতুন বাণী নিয়ে সাংঘাতিক এক মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। ফলে কোরাইশরা মোহাম্মদ (সা) ও তাঁর সঙ্গীদের উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারা ঘোষণা করলো, এখন থেকে কেউই তাদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিবাহ-শাদী, এমনকি খাদ্যদ্রব্য কেনাবেচাও করতে পারবে না। কিন্তু এই চরম উসকানিমূলক পরিস্থিতিতেও তিনি ও তাঁর সাথীরা কোনো রকম সংঘাতে না জড়িয়ে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছিলেন। বর্তমানে কোনো কোনো মুসলমানের কর্মকাণ্ডের এর সম্পূর্ণ বিপরীত। অধ্যাপক সাজ্জাদ রিজভী বলেন,

ইসলামের একদম প্রাথমিক যুগে সহিংসভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা আসলে সম্ভবই ছিলো না। তখন মুসলমানদের সংখ্যা কোনোভাবেই শ’দুয়েকের বেশি ছিলো না। মুসলমানরা তখন যদি মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত হতো, তাহলে তারা গণহারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতো। সেক্ষেত্রে এত বছর পর এসেও আমরা যে ইসলামকে জানি, তার নাম-নিশানা তখনই মুছে যেতো।

এভাবে চলার এক পর্যায়ে মোহাম্মদ (সা) ধারাবাহিক অহিংস প্রতিরোধের সুফল পেতে শুরু করলেন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে গৃহীত এ ধরনের চরম পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মক্কার লোকেরাই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করলো। মুসলমানরা তো আসলে তাদেরই স্বজন ও গোত্রের সদস্য ছিলো। ফলে কোরাইশ নেতৃবৃন্দের উপর ব্যাপক সামাজিক চাপ তৈরি হলো। অব্যাহত চাপের মুখে দুই বছর পর তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এর ফলে মোহাম্মদের (সা) দুঃখ-কষ্ট লাঘব হলো না। বরং শুরু হলো বলা যায়। তাই ওই বছরটিকে মুসলমানরা দুঃখ-দুর্দশার বছর হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

স্ত্রী ও চাচার মৃত্যু

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যে মোহাম্মদের (সা) জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি স্ত্রী খাদীজা (রা) মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তিনি একদম ভেঙে পড়েছিলেন। বিগত ২৫ বছর ধরে এই নারী ছিলেন একাধারে তাঁর একান্ত ভালোবাসার স্ত্রী, সবচেয়ে ঘনিষ্ট সঙ্গী এবং প্রধান পরামর্শদাতা। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি তাঁকে আল্লাহর রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। নবুয়ত লাভের পর তাঁর যে ভয়াবহ দিনগুলো কেটেছে, তখন তিনিই প্রথম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। খাদীজার (সা) অবদান সম্পর্কে ক্যারেন আর্মস্ট্রং বলেন,

খাদীজা ছিলেন অসাধারণ বিস্ময়কর একজন মানুষ। তিনিই সর্বপ্রথম ওহীর স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এদিক থেকে বলা যায়, তিনিই ছিলেন প্রথম মুসলিম। কারণ, স্বয়ং মহানবীরও আগে তিনি ঐশীবাণীর উপর ঈমান এনেছিলেন। সত্যকে চিনে নেয়ার সহজাত ক্ষমতা তাঁর ছিলো। তাঁর ব্যাপারে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো দেখলে মনে হয়, তিনি ছিলেন মায়ের মতোই মমতাময়ী। তাঁর মৃত্যুতে মহানবী যেন মাতৃতুল্য একজন অভিভাবককেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। আসলে তিনি খাদীজাকে অনেক ভালোবাসতেন। আপনি নিশ্চয় জানেন, একজন ধনী বিধবাকে বিয়ে করা মহানবীর সুবিধাবাদিতা ছিলো বলে পাশ্চাত্যের সমালোচকরা প্রায় সময়ই অবজ্ঞা প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু কোনো বর্ণনা থেকেই এর স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং তিনি সারাজীবন খাদীজাকে ভালোবেসে গিয়েছেন। তাঁর পরবর্তী স্ত্রীগণ কোনো প্রসঙ্গে খাদীজার কথা উল্লেখ করাকে অত্যন্ত অপছন্দ করতেন। কারণ তাঁরা জানতেন, তাঁদের কেউই মহানবীর হৃদয়ে খাদীজার সমান জায়গা করে নিতে পারেননি।

খাদীজার মৃত্যুর কয়েক মাস পর মোহাম্মদের (সা) জীবনে আরো একটি বিপর্যয় নেমে আসে। এবার তাঁর চাচা আবু তালিব মৃত্যুবরণ করেন। এই মানুষটি তাঁকে কোরাইশদের সর্বপ্রকার কোপানল থেকে রক্ষা করতেন। চাচার মৃত্যুর পর মোহাম্মদের (সা) গোত্রের নেতৃত্ব চলে যায় তাঁর বিরোধী পক্ষের সবচেয়ে উগ্র ব্যক্তিদের হাতে। ফলে তাঁর উপর আবারো আক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়। তাঁর শত্রুরা এবার তাঁকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে দিলো– হয় দাওয়াতী কাজ বন্ধ করো, নয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকো।

মোহাম্মদ (সা) ও সাথীদের ক্ষুদ্র দলটি এবার সবচেয়ে অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেলেন। তাঁদের অর্ধেক গিয়ে আশ্রয় নিলেন ইথিওপিয়ায়। আর বাকিদের মক্কায় নির্যাতন সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। শত্রুরা এবার তাঁর ইসলামী আন্দোলনকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করে দিতে প্রকাশ্যে পরিকল্পনা করতে লাগলো। এমনকি তাঁকে হত্যার পরিকল্পনাও করতে লাগলো।

এই পরিস্থিতিতে তিনি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তা ছিলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সেটি নিছক তাঁর নিজের ভবিষ্যতই নয়, বরং পুরো দুনিয়ার ইতিহাসকেই পাল্টে দিয়েছিলো।

(চলবে)


বাকি পর্বগুলো পড়তে ভিজিট করুন এখানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *