নবুয়ত লাভ দ্য লাইফ অব মোহাম্মদের অনুবাদ: পর্ব-৪

ওহীর সূচনা

মোহাম্মদ (সা) তখন অন্যদিনের মতোই ধ্যানমগ্ন থাকতে থাকতে এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় পেয়ে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তাঁর শরীর প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিলো। পরবর্তীতে তিনি এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন– একজন ফেরেশতা এসে তাঁকে এমন শক্তভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যাতে শ্বাসরোধ হয়ে আত্মা বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। একদম বিধ্বস্ত অবস্থায় তিনি সেখানে শুয়েছিলেন। এই পর্যায়ে একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পান– “ইকরা!” – “পড়ো!” তিনি জবাব দিলেন, “আমি পারছি না। আমি পাঠক নই।” কণ্ঠস্বরটি একই কথার পুনরাবৃত্তি করলো, “পড়ো!” তিনি জবাব দিলেন, “আমি পাঠক নই।” তৃতীয়বারের মতো তাঁকে বলা হলো, “পড়ো!” এবার তিনি জবাব দিলেন, “আমি কী পড়বো?” তখনই এই কথাগুলো ভেসে এলো–

ٱقْرَ‌أْ بِٱسْمِ رَ‌بِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ- خَلَقَ ٱلْإِنسَـٰنَ مِنْ عَلَقٍ- ٱقْرَ‌أْ وَرَ‌بُّكَ ٱلْأَكْرَ‌مُ- ٱلَّذِى عَلَّمَ بِٱلْقَلَمِ- عَلَّمَ ٱلْإِنسَـٰنَ مَا لَمْ يَعْلَمْ

অর্থ: ১. (হে মোহাম্মদ) তুমি পড়ো, (পড়ো) তোমার মালিকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, ২. যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবাঁধা রক্ত থেকে, ৩. তুমি পড়ো এবং (জেনে রাখো) তোমার রব বড় মেহেরবান, ৪. তিনি (মানুষকে) কলম দ্বারা (জ্ঞান) শিখিয়েছেন, ৫. তিনি মানুষকে (এমন কিছু) শিখিয়েছেন যা (তিনি না শেখালে) সে কখনো জানতে পারতো না। (সূরা আলাক: ১-৫)

নবীদের ওহী লাভের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ক্যারেন আর্মস্ট্রং বলেন,

তিনি ঐশীবাণী লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ওহী নাজিলের সময় যে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, বনী ইসরাইলের কয়েকজন নবীর অভিজ্ঞতা থেকেও আমরা তা জানি। এটি কোনো শান্ত-স্নিগ্ধ বা কোমল অভিজ্ঞতা নয়। ওহী নাজিলের সময় শরীরের প্রতিটি তন্ত্রীতে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। নবী জেরেমায়াহ তো চিৎকার করে ওঠেছিলেন, “আহ! ও খোদা! আমি তো কথা বলতে পারছি না! আমি তো শিশুর মতো হয়ে গেছি! তোমার ওহী আমার প্রতিটি কোষে আঘাত করছে।” নবী ঈসা গির্জায় ঈশ্বরের দর্শন লাভ করে বলে ওঠেছিলেন, “আমি একদম শেষ, আমি সর্বশক্তিমান প্রভুকে দেখেছি!” ঐশীবাণী বাণী লাভের ঘটনা ভীষণ কষ্টকর ব্যাপার। এর প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। এটি আপনার পরিচিত দুনিয়াকে আমূল পাল্টে দেয়।

এ ব্যাপারে বারনাবি রজারসন বলেন,

নবীগণ ঐশ্বরিক ক্ষমতার যে স্পিরিট লাভ করে থাকেন, তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষা ও উপমার মাধ্যমে তাদের কাছে তুলে ধরা হলো নবীদের কাজ। আমার মতে, প্রচণ্ড কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মহানবী ওহী লাভ করেছিলেন। তাঁর গোটা সত্ত্বা জুড়ে প্রবাহিত এই বিশেষ অভিজ্ঞতাকে তিনি ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

এটি ছিলো মোহাম্মদের (সা) জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বর্তমানে দুনিয়া জুড়ে ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষ তাঁর অনুসারী। তাঁর আনীত ঐশীবাণীর উপর তারা পুরোপুরি বিশ্বাস রাখে। এ কারণেই তাদেরকে মুসলমান বলা হয়।

অবশ্য হেরা গুহায় যখন সর্বপ্রথম ঐশীবাণী নাজিল হয়েছিলো, তখন মোহাম্মদের (সা) প্রতিক্রিয়া ছিলো একেবারেই ভিন্ন। তিনি দৌড়ে গিয়ে তাঁর প্রিয় স্ত্রীকে ডাকছিলেন, “খাদীজা! খাদীজা! আমাকে ঢেকে দাও, আমাকে ঢেকে দাও। আমার সাথে একি ঘটনা ঘটে গেলো? আমি তো এখন জীবন নাশের আশঙ্কা  করছি।” খাদীজা (রা) নিজের চাদর দিয়ে তাঁর প্রায় অবশ শরীরটাকে ঢেকে দিলেন। তারপর মোহাম্মদের (সা) সকল সংশয় সত্ত্বেও খাদীজাই (রা) তাঁর ওহী লাভের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাঁকে আশ্বস্ত করলেন। খাদীজার (রা) কথাগুলো তাঁর জন্য নিছক সান্তনাবাণী মাত্র ছিলো না। তার কথা শুনেই তিনি সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ব্যাপারে তিনি স্থিরচিত্ত হতে পেরেছিলেন। এভাবে সত্যসন্ধানী ব্যক্তিটি অবশেষে সেই আলোর সন্ধান পেয়ে গেলেন, যা তিনি খুঁজে ফিরছিলেন।

ওহী নাজিলে বিরতি

কিন্তু তারপর দীর্ঘদিন আর কিছুই ঘটলো না। ফলে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়লেন। তাহলে কি এসব কিছু নিছকই বিভ্রান্তি ছিলো? ওহীর ব্যাপারটি কি নিছক আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ ছিলো? নাকি সত্যসন্ধানী মোহাম্মদকে (সা) আল্লাহ পরিত্যাগ করেছেন? মহানবীর (সা) তখনকার এ ধরনের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ক্যারেন আর্মস্ট্রং বলেন,

তিনি চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। একটি বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এতো বেশি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে, পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে গিয়েছিলেন।

এভাবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসও পেরিয়ে গেলো। মোহাম্মদের (সা) জীবন টালমাটাল হয়ে ওঠলো। ওহী লাভের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর মাঝে সন্দেহ ঘনিভূত হতে লাগলো। এমনকি নিজের ব্যাপারেও তিনি সন্দিহান হয়ে পড়লেন। এভাবে কয়েক মাস কেটে গেলো। তারপর হঠাৎ একদিন সকাল বেলা সকল নীরবতার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় ওহী নাজিল হতে থাকলো–

وَٱلضُّحَىٰ- وَٱلَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ- مَا وَدَّعَكَ رَ‌بُّكَ وَمَا قَلَىٰ- وَلَلْءَاخِرَ‌ةُ خَيْرٌ‌ۭ لَّكَ مِنَ ٱلْأُولَىٰ- وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَ‌بُّكَ فَتَرْ‌ضَىٰٓ- أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَـَٔاوَىٰ- وَوَجَدَكَ ضَآلًّا فَهَدَىٰ- وَوَجَدَكَ عَآئِلًا فَأَغْنَىٰ- فَأَمَّا ٱلْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ‌- وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنْهَرْ- وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَ‌بِّكَ فَحَدِّثْ

অর্থ: (১) শপথ আলোকোজ্জ্বল মধ্য দিনের, (২) শপথ রাতের (অন্ধকারের), যখন তা (চারদিকে) ছেয়ে যায়, (৩) তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তিনি (তোমার ওপর) অসন্তুষ্টও হননি; (৪) অবশ্যই তোমার পরবর্তীকাল আগের চেয়ে উত্তম; (৫) অল্পদিনের মধ্যেই তোমার রব তোমাকে (এমন কিছু) দেবেন যে, তুমি (এতে) খুশি হয়ে যাবে; (৬) তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পাননি– অতঃপর তিনি তোমাকে আশ্রয় দিয়েছেন, (৭) তিনি কি তোমাকে (সঠিক পথের সন্ধানে) বিব্রত অবস্থায় পাননি, অতপর তিনি তোমাকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, (৮) তিনি কি তোমাকে নিঃস্ব অবস্থায় পাননি, অতঃপর তিনি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছেন; (৯) অতএব তুমি কখনো এতিমের ওপর জুলুম করো না; (১০) কোনো প্রার্থীকে কোনো সময় ধমক দিয়ো না; (১১) তুমি তোমার মালিকের অনুগ্রহসমূহ বর্ণনা করে যাও। (সূরা দোহা: ১-১১)

মোহাম্মদ (সা) এবার বুঝতে পারলেন, তাঁর উপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তাঁকে ঐশীবাণী দিয়ে পাঠানো হয়েছে। তাঁর আগের অন্যান্য নবীদের মতো তিনিও বিশ্বাস করলেন, আল্লাহ তাঁকে বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেছেন। এখন তাঁর দায়িত্ব হলো অন্যদের মাঝে এই বাণীর প্রচার করা; যেন তারা নিজেদের জীবনকে আরো উন্নত করতে পারে।



কোরআনের গুরুত্ব

মোহাম্মদের (সা) উপর নাজিলকৃত ওহীর সমষ্টিই পরবর্তীতে ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থে পরিণত হয়। এটি এখন আমাদের নিকট কোরআন হিসেবে পরিচিত। এর শাব্দিক অর্থ হলো পঠিত। প্রচলিত মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী, স্বয়ং আল্লাহই কোরআনের লেখক, মোহাম্মদ (সা) মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন মাত্র।

বেশিরভাগ মুসলমান মনে করেন, কোরআন হলো আল্লাহর মোজেজা। মোহাম্মদ (সা) সবসময়ই জোর দিয়ে বলে গেছেন, তাঁর কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নেই। কোরআনের আয়াত ব্যতীত অন্য কোনো অলৌকিক ক্ষমতা বা নিদর্শনের সাথে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি। তবে এক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন একজন সাধারণ ব্যক্তি মাত্র। আল্লাহর বাণী তথা কোরআনই কেবল মোজেজা হিসেবে বিবেচিত। কোরআনের আয়াতের মাঝেই নিহিত রয়েছে এর আধ্যাত্মিক শক্তি –

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ-  صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

অর্থ: আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাও, তাদের পথ যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ করেছো; তাদের (পথ) নয় যারা (তোমার) ক্রোধের পাত্র; তাদের (পথ) নয় যারা বিপথগামী। (সূরা ফাতেহা: ৬-৭)

উম্মী ধারণাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, মোহাম্মদ (সা) লেখতে-পড়তে জানতেন না। তাঁর নিরক্ষরতার ব্যাপারটি মুসলমানদের ঈমানের অপরিহার্য বিষয়। একটি কারণে ব্যাপারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো, ইসলামের কোনো কোনো সমালোচক বলে থাকেন, বাণিজ্য সফরের সময় মোহাম্মদ নিশ্চয় ইহুদী-খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থগুলো পড়েছিলেন এবং সেই ধর্মীয় কনসেপ্টগুলোই নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়ে তিনি নিজস্ব ধর্মীয় বাণী হিসেবে প্রচার করেছেন। তাই মুসলমানদের যুক্তি হলো, তিনি যেহেতু লেখাপড়াই জানতেন না, তাই এ ধরনের যে কোনো প্রভাব থেকে তিনি মুক্ত ছিলেন। এবং নতুন ধর্ম ইসলামের ভিত্তি তথা ওহী সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছে। এ ব্যাপারে ইসলামের সমালোচক টম হল্যান্ডের বক্তব্য হলো,

কোরআনের কোনো কথা যে ইহুদী, খ্রিস্টান কিংবা সামারীয়দের থেকে মোহাম্মদ গ্রহণ করেননি, এটি যে সরাসরি আল্লাহরই কথা–তা বিশ্বাস করা মুসলমানদের জন্য জরুরি। ঠিক এ কারণেই মুসলিম বিশ্বাস মতে তিনি ছিলেন নিরক্ষর। অথচ কোরআনে প্রকৃতপক্ষে এর বিপরীতটাই বলা হয়েছে। তাদের এই বিশ্বাসের আরেকটা কারণ হলো, তিনি জন্মেছিলেন মরুভূমির মধ্যখানে। ফলে নিকটপ্রাচ্যের শক্তিশালী এই ধর্মগুলোর সংস্পর্শ থেকে তিনি শত শত মাইল দূরে ছিলেন বলে মনে করা হয়।

এ ব্যাপারে লেখক ও টিভি উপস্থাপক জিয়াউদ্দীন সরদার বলেন,

কোরআন ইহুদি-খ্রিস্ট ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত– এই বিতর্কটাই তো অযৌক্তিক। ইসলাম নিজেই তো নিজেকে একেশ্বরবাদী ধর্মগুলোর ধারাবাহিকতা বলে দাবি করে। আমরা ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের ধারাবাহিকতা মাত্র। সেই অর্থে আমরা নিশ্চয় এই ধর্মগুলো দ্বারা প্রভাবিত।

আব্দুর রহীম গ্রীন এ ব্যাপারে বলেন,

কোরআন স্পষ্ট করেই বলেছে, মোহাম্মদ (সা) লেখতে পারতেন না। আর ‘উম্মী’ শব্দটির অর্থ মূর্খ বা অজ্ঞ নয়। এর অর্থ হলো যে লেখতে-পড়তে জানে না, যে ব্যক্তি ধর্মগ্রন্থ পড়া শেখেনি বা অধ্যয়ন করেনি। অবশ্য অজ্ঞ বা মূর্খ ব্যক্তিকেও উম্মী বলার প্রচলন রয়েছে। তবে মূল কথা হলো, জিবরাইল (আ) হেরা গুহায় এসে যখন মহানবীকে (সা) বলেছিলেন, ‘পড়ো’, তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি পড়তে পারি না’।

খ্রিস্টানদের কাছে ব্যক্তি যিশু যেমন সবকিছুর ঊর্ধ্বে, মুসলমানদের কাছে কোরআনও তেমন ব্যাপার। খ্রিস্টানদের কাছে যিশু হলেন ঈশ্বরের বহিঃপ্রকাশ ও প্রতীক। তাঁর জন্মগ্রহণের বিষয়টি মানুষের অহেতুক সন্দেহের ঊর্ধ্বে পবিত্র ও বিশুদ্ধ একটি ব্যাপার। মুসলমানদের ক্ষেত্রে কোরআনও তেমনি। এটি হলো আল্লাহর কথা। তাই এটি যে কোনো প্রকার অযাচিত মানবীয় হস্তক্ষেপ থেকে পবিত্র। এ কারণেই কোরআনের অমর্যাদা হলে মুসলমানরা প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পায়। তাদের দৃষ্টিতে, এতে শুধু মোহাম্মদই (সা) নন, স্বয়ং আল্লাহকেও অপমান করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরআন পোড়ানো বা কোরআনের অমর্যাদা সংক্রান্ত বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। কখনো গুয়ান্তানামো বে’র মুসলিম বন্দীদেরকে অপমান করার উদ্দেশ্যে, কখনো বা কোনো সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব ঘটেছে।

(চলবে)


বাকি পর্বগুলো পড়তে ভিজিট করুন এখানে

Leave a Reply