মি অ্যান্ড দ্যা মস্ক (পর্ব-৩)

এডিটরস নোট:

নারী অধিকার প্রসঙ্গে ইসলামপন্থীদের কথাবার্তা হলো ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই’ প্রবাদের মতো। মহানবীর (সা) সময়কালে মসজিদে নববীতে নারীরা পুরুষদের পেছনে নামাজ আদায় করতেন। অথচ বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব জুড়ে নারীদের মসজিদে প্রবেশ রীতিমতো নিষিদ্ধ। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এই ধরনের সুন্নাহবিরোধী নিষেধাজ্ঞা যেসব ‘ফেতনা’র আশংকা থেকে আরোপ করা হয়েছে, সেসব ‘ফেতনা’ তৎকালীন সময়েও কমবেশি ছিল। তাই বলে তখন নারীদের মসজিদে যাতায়াত বন্ধ করা হয়নি। কানাডিয়ান মুসলিম নারী জারকা নেওয়াজ ২০০৫ সালে ‘মি অ্যান্ড দ্যা মস্ক’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেন। ইসলামে নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা, কানাডার মসজিদগুলোর বর্তমান অবস্থা, ব্যক্তিগত ক্ষোভ, আশংকা, উপেক্ষা ও সমঝোতার গল্পগুলো এতে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। একটি সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য নারী-পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের ধারণা। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য এর ধারাবাহিক অনুবাদ করছেন মাসউদুল আলম।


প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব | চতুর্থ পর্ব | শেষ পর্ব



টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে

কানাডায় বসবাসরত মুসলমানদের ৯১ শতাংশেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা মুসলিম বিশ্বে। মাত্র ১০ শতাংশ এখানে বড় হয়েছেন। সেদিক থেকে আমি নিজের সমাজেই সংখ্যালঘু। অর্থাৎ, অধিকাংশ মুসলমানই মসজিদে দেয়াল বা পর্দা থাকাতে অভ্যস্ত। এমতাবস্থায় আমার প্রজন্মের নারীরা কোথায় যাবে?

প্রফেসর আসমা বারলাসের বক্তব্য শোনার জন্য আমার বান্ধবীর সাথে গিয়েছিলাম টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামে সমতার গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন–

পুরুষের দৈহিক গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তার বিশেষ ভূমিকা পালনের পক্ষে কোরআনের একটি আয়াতও পাওয়া যাবে না। কিংবা, দৈহিক গঠনগত পার্থক্যের কারণে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্যের ধারণাও পাওয়া যায় না। তবে হ্যাঁ, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কোরআনে নারী-পুরুষকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তারমানে এই নয় যে, নারী-পুরুষের মাঝে কোনো বৈষম্য করা হয়েছে। আমাদের স্বীয় ধ্যানধারণার পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এবং হৃদয়ে সত্যকে ধারণ করতে না পারলে আমাদের দ্বারা কোনো পরিবর্তন আনাই সম্ভব নয়। কোরআন এ কথাই বলেছে।

ইসলামে নারীদের আধ্যাত্মিক অবস্থান পুরুষের সমান। কিন্তু মুসলিম পুরুষরা নানা ধরনের বিভাজন তৈরি রাখায় এই প্রজন্মের নারীরা হতাশায় ভুগছে। টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজ লাইব্রেরিতে এসব বিষয় নিয়ে আমরা একটি মুক্ত আলোচনা করেছি। এখানে তা তুলে ধরলাম–

আয়েশা গেসিনজার (পিএইচডি শিক্ষার্থী, সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব রিলিজিয়ন, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়): নামাজের জামায়াতে উপস্থিতি নিয়ে আমার একটি উদ্ভট অভিজ্ঞতা আছে। আমার উপস্থিতির কারণে নাকি কিছু মুসলিম ভাইয়ের কামভাব জেগে ওঠে! অথচ আমার ১৭ বছর বয়সী একটা ছেলে আছে। আর তারাও মধ্যবয়সী পুরুষ। নিছক আমার উপস্থিতির কারণেই যদি আপনার কামভাবে জেগে ওঠে, তাহলে সমস্যাটা তো একান্তই আপনার। আমার কিছু করার নেই। আমি যে এ ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী নই, তা নিশ্চয় আপনার জানা থাকার কথা।

জেসমিন জাইন (প্রভাষক, ওআইএসই, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়): আমি তখন আন্ডারগ্রেডে পড়ি। মুসলিম স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের (এমএসএ) এক অনুষ্ঠানে গিয়েছি। জুমার নামাজের দিন ছিল। ‘বোনদের জন্য একটি বিল্ডিংয়ে সাঁতার কাটার ব্যবস্থা রয়েছে’– এ ধরনের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরুষদের মধ্যে আপত্তি ওঠলো যে, নামাজের সময় এটা কেমন ঘোষণা দেয়া হলো! অথচ সেখানে এ জাতীয় বিভিন্ন ঘোষণা নিয়মিতই দেয়া হয়। কিন্তু কিছু পুরুষ আপত্তি তুললেন, এতে নাকি তাদের মনে নানা ধরনের বাজে কল্পনা চলে আসে।

তারা নামাজ পড়তে আসে, অথচ তাদের মনের ভেতর এ ধরনের কদর্যতা…। নারীদের সাথে সম্পর্কিত যে কোনো কিছু প্রকাশ্যে আসলেই এ জাতীয় লোকদের ‘সমস্যা’ হয়ে যায়। আমাদেরকে দমিয়ে রাখার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অজুহাতগুলোকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে বলে আমার মনে হয়।

উপস্থিত একজন নারী: নারীরা কথা বলা শুরু করলে মসজিদের দরজাগুলো যেন সব ভেঙ্গে পড়ে যাবে– এ ধরনের ভীতি বোধহয় তাদের মধ্যে কাজ করে। এই ভীতি দূর করতে হবে। আমাদেরকে এসব নিয়ে বলাবলি করতে হবে। মসজিদে আমাদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে হবে।

আয়েশা গেসিনজার: অন্যদের কাছে নারী-পুরুষের পৃথকীকরণের অর্থ যাই হোক না কেন, আমাদের সংস্কৃতিতে ব্যাপারটি নিছক হীনমন্যতাবোধ ছাড়া আর কিছুই নয়।

জেসমিন জেইন: এবং এটি এক ধরনের জেন্ডার বৈষম্য।

আয়েশা গেসিনজার: এই অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য এক ধরনের সামাজিক চাপ কিন্তু রয়েছে। তবে আমি দেখছি, কিছু মানুষ এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসছেন। এটি খুবই ভালো লক্ষণ।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি গিয়েছিলাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর মুসলিম উইমেনের’ ডিরেক্টর আমিনা অ্যাসিলমির কাছে। তিনি বলেন,

প্রকাশ্য রাস্তায় বিকিনি পরা নারী দেখে আপনার যদি সমস্যা না হয়, তাহলে মসজিদে নারীদের উপস্থিতিতেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আপনি যদি সত্যিই নামাজ আদায় করতে আসেন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে আসেন, তাহলে তো নারীরা আপনার জন্য সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নারীদেরকে মসজিদে ঢুকতে না দেয়া কিংবা মসজিদে পার্টিশন দেয়া একেবারেই শিশুসুলভ আবদার। আশপাশে খেয়াল করলে দেখবেন পুরুষরা নিজেরা বলাবলি করে যে, তারা আসলে খুব দুর্বল, তাই নিজেদেরকে সংবরণ করতে পারে না। এ ধরনের কথাবার্তা পুরুষদের জন্য সত্যিই অমর্যাদাকর। একজন পুরুষ কীভাবে আরেকজন পুরুষের ব্যাপারে এ ধরনের হীন চিন্তা করতে পারে! ভয়াবহ ব্যাপার!

ইটরাথ সাঈদের সাথে আলাপচারিতা

আমি যখন ভ্যাঙ্কুভারের সানসেট বীচে পৌঁছলাম, তখন সেখানে যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন উপলক্ষ্যে সমাবেশ শুরু হয়ে গেছে। একজন ঘোষক তখন ঘোষণা করছিলেন– আজকে হয়তো এখানে ১৫ হাজার মানুষও জড়ো হননি। কিংবা, হয়তো ২০/২৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। আপনাদের সামনে এখন বক্তব্য রাখবেন আমাদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা, ইউবিসি’র শিক্ষার্থী এবং পিএসজি’র মেম্বার ইটরাথ সাঈদ (Itrath Syed)। তাকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি খুবই গর্বিত। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

এই ঘোষণার পর মঞ্চে আসেন যুদ্ধবিরোধী নারীকর্মী ইটরাথ সাঈদ। তিনি বক্তব্য শুরু করলেন এভাবে–

আমরা এখানে বলতে এসেছি, তারা আমাদের সাথে যে মিথ্যা কথা বলেছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। তারা আমাদেরকে বলতে চায়, দুনিয়া এই দুই ভাগে বিভক্ত– অসভ্য শয়তান লোকে ভর্তি প্রাচ্য এবং সভ্য ও মহান সেনাবাহিনীর পাশ্চাত্য। আমরা তাদের বানানো এই রূপকথা শুনে ঘুমিয়ে পড়তে রাজি নই। আমরা তাদের অপকর্মের সহযোগী হতে অস্বীকার করি। তারা দুনিয়াকে যে ভীতি ও ঘৃণার দেয়ালে বিভক্ত করে রেখেছে, তা প্রত্যাখ্যান করতে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি।…

ইটরাত সাঈদ অমুসলিম বিশ্বে সর্বদা সোচ্চার কণ্ঠ। কিন্তু তার নিজের সমাজে কথা বলার ক্ষেত্রে তাকে নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার রিচমন্ড শহরে অবস্থিত মসজিদুল জামিতে বসে আমরা আলাপ করছিলাম। তিনি বলছিলেন,

আমার তৎপরতা মুসলিম সমাজের ভেতরে নয়, বাইরে। গত ৭/৮ বছর ধরে সহিংসতাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত রয়েছি। আমি একজন নারীবাদীও। মুসলিম সমাজের বাইরের নারীবাদী ইস্যুগুলো নিয়ে আমি কাজ করি। যে কোনো নারীবাদী মহলে আমি কথা বলতে পারি। এসব কি অগ্রগতি নয়?

যা হোক, মূল প্রসঙ্গে আসি। আপনি যদি আলাদা একটি কক্ষে বসে নামাজের মূল কক্ষের সবকিছু দেখেন, তাহলে মনে হবে আপনি বুঝি জামায়াতের অংশ নন, আপনি জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। হ্যাঁ, আপনি সেখানে লিখিত প্রশ্ন পাঠাতে পারছেন বটে। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলে যে ফল পাওয়া যায়, এটি তেমন নয়। দুটি ব্যাপারের মধ্যে পার্থক্য আছে।

আমার জানা মতে, এসব কারণে অনেক নারী মসজিদে খুব একটা আসেন না। কারণ, এই পরিবেশটা অস্বস্তিকর। নিজেকে কেমন যেন অপাঙক্তেয় মনে হয়। আমি মনে করি, এর পরিণতিতে নিজের কমিউনিটির সাথে এই প্রজন্মের অসংখ্য নারীর বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। তবে নিজের কমিউনিটিকে আমরা পুরোপুরি ত্যাগ করতেও পারছি না। ফলে কমিউনিটির সাথেই আমাদেরকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

এই সংগ্রামের তাৎপর্য কী? কেনই বা এর প্রয়োজন দেখা দিলো? নারী এবং নারীদেহ নিয়ে আমাদের বোঝাপড়াগুলো কী? আমার মনে হয়, নারীদেহ এবং নারী সত্ত্বা প্রকৃতিগতভাবেই খারাপ­– এই অনুমানের ফলেই লোকেরা নারী-পুরুষের পৃথকীকরণ চায়।

তাকওয়া মসজিদে

২০০০ সালের ২৪ নভেম্বর রাত আড়াইটায় ব্রিটিশ কলম্বিয়ার স্যুরে শহরে অবস্থিত তাকওয়া মসজিদটিতে দুষ্কৃতিকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মসজিদটি পুড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে মসজিদটি নতুন করে নির্মাণের কাজ চলছে।

মসজিদটির আগের স্থাপনায় নারীদের প্রবেশাধিকার ছিল না। নতুন মসজিদে যেন নারীদেরকে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়, সে জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষের উপর স্থানীয় কমিউনিটি চাপ সৃষ্টি করে। নতুন মসজিদের নকশার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থপতি ও নকশাকার শরিফ সেনবেলের উপর। কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা মসজিদে নারী-পুরুষের নামাজের স্থান পৃথক থাকুক। নারীদের নামাজের কক্ষ দেখার জন্য আমি শরিফ সেনবেলের সাথে উপর তলায় গিয়েছিলাম। তার সাথে আমার কথাবার্তা এখানে তুলে ধরলাম–

এখানে তাহলে নামাজের স্থানের সামনে দেয়াল দেয়া হচ্ছে?

হ্যাঁ, তাই

তাহলে নারীরা কীভাবে জামায়াত অনুসরণ করবে? তারা তো নিচে দেখতে পাবে না।

হ্যাঁ, নিচতলার জামায়াত দেখার কোনো ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়নি

তাহলে নারীরা কীভাবে নামাজ আদায় করবে?

এ জন্য সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে সত্যি করে বললে, দেখার ব্যবস্থা থাকার ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষ চায়নি

ও, আচ্ছা। তারমানে এ ব্যাপারে আপনার করার কিছু ছিল না। তাই তো?

হ্যাঁ, তাই তবে এই দেয়ালটি পুরোপুরি ইটের হবে না অর্ধেক ইটের দেয়াল, আর বাকি অর্ধেক হবে স্বচ্ছ কাচের দেয়াল

মানে নিচের অর্ধেক ইটের, আর উপরেরটুকু কাচের দেয়াল…।

উপরাংশ থেকে ছাদ পর্যন্ত স্বচ্ছ কাচ থাকবে

কথাবার্তার এই পর্যায়ে আমাদের সাথে যোগ দেন স্যুরে শহরের অধিবাসী রুকাইয়া মোহাম্মদ। এতদিন মসজিদটিতে নারীদেরকে যে ঢুকতে দেয়া হতো না, এর আগে তিনি সে কথা স্মরণ করছিলেন। এখন নতুন ভবনে তাদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে দেখে তিনি উদ্বিগ্ন।

তারমানে আমরা খুতবা দেখতে পারবো না!

টিভি মনিটর না বসালে আপনারা নিচতলার কোনো কিছু একেবারেই দেখতে  পাবেন না।

যেন বলা হচ্ছে তোমাদেরকে জায়গা দিয়েছি, এই তো বেশি আর কোনো কথা বলবে না আমার কাছে এমনই মনে হচ্ছে অবশ্য আমি অকৃতজ্ঞ নই, তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই তারা নারীদের জন্য অন্তত এতটুকু হলেও ব্যবস্থা করেছেন, যা তাদের দায়িত্ব ছিল কিন্তু আমি মনে করি, এইটুকু স্থান আমাদের জন্য যথেষ্ট নয় আমার মনে হয়, তারা নারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা বিবেচনা করেনি যদিও অনেক পুরুষ মনে করে, তারা নারীদের প্রয়োজন বুঝে কিন্তু আসলে তারা বুঝে না

কিন্তু আগের মসজিদটিতেও তো নারীদেরকে ঢুকতে দেয়া হতো না।

শুরুতে ঢুকতে দেয়া হতো পরে আবার সুযোগটি বন্ধ করে দেয়া হয় নারীরাও এটি নিয়ে আর উচ্চবাচ্চ করেনি কারণ, নারীরা সাধারণত দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না বিশেষ করে পুরুষদের সাথে কারণ, এসব পরিস্থিতিতে পুরুষরা সবসময় নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে বলে আমার ধারণা পুরুষরা নারীদেরকে কেন দুর্বল ভাবে, আমার তা বুঝে আসে না এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা নারীদেরকে সম্মান করতে পারে না উপরতলায় নামাজ পড়া বা পুরুষদের পেছনে নামাজে দাঁড়ানো এগুলোকে আমি সমস্যা মনে করি না কমিউনিটির সদস্য হিসেবে মসজিদে নামাজ পড়তে পারা তো আমাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার তাই না? কিন্তু তারপরও সমাজের বিরূপ মনোভাবের কারণে আমি নিজেকে বিচ্ছিন্নবোধ করি

(চলবে)

Leave a Reply