শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭
হোম > সাক্ষাৎকার > ইসলামী আইন হিসেবে হুদুদের প্রয়োগযোগ্যতা (শেষ পর্ব)

ইসলামী আইন হিসেবে হুদুদের প্রয়োগযোগ্যতা (শেষ পর্ব)

এডিটর’স নোট:

ইসলামী আইন, এমনকি শরীয়াহ বলতে অনেকে হুদুদকে বুঝে থাকেন। এই ভুল ধারণা দূর করতে প্রফেসর ড .মোহাম্মদ হাশিম কামালীর এই সাক্ষাৎকারটি বেশ কাজে দেবে। ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর ‘মালয়েশিয়ান অবজারভার’ টিভির ‘লেট’স টক’ অনুষ্ঠানে ইসলামী আইন ও হুদুদের ধারণা, প্রয়োগ ও বাস্তবতা ইত্যাদি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্য আজ সাক্ষাৎকারটির অনুবাদের শেষাংশ তুলে ধরা হলো। প্রথম অংশ পড়তে ভিজিট করুন এখানে


মোহাম্মদ ইউনুস: হুদুদ নিয়ে আরেকটা অস্পষ্টতা রয়েছে আপনি সম্ভবত এটি দূর করতে পারবেন কোরআন পড়ে আমি যা বুঝেছি, চারটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রেই শুধু হুদুদের বিধান রয়েছে Freedom, Justice and Equality in Islam এবং Islamic Law in Malaysia: Issues and Developments দুটি বইয়ে আপনিও তা বলেছেন কিন্তু ফিকহী আলোচনায় ফিকাহবিদরা কোরআনে বর্ণিত এই চারটি অপরাধের বাইরেও অন্যান্য অপরাধকে হুদুদের আওতায় নিয়ে আসছেন যদি আমার ভুল না হয়ে থাকে, আমি এটি খেয়াল করেছি প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কেন?

হাশিম কামালী: হ্যাঁ, সত্যিই এমনটি ঘটছে। অথচ, কোরআনে যে চারটি নির্দিষ্ট অপরাধের কথা বলা হয়েছে, এরমধ্যে একটি অপরাধের ক্ষেত্রে আবার সন্দেহ রয়েছে যে, তা আসলেই হদ প্রয়োগের আওতায় পড়ে কি না। সেই অপরাধটি হচ্ছে মদপান। কোরআনে মদপানকে অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বটে। তবে নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির কথা বলা হয়নি।

মোহাম্মদ ইউনুস: সেই চারটি অপরাধ কী কী?

হাশিম কামালী: সেগুলো হচ্ছে, চুরি, ব্যভিচার, ব্যভিচারের অপবাদ এবং মদপান। মদপানের ব্যাপারে কোরআনে বলা হয়েছে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে ঈমানদার লোকেরা! মদ, জুয়া, বেদী ও ভাগ্য নির্ণয়কারী শর হচ্ছে ঘৃণিত শয়তানের কাজ, অতএব তোমরা তা বর্জন করো, আশা করা যায় তোমরা মুক্তি পেয়ে যাবে।

মদ, জুয়া ইত্যাদিকে ঘৃণিত কাজ অভিহিত করে এগুলো থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো শাস্তির কথা এখানে বলা হয়নি। কেউ যদি হুদুদের বিধান ভালো করে বুঝে থাকে তাহলে সহজেই সে ধরতে পারবে, মদপানের অপরাধ হুদুদের আওতাধীন নয়। যদিও ফিকাহবিদরা একে হুদুদের আওতাভুক্ত করেছেন। এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়, ওমর ইবনে খাত্তাবের (রা) শাসনামলে মদপানের জন্য চল্লিশটি বেত্রাঘাত নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা পরবর্তীতেও…। একে রাষ্ট্রীয় আইন (সিয়াসাহ শরীয়াহ) বলা যায়। কিন্তু এটি হুদুদ নয়। এটি তাজীরের পর্যায়ে পড়ে।

মোহাম্মদ ইউনুস: আচ্ছা, ধর্মত্যাগের ব্যাপারে কী বলবেন? এটি কি  হুদুদের আওতাভুক্ত?

হাশিম কামালী: না। এটি হুদুদের আওতাভুক্ত নয়। ইদানীং ধর্মত্যাগ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হচ্ছে। কিন্তু কোরআনে আপনি দেখবেন, ধর্মত্যাগের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ২০/২১টি আয়াত রয়েছে। যারা ইসলাম বা ঈমান ত্যাগ করেছে, সেইসব অবিশ্বাসীদের বিপক্ষে কোরআন নিরবচ্ছিন্নভাবে বলে গেছে। কিন্তু কোরআনের কোথাও নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির কথা বলা হয়নি।

মোহাম্মদ ইউনুস: কিন্তু এ ব্যাপারে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড!

হাশিম কামালী: এ ব্যাপারে একটা হাদীস আছে, যেখানে সিম্পলি বলা হয়েছে, من بدل دينه فاقتلوه (যে ব্যক্তি তার ধর্ম পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করা উচিত)। আমি হাদীসটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছি।  হাদীসটিতে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। যেমন, ‘যে ব্যক্তি তার ধর্ম পরিবর্তন করে’ হাদীসের এই বর্ণনা আমলে নিলে বলতে হয়, একজন ইহুদী যদি হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়, তাহলে তাকেও হত্যা করা উচিত! অথচ এ ধরনের উদ্দেশ্য যে হাদীসটির ছিল না, তা সহজেই বোধগম্য। তাছাড়া এটি ‘মুতাওয়াতির’ হাদীস নয়। এটি একটি ‘আহাদ’ হাদীস। মৃত্যুদণ্ড প্রদানের শর্ত পূরণের জন্য এ ধরনের হাদীস যথেষ্ট নয়।

মোহাম্মদ ইউনুস: তাছাড়া কোরআনেও তো ধর্মত্যাগীর জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই

হাশিম কামালী: হ্যাঁ, কোরআনেও তা বলা নেই। আসলে উল্লেখিত হাদীসটির ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমি খুব সংক্ষেপে তা বলছি। মহানবীর (সা) জীবনকালের শেষ ৯/১০ বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৬/২৭টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। সময়টা তখন যুদ্ধের ডামাঢোলের মধ্যেই ছিল। কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়ার সুযোগ তখন ছিল না। এমতাবস্থায় দেখা গেলো, মদীনার কিছু লোক ইসলাম ত্যাগ করে মক্কায় চলে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে। ফলে এই ধরনের লোকদেরকে মহানবী (সা) নিষিদ্ধ করলেন। কারণ, এটা ছিল সুস্পষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

মোহাম্মদ ইউনুস: হ্যাঁ, এটা তো রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তাহলে আপনার কথার সারমর্ম হলো নিছক ধর্মত্যাগের কারণে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান কোরআনে নেই। তবে হাদীসে এটিকে তখনকার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেয়া হয়েছিল।

যাই হোক, আরেকটি শাস্তি নিয়ে লোকদের মাঝে বিভ্রান্তি লক্ষ করা যায়। সেটি হলো যিনা তথা ব্যভিচারের শাস্তি। কোনো বিবাহিত নারী বা পুরুষ ব্যভিচার করলে তাকে  পাথর মেরে হত্যা করতে হবে বলে একটা ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই একে খুব নিষ্ঠুর বলে সমালোচনা করেন। কোরআনে কি এই শাস্তির ব্যাপারে কিছু বলা আছে?



হাশিম কামালী: কোরআনে একটি শাস্তির কথাই বলা আছে। সেটা হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত। পাথর নিক্ষেপে হত্যা তথা রজমের বিধানটি হাদীসে পাওয়া যায়। মহানবীর (সা) সময়ে সেটা কার্যকর ছিল। তবে এটা নিয়ে আরো কথা আছে। সূরা নূরে ব্যভিচারের শাস্তির বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই সূরাটি নাজিল হয়েছে একদম শেষ পর্যায়ে, মহানবীর (সা) ওফাতের ২/১ বছর আগে।

এই সূরা নাজিলের আগে যিনার অপরাধের জন্য মহানবী (সা) পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের বিধান প্রয়োগ করেছেন। পাথর নিক্ষেপে হত্যার বিধানটি তাওরাতে বর্ণিত। আর তাওরাত ও বাইবেলের বর্ণনাকে আল্লাহর বিধান হিসেবে কোরআন স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই কোরআনে এই অপরাধের শাস্তির বিধান আসার আগ পর্যন্ত তাওরাতকে রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করা মহানবীর (সা) জন্য অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু সূরা নূর নাজিলের পর কোরআনের বিধান হিসেবে ১০০ বেত্রাঘাত নির্ধারিত হয়েছে।

মোহাম্মদ ইউনুস: তাহলে পাথর নিক্ষেপের পরিবর্তে ১০০ বেত্রাঘাতই হলো নির্ধারিত শাস্তি?

হাশিম কামালী: হ্যাঁ, তবে মহানবীর (সা) মৃত্যুর পর খলিফাগণও ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে রজম প্রয়োগ করেছেন কিনা, তা নিয়ে অবশ্য বির্তক রয়েছে। যদিও সহীহ বুখারীতে প্রাসঙ্গিক একটি হাদীস রয়েছে। একবার সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফকে (রা) একজন তাবেয়ী জিজ্ঞেস করলেন, মায়েজ (রা) এবং গামেদী গোত্রের ওই মহিলার (রা) ঘটনা কি সূরা নূর নাজিলের আগে ছিল, নাকি পরে ছিল? উল্লেখ্য, তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। সাহাবী জবাব দিলেন, আমি জানি না। আমি নিশ্চিত নই।

সুতরাং, এখন এ ধরনের বিচারের ক্ষেত্রে পূর্বের বিধানের পরিবর্তে কোরআনে বর্ণিত ১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তিই প্রযোজ্য হবে। আমি মনে করি, কোনো বিষয়ে সংশয় দেখা দিলে আমাদেরকে কোরআনের দিকেই ফিরে যেতে হবে। যেহেতু এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া এ প্রসঙ্গে মহানবীর (সা) একটি হাদীসও রয়েছে। তিনি বলেছেন, ادرئوا الحدود بالشبهات (ন্যূনতম সংশয় থাকলেও হুদুদ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকো)।

উপরোক্ত মায়েজের ঘটনার ক্ষেত্রে যেটা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে সেটা হচ্ছে, ঘটনাটি সূরা নুর নাজিলের আগে নাকি পরে…। আরেকটি বিষয় হলো ইজতিহাদ অবলম্বন না করে নিছক আক্ষরিক অর্থে হুদুদ প্রয়োগ করলে একটা সংশয় থেকেই যায়। অথচ কোরআন ও সুন্নাহর দাবি হলো, সমাজ ও সময়ের বাস্তবতার সাথে শরীয়াহ আইনকে সমন্বয় করা। যদিও এই ব্যাপারটি এখন করা হচ্ছে না। কেলান্তান প্রদেশের প্রস্তাবিত হুদুদ আইনের কথাই ধরা যাক। সেখানে ছয়টি শাস্তিকে হুদুদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আমার মতে, সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মত্যাগ এবং মদপান– এই শাস্তিগুলো হুদুদের আওতায় পড়ে না।

মোহাম্মদ ইউনুস: তারমানে এই হুদুদ বিলটি নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে?

হাশিম কামালী: আমি বলবো, কোনো ধরনের ইজতিহাদ না করে নিছক ফিকাহর বইপত্র ঘেঁটে এই বিলটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ জন্য আমি বলে থাকি, হুদুদ প্রয়োগের যে নানান ধরন ও প্রেক্ষাপট রয়েছে, তার উপর আমাদের নজর ফেরাতে হবে। আমরা সত্যিকার অর্থে ইসলামের দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবায়ন করতে চাইলে মহানবীর (সা) সেই নীতি অনুসরণ করতে হবে, যেখানে শাস্তি প্রয়োগের বেলায় ন্যূনতম বিকল্প গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। অথচ এখন সর্বোচ্চ বিকল্পটাই গ্রহণ করা হচ্ছে!

মোহাম্মদ ইউনুস: আমাদের সময় খুব সংক্ষিপ্ত। তারপরও আপনাকে আরো কিছু প্রশ্ন করতে চাই। হুদুদ আইন কি ঈমানের অঙ্গ? এটি কি আকীদার অংশ? এই অর্থে যে, একজন মুসলিম হিসেবে আমাকে এটি প্রতিষ্ঠা করতেই হবে?

হাশিম কামালী: না, তা নয়। ইসলামের মূলভিত্তি হলো এর পাঁচটি স্তম্ভ (আরকান)। আমরা সবাই সেগুলো জানি। তাছাড়া একটি শাস্তির বিষয় কখনো আকিদার অংশ হতে পারে না। হুদুদ ইসলামের কোনো রুকন নয়। এটি ঈমানের অঙ্গও নয়।

তারচেয়েও বড় কথা হলো একটি হাদীসে বলা হয়েছে, কোনো মুসলমানকে যদি শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দেয়ার উপায় থাকে, তাহলে প্রথমে সেই উপায়টি খুঁজে বের করো।

ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস খেয়াল করলে আপনি দেখতে পাবেন, হুদুদ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে মহানবী (সা) ও সাহাবীদের নিকট কেউ আসলে তিনি বার বার প্রশ্ন করে জানতে চাইতেন, ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরোপুরি নিশ্চিত কি না। এমন একটি ঘটনার বর্ণনাও হাদীসে পাওয়া যায়। আমার বইয়ে ঘটনাটি উল্লেখ করেছি। একবার এক ব্যক্তি মহানবীর (সা) কাছে এসে বললো– আমাকে শাস্তি দিন, কারণ আমি যিনা করেছি। এ ঘটনার জন্য আমার তীব্র অনুশোচনা হচ্ছে। তখন নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল। মহানবীর (সা) পেছনে দাঁড়িয়ে সবাই নামাজ আদায় করলেন। নামাজের পর লোকটি মহানবীকে (সা) আবার বললো– আমি শাস্তি পেতে চাই। জবাবে মহানবী (সা) বললেন– তুমি কি আমার পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়োনি? আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে এটাই ছিল মহানবীর (সা) কর্মনীতি। তিনি সবসময় ৩/৪ বার জিজ্ঞেস করতেন– তুমি কি ঘটনার ব্যাপারে নিশ্চিত? তোমার বোধহয় কোনো ভুল হচ্ছে। তুমি হয়তো…। এভাবে ন্যূনতম কোনো সংশয় থাকলেও তিনি হুদুদ প্রয়োগ না করার চেষ্টা করতেন।

মোহাম্মদ ইউনুস: খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয়। এটি নিয়ে আমাদের আরো আলোচনার অবকাশ রয়েছে। যাই হোক, হুদুদ নিয়ে চলমান বিতর্কে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান কেমন হওয়া উচিত? এ ব্যাপারে সংক্ষেপে যদি আপনার অভিমত জানাতেন

হাশিম কামালী: ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো হুদুদকে রাজনৈতিকীকরণ না করা। হুদুদকে বুঝতে হলে প্রথমে কোরআনের মর্মার্থকে সামগ্রিক অর্থে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। তারপরেই বুঝা যাবে, হুদুদ প্রকৃতপক্ষে অপরিবর্তনযোগ্য কোনো ব্যাপার নয়। বরং অনুশোচনা ও সংশোধন ইত্যাদিকে বিবেচনায় নিয়ে হুদুদের প্রচলিত ধারণার মধ্যে সংস্কার আনার সুযোগ রয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে হুদুদের তাৎপর্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল কথা হলো, কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী যে হুদুদ প্রয়োগ করতে হবে, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এর পাশাপাশি হুদুদের প্রকৃত উদ্দেশ্য যেন পূরণ করা যায়, সে জন্যই আমাদেরকে সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। ন্যায়বিচার কিংবা অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে নয়, নিছক হুদুদের জন্যই হুদুদ প্রয়োগ করতে হবে, যেন এটি আকীদার অংশ– এই ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো ধরনের শাস্তি বা যন্ত্রণা প্রদানকে ইসলাম কখনোই ঈমানের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেনি।

ইসলাম মানুষের জন্য রহমত, দয়া, ক্ষমা, এমনকি এগুলোর চেয়েও বেশিকিছু। আমাদের সমাজ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আলেমগণ হুদুদকে যেভাবে বুঝে থাকেন, সে ধরনের শাস্তি আরোপ করা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।

আইয়ুব আলী
আইয়ুব আলী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত

আপনার মন্তব্য লিখুন