শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭
হোম > সমসাময়িক > তিউনিশিয়ায় ইসলামপন্থীদের মতাদর্শিক সমঝোতা (শেষ পর্ব)

তিউনিশিয়ায় ইসলামপন্থীদের মতাদর্শিক সমঝোতা (শেষ পর্ব)

এডিটরস নোট:

বিশ্বব্যাপী ইসলামপন্থা একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাদি হামিদ তার Islamic Exceptionalism: How the Struggle Over Islam Is Reshaping the World শীর্ষক বইয়ে এই পরিবর্তনের একটি চিত্র এঁকেছেন। Tunisia: Islamists Conceding Their Islamism শিরোনামে বইটিতে একটি চ্যাপ্টার রয়েছে। তিউনিশিয়ার রাজনীতি, বিশেষত সেখানকার ইসলামপন্থীদের কর্মকৌশল বোঝাপড়ার একটা চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্য এই চ্যাপ্টারটির ধারাবাহিক অনুবাদ করছেন মাসউদুল আলম। আজ ছাপা হলো শেষ পর্ব।


প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব


উপরের এই সমস্যাগুলো আধুনিকীকরণের সাথে সম্পর্কিত। এই আধুনিকীকরণ ঠিক কেমন? আসলে এটা এক ধরনের জগাখিচুড়ি। একটি একক শক্তি হিসেবে ইসলামের যে প্রাক-আধুনিক ধারণা, তা রাজনৈতিক দল সংক্রান্ত আধুনিক ধারণার সাথে ঠিক খাপ খায় না। রাজনৈতিক দল এবং জাতিরাষ্ট্র এখন অবিচ্ছেদ্যভাবে পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। মোটকথা, এখন একটা রাষ্ট্র থাকে, যাকে একটা সরকার পরিচালনা করে এবং এই পরিচালনার সুযোগ লাভের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করে থাকে। রাষ্ট্র যত বেশি শক্তিশালী, ক্ষমতার জন্য লড়াইও তত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা খাতের উপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, বিশাল সংখ্যক নির্ভরশীল নাগরিকদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও কর্মসংস্থানের বোঝা কাঁধে থাকলে শক্তিশালী কোনো রাষ্ট্রও চরম দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। যেমন আধুনিক আরব রাষ্ট্রগুলো।

আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের কোনো অতীত উদাহরণ নেই। ফলে ইসলাম ও রাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতার জন্য অতীতের কোনো মডেলও সম্ভবত নেই। এটা এমন এক ডিলেমা, যার কোনো সমাধান নেই। তাই ইসলামী নৈতিক কাঠামোই (যা এক সময় মুসলমানদের মধ্যকার ঐক্যবদ্ধতার সূত্র ছিল) এখন অন্যতম প্রধান একটি ‘ইসলামী’ দলের ট্রেডমার্ক হয়ে ওঠেছে। এই দলটি শুধু ইসলামপন্থাই নয়, স্বয়ং ইসলামের সাথেও সংশ্লিষ্ট। দলটি স্বভাবতই প্রথমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চাইবে। তারপর রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক মেরুকরণকে প্রকট করে তুলতে পারে। এর ফলে মতাদর্শ, দল ও ক্ষমতা– একটি আরেকটির সাথে মারাত্মকভাবে জড়িয়ে গেছে। অবশ্য, এই ডিলেমা সম্পর্কে ইসলামপন্থীরা অসেচেতন নয়। আপনি যদি তাদেরকে প্রশ্ন করেন তারা সম্ভবত জবাব দেবে, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরো বিস্তৃত করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার। প্রকৃত পক্ষে, একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ব্রাদারহুড ঘরানার সংগঠনগুলো তাদের নানা ধরনের রাজনৈতিক প্লাটফরম ও নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ ধারণাকে পছন্দ করতে শুরু করেছে।*[1] কিন্তু সবার আগে একটি শক্তিশালী, কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ব্যতীত বিকেন্দ্রীকরণের মতো দুঃসাহসী কাজের বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব, বিশেষ করে যখন এ ধরনের সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্র নিজেই নিজের ক্ষমতা খর্ব করার প্রসঙ্গ আসবে?

ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ইসলামপন্থী ও সেক্যুলারদের মধ্যকার জটিলতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। অধিকাংশ আরব দেশেই শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল দলীয় কাঠামোর অভাব রয়েছে। যদিও সেখানে গণতন্ত্রের পথ উন্মোচিত হচ্ছে। তারপরও বাস্তবতা হলো, সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলো হয় খুব দুর্বল, নয়তো জনগণকে নামমাত্র রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ দেয়া হয়। নিজেদেরকে একদম গোড়া থেকে গড়ে তুলতে নতুন দলগুলোর কয়েক দশক না হলেও কয়েক বছর তো লাগবেই। যদিও একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী আদর্শ ব্যবস্থা  হিসেবে ‘গণতন্ত্র’, বিশেষ করে নির্বাচনকে মেনে নিতে  কোনো কোনো গণতন্ত্রী আপত্তি করবেন। তাদের মতে, অন্তত জাতীয় পর্যায়ে নিছক নির্বাচনকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য গণতন্ত্র মনে করা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। প্রচলিত অর্থে দল বলতে যা বুঝায়, মিশর ও তিউনিশিয়ার কোথাও ইসলামপন্থীদের সে ধরনের দল ছিল না। তবে আদর্শিকভাবে মজবুত আন্দোলন হওয়ায় তারা খুব সহজেই নিজেদেরকে দলে রূপান্তরিত করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা হয় নতুন একটি সহযোগী দল গঠন করে (যেমনটা মিশরে হয়েছে), নয়তো এমন একটি নতুন ধারা তৈরি করে যেখানে দল ও আন্দোলন পরস্পর অবিচ্ছেদ্য (যেমনটা তিউনিশিয়ায় হয়েছে)। প্রথমবারের মতো অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে সালাফী দলগুলোসহ ইসলামপন্থীরা সম্মিলিতভাবে মিশরে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং তিউনিশিয়ায় ৪১ শতাংশ আসনে জিতেছে। অন্যদিকে, বৃহত্তম সেক্যুলার দলগুলো মিলে যথাক্রমে ৭.৬ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ আসনে জয়লাভ করেছে। যে কোনো বিবেচনায়ই এটি বিশাল পরাজয়। এই ফলাফলের কারণে শুরুতেই নন-ইসলামিস্টদের জন্য গণতন্ত্র একটা অসুবিধাজনক ব্যাপার হয়ে ওঠার ভীতি তৈরি হয়েছে। সংবিধান, রাষ্ট্র এবং পার্লামেন্টে ইসলামপন্থীরা যখন এতটাই দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে পরিবর্তন করে ফেলা বেশ কঠিন, সেক্যুলার ও লিবারেলরা তখন এইসব নিয়ে বলতে গেলে উদাসীন।

লিবারেল ও সেক্যুলারদের আরেকটা সমস্যা আছে। সম্ভবত এটা আরো বেশি মৌলিক সমস্যা। সেটা হলো, মোটাদাগে ইসলামপন্থীদের অপছন্দ করা ছাড়া মিশর ও তিউনিশিয়ায় ‘লিবারেলিজম’ বলতে তারা আদতে কী বুঝে, তা পরিস্কার নয়। ব্যাপার যাই হোক না কেন, তারা মূলত সমাজের সংখ্যালঘু অংশ, শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রগামী শহুরে এলিট। ইসলামপন্থীদের মতো লিবারেলদের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো নেই। অন্যভাবে বললে, লিবারেলিজম কখনোই একটি জীবনব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর ছিল না, কখনো হবেও না (লিবারেলিজম একজন ব্যক্তিকে তার নিজের মতো করে জীবনযাপন করার স্বাধীনতা দেয়। এর পরিণতি যাই হোক না কেন)। কারণ, লিবারেলিজম কী, অথবা কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ– সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এটি কোনো ইতিবাচক ভিশন তুলে ধরতে পারে না। লিবারেলদের স্বাধীন চয়েস খুব সামান্যই। বরং ইসলামপন্থার তীব্র বিরোধিতাই তাদের সারকথা। নন-ইসলামিস্ট দলগুলো আরব বিশ্বে খুব ভালো করছে না। বিভিন্ন ব্যক্তি, সিভিল সোসাইটি গ্রুপ এবং ছোট দলগুলো মিলে তারা যে বৃহৎ কোয়ালিশন গড়ে তুলেছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে খুব কমই ঐক্যমত্য রয়েছে। এই দৃষ্টিতে দেখলে বলা যায়, তাদের এই ঐক্যবদ্ধতার ভিত্তি হলো এমন এক শত্রুকে চিহ্নিত করা যার অস্তিত্বই তাদেরকে বাধ্য করেছে এই শত্রু থেকে নিজেদের পার্থক্য গড়ে তুলতে। যদিও তা সাময়িক।

এর পরিণতি হলো নিজেদেরকে প্রান্তিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেয়া। নিজেদের অস্তিত্বের বৈধতা দিতে এবং নিজেদের সুশৃঙ্খল কোনো মতাদর্শ না থাকায় অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে নন-ইসলামিস্ট দলগুলো ইসলামপন্থী ও সেক্যুলারদের মধ্যকার বিভাজনের উপর অনেক বেশি জোর দিয়েছে এবং ক্রমে এই বিভাজনকে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে। তাই বলা যায়, একবার ধর্মীয় ও মতাদর্শিক বিভাজন গেড়ে বসলে তা থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত সিমুর লিপসেট এবং স্টেইন রোকেনের Party Systems and Voter Alignments শিরোনামের গবেষণামূলক বইয়ে তারা দাবি করেছেন, রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া নাগরিকদের মধ্যে নানা ধরনের বিভাজন তৈরি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী বিভাজনকে উসকে দেয়।[2] পাশ্চাত্যের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশে মতভেদের প্রধান ইস্যু যে অর্থনীতি। এটি কোনো আকস্মিক ব্যাপার নয়। আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এটি হয়েছে। আর এখানেই রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যদি বিশেষ কোনো দল লাইমলাইটে চলে আসে, তাহলে অন্যান্য দল থেকে তারা কীভাবে আলাদা, তা ব্যাখ্যা করার বিশাল একটা সুযোগ তারা পেয়ে যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিদ্যমান একাডেমিক কাজগুলোর মূলকথা হলো, “দলগুলো নিজেরাই… দলের সিস্টেমের পরিবর্তন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর।[3] কিংবা রাজনীতিবিজ্ঞানী নিক সিটারের ভাষায় বলা যায়, “দলগুলোর রয়েছে প্রভাবিত তৈরির ক্ষমতা।[4]

ইসলামপন্থী বনাম সেক্যুলার বিভাজন থেকে সেক্যুলারদের পাশাপাশি ইসলামপন্থীরাও লাভবান হয়েছে। এই বইয়ের আগের চ্যাপ্টারে আমরা দেখেছি, ইসলামপন্থা হচ্ছে ইসলামী আত্মপরিচয় সম্পর্কে কারো সচেতন দাবির উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক ধারণা। ইসলামী আত্মপরিচয় নিয়ে সংকট তৈরি হলেই কেবল এই পরিচয়ের উপর জোর দেয়া হবে। যদি ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত হয় (ঘানুশী, আবদুল ফুতুহ এবং অন্যান্য ‘লিবারেল’ ইসলামপন্থীরা আশা করছেন, এমনটা ঘটবে), তাহলে ইসলামপন্থীরা তাদের লেজিটেমেসির আসল কারণটাই হারিয়ে ফেলবে। এটা একটা ইতিবাচক ব্যাপারই হবে হয়তোবা। কিন্তু ইসলামপন্থীরা সম্ভবত একে নেতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখবে। কারণ তারা মনে করে, ইসলাম এমন একটি ব্যাপার, যা ইসলামপন্থার গুরুত্ব ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনী তৎপরতার দিক থেকে দেখলেও বলা যায়, সমর্থকদের সমর্থন করার পেছনে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খেলাফত পরবর্তী সময় থেকে শুরু হওয়া টানাপড়েনের গোড়াতেই যেসব সমস্যা রয়েছে, ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠার আকাঙ্খা পূর্ণ হলে এসব সমস্যা আপনাতেই মিটে যাবে বলে আশা করা যায়। কোনো পরিস্থিতিতে মতাদর্শ যখন সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন নাগরিকদের আদর্শিক বন্ধন শিথিল করাটা এক ধরনের সমাধান বটে। কিন্তু এটা কি বাস্তবসম্মত? প্রাক আধুনিক যুগে ইসলাম যেভাবে ঐক্যের সূত্র ছিল, আবারো তেমনটি হয়ে ওঠতে পারে– এ রকম মনে করাটা ইউটোপীয় চিন্তার কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করারই নামান্তর। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সফল দুটি গণতান্ত্রিক দেশ তিউনিশিয়া ও তুরস্কে এ ধরনের উদ্ভট চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। সেখানে সেক্যুলারাইজেশনের প্রভাব কিছুটা কমে গেলেও একে পুরোপুরি মুছে ফেলা যাবে না। উভয় দেশেই যথেষ্ট পরিমাণে সেক্যুলার এলিটরা রয়েছে। পাবলিক লাইফে ইসলামের ভূমিকা কতটুকু থাকবে, নিছক সেটি নিয়ে ইসলামপন্থীদের সাথে তাদের বিরোধ নয়। তারা বরং চায় ইসলামের কোনো ভূমিকা আদৌ না থাকুক। আমরা আগেই দেখেছি, যখন ইসলামী শক্তির পক্ষে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং ‘সবকিছু কব্জা করার’ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হাতে পাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন আদর্শগত ও ধর্মীয় মেরুকরণ সম্ভাব্যতার পর্যায় পেরিয়ে অনিবার্য হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গণতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক নয় (যদিও লিবারেল গণতন্ত্রের সাথে তা কিছুটা সাংঘর্ষিক)। দিন শেষে কোনো না কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই গণমানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। সমাজের নানা পক্ষের মতাদর্শিক চিন্তার সাথে আমরা একমত হই বা না হই, গণতন্ত্র তা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। মতাদর্শিক বিভাজন যতদিন পর্যন্ত সত্যিকার ও অর্থপূর্ণ না হবে, ততদিন পর্যন্ত তুর্কি, তিউনিশীয় বা মিশরীয়দের মতাদর্শ থেকে দূরে থাকা উচিত। সাময়িকভাবে মতাদর্শকে এক পাশে সরিয়ে রাখা কিংবা নিজেদের স্বার্থকে মুখ্য মনে না করা (আন নাহদা যেমনটি করার চেষ্টা করছে) তুলনামূলকভাবে ভালো। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধক। যদি ‘গণতন্ত্র’ সফল হয়, তা হতে পারে ইসলামপন্থীদেরকে কোনঠাসা করার মাধ্যমে কিংবা ইসলামপন্থীরা নিজেরাই তাদের ইসলামপন্থার ব্যাপারে আপসকামী হওয়ার ফলে। এমনটা হলে নিশ্চিতভাবেই তা হবে একটি ভঙ্গুর  গণতন্ত্র।

রেফারেন্স ও নোট:

[1] * (অনির্বাচিত) কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের বিপরীতে নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদেরকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার উপর মিশরীয় ব্রাদারহুডের স্পষ্ট অবস্থানের বিস্তারিত ও সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে ২০০৫ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ’ সেকশনটি। ব্রাদারহুডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় মন্ত্রীসভার কাজ হবে বৃহত্তর পলিসি ও কৌশল ঠিক করা; আর এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় সরকারের উপর। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো অনুমোদন ব্যতিরেকেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ভৌগোলিক সীমার মধ্যকার ট্যাক্স এবং বিভিন্ন ফি আদায়ের ক্ষমতা লাভ করবে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে জাকাত সংগ্রহের জন্যও তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবে। স্থানীয় সরকারের খরচের পর যদি কোনো উদ্বৃত্ত থাকে, তাহলেই কেবল তা রাজস্ব বিভাগে জমা করা হবে। ফাইনালি, মিউনিসিপ্যাল নেতৃবৃন্দের স্বাধীনতা যেন নিশ্চিত থাকে,  সে জন্য বেসরকারী ফান্ডিং মেকানিজমের মাধ্যমে তাদের বেতন প্রদান করা হবে (আল-বারনামাজ আল-ইনতিখাবি লিল ইখওয়ান আল-মুসলিমিন ফিল ইনতাখাবাত আল-তাশরিয়্যাহ [সংসদীয় নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্বাচনী ইশতেহার], কায়রো, নভেম্বর ২০০৫)।

[2] Seymour Lipset and Stein Rokkan, Party Systems and Voter Alignments: Cross-National Perspectives (London: Free Press, 1967).

[3] Nick Sitter, “Cleavages, Party Strategy and Party System Change in Europe, East and West,” Perspectives on European Politics and Society, volume 3 (2002), p. 448.

[4] Ibid.

আপনার মন্তব্য লিখুন