মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭
হোম > লেকচার অনুবাদ > ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (প্রশ্নোত্তর পর্ব ৩)

ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (প্রশ্নোত্তর পর্ব ৩)

এডিটর’স নোট:

ইসলামী চিন্তার সংস্কারের প্রসঙ্গ আসলে প্রায়শই একটা প্রশ্ন উত্থাপিত হয় – সংস্কারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনাযোগ্য, আর কোনগুলো অপরিবর্তনীয়? এক্ষেত্রে অতি উদার কেউ কেউ শরীয়াহর খোলনলচে পাল্টে ফেলতে চান, আবার অতি রক্ষণশীল কেউ কেউ মনে করেন ইসলামে সংস্কারের কোনো ধরনের সুযোগ নেই। এই দুই প্রান্তিক অবস্থানের বাইরে সঠিক পথ কী হতে পারে?

২০১৪ সালের নভেম্বরে লন্ডনে প্রদত্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার এক বক্তৃতায় শায়খ ড. ইয়াসির ক্বাদী এ ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন। একটি গল্পের আশ্রয় নিয়ে পুরো বিষয়টিকে তিনি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্যে বক্তৃতাটির অনুবাদ পাবলিশ করা হয়েছে। এখন প্রশ্নোত্তর পর্বের ধারাবাহিক অনুবাদ তুলে ধরা হচ্ছে। এটি শেষ পর্ব। অনুবাদ করেছেন আইয়ুব আলী


বক্তৃতা: পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫, পর্ব ৬ ||| প্রশ্নোত্তর: পর্ব ১, পর্ব ২


প্রশ্ন

ইসলামের সংস্কারের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কার কি সর্বাধিক জরুরি নয়? কারণ, আলেমগণ যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত এবং উপযুক্ত হিসেবে গড়ে ওঠলে সমসাময়িক নানাবিধ সমস্যা ও বাধা মোকাবেলায় তারা সক্ষম হবেন।

উত্তর

শিক্ষাক্ষেত্রকেই সংস্কারের একমাত্র জায়গা বলে আমি মনে করি না। অবশ্যই সংস্কারের আরো ক্ষেত্র রয়েছে। ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো-মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। একইভাবে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোরও ভালো-মন্দ রয়েছে। আমি দুই ধারার প্রতিষ্ঠানেই পড়াশোনা করেছি। পাশ্চাত্যের প্রতিষ্ঠান থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর ডিগ্রি নিয়েছি। তারপর মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বছর পড়াশোনা করেছি। তারপর আবার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা ও মানববিদ্যায় মাস্টার্স করেছি এবং সেখান থেকে পিএইচডিও করেছি। সবমিলিয়ে আমি টানা ২২ বছর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। বিশ্বাস করুন, এর ফলে আমি নিছক দুইটা ব্যাচেলর, তিনটা মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রিই করেছি, তা নয়। বরং উভয় ব্যবস্থা থেকে আমি ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি, সেটা এখন বুঝতে পারি। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে পশ্চিমা বিশ্বে একটি প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপন করার যে স্বপ্ন আমি দেখি, তার পেছনে এই উপলব্ধিও একটা কারণ। সেই কলেজে আমরা আলেমদেরকে প্রশিক্ষণ দেবো। যেন তাঁরা অপেক্ষাকৃত অগ্রগামী চিন্তা করতে পারেন। যেন তাঁরা রাজনীতি, মিডিয়া এবং সমাজে আরো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন।

সংস্কার আমাদের জন্য জরুরি বটে। তবে সবার আগে এই দেশের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপারে আপনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তাভাবনার সংস্কার হওয়া দরকার। আমি এখানে এক ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম। তাকে বললাম, আপনি আলেমদের অবস্থা নিয়ে ভাবছেন – এটা বেশ ভালো। কিন্তু আপনার নিজের খবর কী? ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য আপনি নিজে কী করছেন? আপনার নিজের জীবনের ভিশন কী? আপনার মসজিদ, কমিউনিটি, প্রতিবেশী এবং বন্ধুবান্ধবদের ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী? ব্যক্তি পর্যায়ে এগুলোই হচ্ছে আপনার জন্য সংস্কারের ক্ষেত্র।

আপনি নিজেও এই দেশ ও সংস্কৃতির অংশ – এই ব্যাপারটা আপনাদেরকে সহজে মেনে নিতে হবে। ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’ – এই মানসিকতা থাকা উচিত নয়। আপনার মনমতো এমন কোনো দেশ নেই, এই দেশ ছেড়ে গিয়ে যেখানে আপনি বসবাস করতে পারবেন। বিশেষ করে, যারা এখানে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, তারা অন্য কোথাও গিয়ে এখানকার মতো স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবেন না। এই দেশে বসবাস করাটাই অন্যায় নয়। মনের মধ্যে এ ধরনের অপরাধবোধ থাকলে তা ঝেড়ে ফেলুন। এটা ঠিক, এ দেশের বেশিরভাগ বৈদেশিক নীতির ব্যাপারে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ রয়েছে। তবে এই নীতিগুলোর পরিবর্তনের জন্য ভেতর থেকে আপনিই সবচেয়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। জনমত, মিডিয়া বা এ জাতীয় অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বাইরের কারো পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

আর দাওয়াতী কাজ তথা মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রেও এখানে আপনার স্বাধীনতা রয়েছে। তাই শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলো দেখা উচিত নয়। এগুলো আমাদের জন্য তেমন কোনো সমস্যা নয়। অবশ্য মুসলমানদের ব্যাপারে একটা বাস্তবসম্মত অভিযোগ হচ্ছে – তারা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ভালোবাসে এবং অন্যকে দোষারোপ করতে পছন্দ করে। এটা আসলেই একটা সমস্যা। এটা মহানবীর (সা) সুন্নত নয়।

মনে রাখতে হবে, ইলুমিনাতি’রা দুনিয়া চালায় না। পবিত্র কাবা শরীফ যেভাবে মুসলমানদের একত্রিত হওয়ার কেন্দ্র, তাদের সে রকম কোনো গুপ্ত কেন্দ্র নেই, যার অদৃশ্য সুতার টানে সবাই নিয়ন্ত্রিত হয়। আল্লাহই সৃষ্টিজগতের পরিচালক। অন্য কেউ নয়। হ্যা, তারা শক্তিশালী বটে। কিন্তু তারা ব্ল্যাক ম্যাজিক বা এ রকম কোনো কিছুর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়নি; অর্থ, প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদির মাধ্যমেই হয়েছে। সত্য সবসময়ই ক্ষমতার উপর জয় লাভ করে। মুসা (আ) থেকে শুরু করে ইসলামের সকল নবী-রাসূলের জীবনীর উপর আলোকপাত করলে আমরা দেখতে পাই, সত্য সর্বদা মিথ্যার উপর জয় লাভ করেছে।

তাই আপনি আপনার কাজে মনোযোগ দিন। কোনো অযুহাত দেখাবেন না। এখনো অনেক কিছুই করার বাকি রয়েছে। নিজের জীবনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই আপনাদের প্রত্যেকের সংস্কার কাজ শুরু করা উচিত। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন – ‘নিজের, পরিবারের এবং কমিউনিটির ভবিষ্যত মঙ্গলের জন্য আমার ভিশন কী?’ এই ভিশনের যে বৈশ্বিক রূপ থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ‘ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে তুমি এককভাবে কী দায়িত্ব পালন করেছো?’ – আল্লাহ আপনাকে এই প্রশ্ন করবেন না। কিন্তু আপনি চাইলেই আপনার মসজিদের জন্য কিছু গঠনমূলক কাজ করতে পারেন। আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদেরকে নামাজের জন্য উৎসাহ দিতে পারেন। ইবাদতমুখী, কর্মনিষ্ঠ ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরির মাধ্যমে তাদেরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে পারেন। ঘনিষ্ট বন্ধুমহলের মধ্যে পরিবর্তনের কাজ শুরু করতে পারেন। সবাই যদি তার অমুসলিম প্রতিবেশী ও সহকর্মীর সাথে সদ্ভাব বজায় রাখে, তাহলে কী ব্যাপার ঘটবে – আপনি কি তা ভাবতে পারছেন? নিশ্চয় খুব ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ইসলামের জন্য কাজ করার একমাত্র উপায় হলো আলেম হওয়া – এমনটা মনে করবেন না। নিঃসন্দেহে এটা একটা ভালো উপায়। কিন্তু সবাই আলেম হয়ে গেলে দুনিয়া চলবে কীভাবে? সাহাবীদের সবাই আলেম ছিলেন না। আবু হুরায়রা (রা) আলেম ছিলেন, কিন্তু খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) ছিলেন না। কোরআন-হাদীসের বিশেষায়িত জ্ঞান তাঁর ছিল না। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা), ওসমান ইবনে আফফানের (রা) ক্ষেত্রেও এই কথা খাটে। ওসমান (রা) আর্থিক সহায়তা করার দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন। তখন আমাদের জন্য ওসমানের (রা) মতো সফল ব্যবসায়ীর প্রয়োজন ছিল। তাই আল্লাহ তায়ালা আর্থিকভাবে অনেক কিছু করার সামর্থ্য তাঁকে দিয়েছিলেন।

সুতরাং, আমি মনে করি, আপনাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে। নিজের সামর্থ্যকে তুচ্ছ ভাববেন না। আপনার কাজে আপনার বিকল্প কেউ নেই। আপনার বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীসহ যারা এখানে উপস্থিত নেই, তাদেরকে আপনিই প্রভাবিত করতে পারবেন। আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। আপনার কাজটা অন্য কেউ করে দিবে না। তাই আল্লাহ আপনাকে যে মেধা, দক্ষতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং উদ্যম দিয়েছেন, সে অনুযায়ী আপনার নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। আপনারা প্রত্যেকেই যদি যার যার দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে নিশ্চয়ই পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে ওঠবে। পরিবার, সহকর্মী ও সর্বোপরি নিজের জন্য একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাওয়াই আপনার কাজ। তাহলেই ইনশাআল্লাহ, শেষ বিচারের দিন আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যেসব নেয়ামত দিয়েছেন, আমি সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।’ এর ফলেই আপনি জান্নাতুল ফেরদাউস পেয়ে যেতে পারেন। এটাই আমাদের ধর্মের সৌন্দর্য।



প্রশ্ন ৬

আপনি বলেছেন, কেউ যত বেশি স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখবে, সে তত বেশি কোনঠাসা হয়ে পড়বে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটা খুবই সত্য। কিন্তু এমন একজন বোনের অবস্থা কেমন হবে যিনি শালীনতার দাবি পূরণ করতে গিয়ে হিজাব পরিধান করছেন, এমনকি নিকাবও পরছেন, যেটি তার দৃষ্টিতে ফরজ? আমাদের প্রবীণদের মতেও এটি এমন হওয়া উচিত। এমতাবস্থায় বৃটিশ সমাজে এটাকে কীভাবে মানিয়ে নেয়া যাবে?

উত্তর

আমি স্পষ্টভাবেই বলেছি, শরীয়াহ যতটুকু অনুমোদন করে, প্রচলিত সংস্কৃতির ততটুকুই আমরা গ্রহণ করবো। এটাই করা উচিত। তাই বলে সমাজের ডমিন্যান্ট ন্যারেটিভ হওয়া সত্বেও আমরা নিশ্চয় পানশালায় যাবো না। শরীয়াহ এটা অনুমোদন করে না। অর্থাৎ এ জায়গায় এসে আমাদের সীমারেখা টানতে হবে। নারীদের মাথা ঢাকার প্রসঙ্গেও একই কথা প্রযোজ্য। কোরআনে এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবেই বলা আছে। এটা মধ্যযুগের কয়েকজন আলেমের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ মাত্র নয়। কেউ যদি কোরআনের এই স্পষ্ট বক্তব্যকে অস্বীকার করে তাহলে বুঝতে হবে, তিনি আসলে সাধারণ আরবী ভাষাই বুঝেন না। কারণ, আরবীতে মাথা ঢাকার কাপড় বুঝাতে যে শব্দ রয়েছে, সেটাই আল্লাহ তায়ালা ব্যবহার করেছেন।

وَلْيَضْرِ‌بْنَ بِخُمُرِ‌هِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ

তারা যেন তাদের বক্ষদেশের উপর মাথার উড়না ফেলে রাখে। (সূরা নূর: ৩১)

অর্থাৎ, শব্দটি হচ্ছে ‘খুমুর’ বা ‘খিমার’, যাকে আমরা হিজাব বলে থাকি। ‘খিমার’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থই হচ্ছে মাথা ঢেকে রাখার চাদর বা ওড়না (head scarf)। কোরআনে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই, একজন নারীর ‘আওরা’, যার মধ্যে মাথাও অন্তর্ভুক্ত, ঢেকে রাখার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে ঐক্যমত রয়েছে।

পক্ষান্তরে, এ ব্যাপারটাকেই আমরা আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বানিয়ে ফেলেছি। মাথা ঢেকে হিজাব পরিধান করা কিংবা দাড়ি রাখা মানেই কেউ ভালো মুসলমান – এমনটা মনে করা রক্ষণশীলদের অন্যতম একটা সমস্যা। দুঃখজনকভাবে, অনেকেই অবচেতনভাবে এই মানসিকতা দ্বারা আচ্ছন্ন। আমরা সত্যি সত্যিই তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে এ বিষয়গুলোর আলোকে বিচার করা শুরু করি। অথচ আমরা এগুলোকে যতটা অপরিহার্য মনে করি, এগুলো ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারমানে, আমি এগুলোকে মোটেও অগুরুত্বপূর্ণ বলছি না। কিন্তু এগুলো নামাজ আদায়ের মতো অপরিহার্য নয়। এমন অনেক দাড়িওয়ালা ভাই আছেন, যারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন না। আবার, এমন অনেক বোন আছেন, যারা হিজাব না পরলেও আখলাকের দিক থেকে ভালো, গীবত করেন না, ‘এটা-সেটা’ করে বেড়ান না। হিজাব না পরার চাইতেও গীবত করা বেশি গুনাহর কাজ। অথচ অনেক হিজাবী বোনই গীবত করে বেড়ান!


মূল কথা হচ্ছে, এমন কিছু বাহ্যিক বিষয়ের আলোকে অন্যদের ধার্মিকতা যাচাইয়ের সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে চালু হয়ে গেছে, যেগুলো আসলে অপেক্ষাকৃত নমনীয় ব্যাপার। বিরিয়ানী খাওয়া যদিও হালাল, কিন্তু এটা নিশ্চয় ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না ধরে নিয়েই বলছি – হিজাব পরিধান করা অবশ্যই ওয়াজিব। কিন্তু আপনারা কি জানেন, হিজাবের বিধান সংক্রান্ত আয়াত কখন নাজিল হয়েছিল? পঞ্চম হিজরীর শেষ দিকে। নামাজ, রোজা, জাকাত, উত্তরাধিকার, বিয়ে এবং তালাক সংক্রান্ত মৌলিক বিধানগুলো নাজিলের পরে নবুওয়তের শেষ দিকে যেসব বিধান নাজিল হয়, তারমধ্যে একটি হলো হিজাব। এমনকি হিজাব সংক্রান্ত সূরা আহযাবের আয়াতটি আল্লাহ তায়ালা শেষ করেছেন এভাবে, ‘আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’।

অতএব, আমরা যে ধরনের সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে বাস করছি, সেখানে যে বোনেরা হিজাব পরার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার হৃদয় নিংড়ানো সহানুভূতি রয়েছে। আল্লাহ চান নারীরা হিজাব পরিধান করুক। তাই আমি কখনোই এই বিধানকে পরিবর্তন করার কথা বলবো না। তবে তাদেরকে আমি বলতে চাই, শুধুমাত্র হেডস্কার্ফ পরতে না পারার কারণে নিষ্ঠাবান মুসলমান হতে পারছেন না – এমনটা ভাববেন না।

আমাদের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে দাড়ি নিয়ে ভাইদেরকে লজ্জা দেয়া। যেমন আমরা বলে থাকি, ‘ভাই, দাড়ি না থাকলে আমাদের ইসলামী কেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত হতে আসবেন না।’ সুবহানাল্লাহ! এভাবে আপনি ভালো কাজের দরজাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন! ঠিক আছে, বড় কোনো গুনাহর কাজ করলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে ইসলামী কেন্দ্রের সভাপতি হওয়া উচিত নয় – তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু সেই ব্যক্তি কি কোনো ইসলামী কেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্তও থাকতে পারবে না! গুনাহর কাজ ও উত্তম আমলের তালিকা তৈরি করে, তার আলোকে লোকজনকে ইসলামী কেন্দ্রের সদস্য বানানো কি উপযুক্ত পন্থা? না। বরং প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের জন্যই ইসলামী কেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দরজা খোলা রাখা উচিত। সভাপতি ও মুখ্য দায়িত্বপালনকারী সদস্যদেরকে ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত, এটা বোধগম্য ব্যাপার। কিন্তু সমাজসেবা, ফান্ড রাইজিং কিংবা ইসলামী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে থাকতে চাইলেও কি এ রকম উচ্চ নৈতিকতাসম্পন্ন হতে হবে? না। অবশ্যই প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য সমাজে ও ইসলামী কেন্দ্রগুলোতে একটা স্পেস থাকা জরুরি; কেউ হিজাব করুক বা না করুক, দাড়ি রাখুক বা না রাখুক।

হ্যাঁ, বোন, হিজাব পরিধানের কারণে বাস্তবিকই আপনি মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবেন, এটা ঠিক। এবং এ ব্যাপারে কোরআন-হাদীসের বর্ণনা সুস্পষ্ট, যা আমরা ইতোমধ্যেই বলেছি। আমরা প্রগতিবাদী নই। এ ব্যাপারে স্পষ্ট দলীল রয়েছে, যা আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। তবে হিজাবের ধরন, স্টাইল, কাপড়ের রং – এসব ব্যাপারে আমাদের সৃজনশীল ও শিল্পানুরাগী প্র্যাকটিসিং মুসলিম বোনেরা কাজ করতে পারেন। আপনারা হিজাবের এমন ডিজাইনের কথা ভাবুন, যা একইসাথে শালীন হবে এবং আমরা যেখানে বাস করছি, সেখানকার সংস্কৃতি ও ড্রেসকোডের প্রতিফলনও যাতে ঘটবে।

একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক। পাকিস্তানী বোনেরা সাধারণত খুব ঢিলেঢালা সালোয়ার-কামিজ পরে থাকেন। সাথে বড় শাল গায়ে দেন। আবার, মালয়েশিয়ান বোনেরা বেশ উজ্জ্বল রংয়ের হিজাব পরিধান করেন, মাশাআল্লাহ। তাদের হিজাবে চমৎকার কারুকাজ করা থাকে। তারা এতেই অভ্যস্ত। তাই নয় কি? অন্যদিকে, নাইজেরিয়ান বোনদের হিজাবের নকশা বেশ জটিল। তাদের হিজাবও যথেষ্ট শালীন।

পোশাকটি শালীন কি না, তা খেয়াল রাখুন। আঁটোসাঁটো পোশাক পরা উচিত নয়। অবশ্য আমরা সবাই তা বুঝি। হিজাবের কাপড়, রং, স্টাইল ইত্যাদি ব্যাপার শরীয়াহ ঠিক করে দেয় না। এটা হতে পারে মার্জিত কোনো টু-পিস পোশাক, যেমন বিজনেস স্যুট। তবে সেটা অবশ্যই ঢিলা হতে হবে, আঁটোসাঁটো হওয়া যাবে না।

আর কেউ যদি জিলবাব পরতে চায়, তাহলে তো কথাই নেই। মূল পোশাকের উপরে বাড়তি যে পোশাক পরা হয়, আরবীতে তাকে জিলবাব বলে। কিন্তু আমার মতে, জিলবাব পরাটা বাধ্যতামূলক নয়। এটা পরতে শুধু উৎসাহিত করা হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। এটাকে উৎসাহিত করার কারণ হচ্ছে, জিলবাব শব্দটা কোরআনের পরিভাষা। ‘লিসানুল আরাবিয়্যাহ’সহ আরবী ভাষাতত্ত্বের বিভিন্ন বইয়ে জিলবাব শব্দটির ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ খেয়াল করলে আপনি দেখতে পাবেন, ‘জিলবাব হচ্ছে কোনো বড় আচ্ছাদন, যা নারীরা পরিধান করে।’ কেউ যদি বড় হেডস্কার্ফ পরে, তাহলে সেটাও জিলবাব হিসেবে বিবেচিত হবে। জিলবাব অবশ্যই উত্তম। আমাদের যেসব বোন জিলবাব পরেন, তাদের জন্য সেটাই ভালো। যারা হিজাব করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করি। আমরা তাদেরকে বলতে চাই, শুরু করে দিন। আপনার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু জিলবাব পরতে চেষ্টা করুন।

মনোযোগ দিয়ে শুনুন। দয়া করে পরবর্তীতে আমার কথাকে ভুলভাবে উদ্বৃত করবেন না। কোনো বোন হয়ত হেডস্কার্ফ পরেন; কিন্তু একইসাথে আঁটোসাঁটো শার্ট-জিন্স প্যান্ট পরিধান করেন। তিনি আসলে হিজাব থেকে অনেক দূরে রয়েছেন। অন্যদিকে, কোনো বোন হয়তো মাথা ঢাকেন না; কিন্তু ঢিলেঢালা পোশাক পরেন। হিজাবের উদ্দেশ্যের দিক তিনি আগের জন থেকে কাছাকাছি রয়েছেন। আমরা অনেকেই আসলে বুঝি না হিজাব বলতে কী বুঝায়? হেডস্কার্ফ পরাকেই অনেকে হিজাব মনে করেন। এটা আমাদের একটা সমস্যা। আবারো বলছি, আমাকে ভুলভাবে উদ্বৃত করবেন না। মাথা খোলা রাখাকে আমি হালাল বলিনি। আমি আসলে বলতে চেয়েছি, যে বোনটি হেডস্কার্ফ পরলেও আঁটোসাঁটো জিন্স প্যান্ট ও শার্ট পরেন (দুঃখজনকভাবে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে এই প্রবণতা বেশি), তার তুলনায় যিনি মাথা না ঢাকলেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢেকে রাখে এমন ঢিলেঢালা পোশাক করেন, তার পোশাক হিজাবের আদর্শ রূপের বেশি কাছাকাছি। আঁটোসাঁটো পোশাক পরে মাথা ঢেকে রেখে আর কী লাভ? তাই আমি বলেছি, শুধু মাথা ঢাকার চেয়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরা হিজাবের অধিকতর নিকটবর্তী।

যাইহোক, যে বোনেরা হিজাবে পুরোপুরি অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন তাদেরকে বলবো, আপনারা এগিয়ে যান। হাত-পা ঢাকা ও ঢিলেঢালা পোশাক দিয়ে শুরু করুন। ইনশাআল্লাহ, ধীরে ধীরে মাথা ঢেকে চলার ব্যাপারেও হয়ত আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। তারপর আপনি যদি জিলবাব পরতে চান, তাহলে তো সেটা খুবই ভালো। যদিও তা পরা বাধ্যতামূলক নয়। আমরা বোনদের উৎসাহিত করতে চাই। আর এ ধরনের কথাবার্তা তাদেরকে নিরুৎসাহিত করার চেয়ে উৎসাহিত করবে বলেই আমি মনে করি।

আর ভাইদেরকে বলছি, আপনাদের ব্যাপারটা আরো সহজ। কারণ, দাড়ি থাকলেও আপনি সহজেই আর দশজনের মাঝে মিশে যেতে পারেন। কিন্তু আশি-নব্বইয়ের দশকে ব্যাপারটা এমন ছিল না। এখন তো কারো মুখে দাড়ি আর চোখে সানগ্লাস থাকলে তাকে বেশ স্মার্ট ও সুপুরুষ মনে হয়। তাই এখন আর কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না। কিন্তু আমাদের বোনেরা সত্যিই অনেক ভোগান্তিতে পড়েন। আমি সত্যিই হিজাবী বোনদের তারিফ করতে চাই। আপনারাই আমাদের ঈমানী অ্যাম্বাসাডর, প্রতিনিধি। আমরা দাড়ি রেখেও সহজে লোকজনের সাথে চলতে পারি। কেউ হয়ত আমাদের মুসলিম হিসেবে চিনতে পারলেও তাদের সাথে আমাদের পোশাকের মিল দেখে হয়তবা কিছুটা স্বস্তিবোধ করে। অবশ্য বোনদের বেলায় এমনটা সচরাচর ঘটে না।

তাই আমাদের বোনদেরকে সম্মান করা উচিত। এমনকি যারা হিজাব পরে না, তাদেরকেও সম্মান করা উচিত। হিজাব করার জন্য এখানে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। তাই তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত মন্তব্য করবেন না। আপনি তা করতে পারেন না। কোনো বোন যদি যথাযথভাবে পোশাক না পরেন, তাহলে অন্য কোনো বোনকেই এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বলতে দিন। তারাই ব্যাপারটার সমাধান করুক। তাদের ব্যাপারে মতামত দেয়া আপনার কাজ নয়। কিংবা ‘তিনি কেন এটা করছেন না’ ধরনের কোনো চিন্তা করাও আপনার কাজ নয়। বাস্তবতা হচ্ছে তিনি মসজিদে কিংবা কোনো ইসলামী কেন্দ্রে আসছেন। ইংল্যান্ড বা আমেরিকার মতো দেশে বাস করে তিনি এসব জায়গায় আসার প্রয়োজনবোধ নাও করতে পারতেন। কিন্তু এই আধুনিক সমাজে বাস করেও তো তিনি আসছেন। তাই তিনি যেমন পোশাক পরেই আসুন না কেন, তাকে ফিরিয়ে দেবেন না।

আর যে বোনেরা ব্যাপারটা সামাল দেবেন, তারা খুবই ভদ্রভাবে তা করবেন। নতুন কোনো বোনকে আপনি যদি বলেন, ‘কেন তু্মি এ ধরনের পোশাক পরে এসেছ?’ তাহলে তা ভদ্র আচরণ হবে না। বরং আপনি হাসি মুখে সালাম দিয়ে তাকে বলতে পারেন, ‘বোন, আপনার নাম কি?’ ‘আমি ফাতেমা। আপনি?’ … এভাবে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এভাবে পাঁচ-দশ বার আপনাদের মধ্যে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে ঘনিষ্টতা তৈরি হওয়ার পর হিজাব নিয়ে কথা বলুন। কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই যদি তার সাথে কঠোর ও বাজে আচরণ করেন, তাহলে কীভাবে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারেন? আসলে সবকিছুই নির্ভর করে আমাদের মানসিকতার উপর।

টিকে থাকা নিয়ে আমরা এখন সত্যিই চিন্তিত। তাছাড়া কঠোর ও বাজে আচরণ করা কোনোক্রমেই ইসলামসম্মত নয়। বিশেষত আমরা যেখানে সংখ্যালঘু এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেখানে ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করছে, সে পরিবেশে কঠোর ও আল্ট্রা-ইসলামিক হওয়া আমাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাহলে এই ইস্যুটার সমাধান আপনি কীভাবে করবেন? এ ব্যাপারে কথা বলতে আমি আগ্রহী।

আমার আগের কথা থেকে এটা পরিষ্কার যে, বোনদের মাথা ঢাকার ব্যাপারটি কোরআনেরই বিধান। আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না। তাহলে আমরা কী করতে পারি? আমি আগেই বলেছি, উগ্র এবং আঁটোসাঁটো না হওয়ার শর্তে আপনি পোশাকের স্টাইল, প্যাটার্ন ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারেন। বাজারে প্রচলিত হিজাবগুলো খুব জমকালো নয়। আপনারা সেগুলো পরতে পারেন।

বোনদেরকে আমি আরেকটা কথা বলতে চাই। হিজাবের ফ্যাশন বা এ জাতীয় ব্যাপারগুলো নিয়ে আপনাদেরকেই ভাবতে হবে। ফ্যাশন বলতে আমি পাশ্চাত্য মূল্যবোধকে বুঝাচ্ছি না। বরং শরীয়াহর উপাদানগুলো বজায় রেখে প্রচলিত সংস্কৃতি থেকে যথাসম্ভব গ্রহণ করার কথা বলছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার অভিজ্ঞতায় এ ধরনের বেশকিছু ভালো ডিজাইন রয়েছে।

বোনদেরকে সর্বশেষ বলতে চাই, পোশাকের ব্যাপারে পুরুষদের তুলনায় আপনাদের জন্য শর্ত বেশি থাকায় আপনারা পুরস্কারও বেশি পাবেন। কারণ, ভাইদের তুলনায় আপনারা বেশি কষ্ট করছেন। মহান আল্লাহ আপনাদেরকে তওফিক ও উত্তম পুরস্কার দান করুন। আপনারা নিশ্চয় তা প্রাপ্য। আমীন।

উপস্থাপক:

আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। অনুগ্রহ করে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে আজকের আলোচনা শেষ করুন।

ইয়াসির ক্বাদী:

বিশেষ কোনো সমাপনী বক্তব্য নেই। আমি শুধু এ কথাটি বলতে চাই, আমরা খুবই কঠিন ও সংকটময় সময়ে বাস করছি। এই সময়টাতে বিশ্বজুড়ে ও স্থানীয়ভাবে, এমনকি আপনার নিজস্ব কমিউনিটিতেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে। মুসলমানদের ব্যাপারে সরকারসমূহের কথাবার্তাগুলো যথেষ্ট আশংকাজনক হয়ে ওঠছে। তাই নিজেকে খোলসে লুকিয়ে রাখার সময় এখন নয়, বরং একজন গর্বিত মুসলমান হিসেবে গঠনমূলক চিন্তাভাবনা করার সময়। নিজের পরিবার, পরিচিত মহল, বন্ধুবান্ধব ও কমিউনিটির মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা করা দরকার। ঠিক এ কারণেই আমি এই ইস্যুটি নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে এত বেশি আগ্রহী হয়েছি। এ সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনাকে আমি আরো এগিয়ে নিতে চাই। অবশ্য শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকেই কেবল সফলতা আসে। তাই আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাঁর সাথে সম্পর্ক না থাকলে কোনোকিছুই সফল হবে না। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

আইয়ুব আলী
আইয়ুব আলী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *