রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৭
হোম > লেকচার অনুবাদ > ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (প্রশ্নোত্তর পর্ব ১)

ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (প্রশ্নোত্তর পর্ব ১)

এডিটর’স নোট:

ইসলামী চিন্তার সংস্কারের প্রসঙ্গ আসলে প্রায়শই একটা প্রশ্ন উত্থাপিত হয় – সংস্কারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনাযোগ্য, আর কোনগুলো অপরিবর্তনীয়? এক্ষেত্রে অতি উদার কেউ কেউ শরীয়াহর খোলনলচে পাল্টে ফেলতে চান, আবার অতি রক্ষণশীল কেউ কেউ মনে করেন ইসলামে সংস্কারের কোনো ধরনের সুযোগ নেই। এই দুই প্রান্তিক অবস্থানের বাইরে সঠিক পথ কী হতে পারে?

২০১৪ সালের নভেম্বরে লন্ডনে প্রদত্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার এক বক্তৃতায় শায়খ ড. ইয়াসির ক্বাদী এ ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন। একটি গল্পের আশ্রয় নিয়ে পুরো বিষয়টিকে তিনি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্যে বক্তৃতাটির অনুবাদ পাবলিশ করা হয়েছে। এখন প্রশ্নোত্তর পর্বের ধারাবাহিক অনুবাদ তুলে ধরা হচ্ছে। অনুবাদ করেছেন আইয়ুব আলী


বক্তৃতা পর্ব: পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫, পর্ব ৬ ||| প্রশ্নোত্তর পর্ব: পর্ব ২, পর্ব ৩



প্রশ্ন ১

আপনি পাঁচটি ধারার কথা বলেছেন। এরমধ্যে প্রগতিবাদীরা একটা ধারা। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যারা এই ধারায় আছে, তাদের প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, প্রগতিবাদীরা কখনোই বেশি এগুতে পারবে না। তারা সবসময়ই একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হিসেবেই থাকবে। কারণ, আল্লাহ এই ধর্মকে রক্ষা করার ওয়াদা করেছেন। মহানবী (সা) তাঁর উম্মতের ব্যাপারে বলে গেছেন,

إن أمتي أمة مرحومة

আমার উম্মতের উপর আল্লাহর বিশেষ রহমত রয়েছে।

যে কোনো প্রগতিবাদী ধারার প্রতি লক্ষ্য করলে আপনি দেখবেন, তাদের অবস্থা এমন যেন ‘খালি কলস বাজে বেশি’। অর্থাৎ যদিও তাদেরকে সংখ্যায় অনেক মনে হয় কিন্তু আসলে মোটেও তা নয়।

পাশ্চাত্যের কয়টি মসজিদ সমকামী বিয়ের অনুমোদন দিচ্ছে? কিংবা এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে? হাতেগোনা দুয়েকটা বাদে এরকম মসজিদ নেই বললেই চলে। তাদেরকে বাধা দেয়ার মতো কোনো আইন এখানে নেই। তাদের জীবনের উপর কোনো ধরনের হুমকিও বাস্তবে নেই। আজকে তারা যদি রাস্তার পাশে একটি মসজিদ খুলে বসে তাহলে সেটা একান্তই তাদের ব্যাপার। আমি মনে করি, তাদের উপর শারীরিক আক্রমণ চালানো আমাদের জন্য হারাম। এই দেশে তারা কী করবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এতকিছুর পরেও তাদের অবস্থান কোথায়? আপনি তাদেরকে তেমন একটা খুঁজে পাবেন না। তাই, আমি বিশ্বাস করি, প্রগতিবাদীরা সবসময় একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হিসেবেই থাকবে।

সাধারণ মুসলমানরা মনে করে, মুসলমান থাকতে চাইলে মদ খাওয়া যাবে না, আর খেলে নিজেকে ভালো মুসলমান দাবি করা যাবে না। আপনি মাদক গ্রহণ করবেন আবার বলবেন, ‘ইসলামই আমাকে এটা করতে বলেছে’, সেটা হতে পারে না। আর মাদক গ্রহণ করার পর যদি স্বীকার করেন, ‘হ্যা, আমি খারাপ মুসলমান’, তাহলে আপনি কিছুটা হলেও ইসলামের গণ্ডির মধ্যে থাকেন। দুনিয়াতে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু আপনি কোনোক্রমেই অকাট্য হারাম বিষয়কে হালাল দাবি করতে পারেন না। প্রগতিবাদীরা ঠিক এই কাজটিই করে যাচ্ছে। আল্লাহর শুকরিয়া যে, তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।

এখন প্রশ্ন হলো তাদের সাথে আপনি কেমন আচরণ করবেন? আমি সত্যি মনে করি, তাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তারা হীনমন্যতায় ভোগে। ফলে তারা নির্দ্বিধায় ডমিন্যান্ট ন্যারেটিভের উপর আস্থা রাখে। এ ক্ষেত্রে আমার যে বক্তব্য রয়েছে তা ভুলও হতে পারে। তবে তারা মূলত যা বিশ্বাস করে তা খারিজ করার চেয়ে ডমিন্যান্ট প্যারাডাইমের বিচার-বিশ্লেষণ করাই (deconstruction) আমার মূল উদ্দেশ্য। যাইহোক, আমার বক্তব্যটি হলো– মানবতাবাদ নিয়ে পড়তে গেলে আপনি দেখবেন সেখানে এনলাইটেনমেন্ট, পোস্ট-এনলাইটেনমেন্ট, আধুনিকতা ও উত্তরাধুনিকতা নিয়ে কথাবার্তা রয়েছে। উত্তরাধুনিকতার মূল কথা হচ্ছে, মানুষের বিবেচনাবোধকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে কোনো নৈতিক মানদণ্ড নেই। অথচ আমাদের কাছে নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে কোরআন ও হাদীস রয়েছে। আমরা যদি এগুলোকে অনুসরণ না করি তাহলে সত্যিকার অর্থে আর কোনো নৈতিক মানদণ্ড অবশিষ্ট থাকে না।

তাই আমরা দেখি, পঞ্চাশ বছর আগে যে বিষয়গুলোকে মন্দ বলে বিবেচনা করা হতো, এই যুগে এসে সেগুলোকে বৈধ মনে করা হচ্ছে। আমাদের জীবদ্দশায়ই আমরা এসব দেখছি। অথচ আশির দশকে আমরা যখন কিশোর ছিলাম, তখন এ ধরনের কিছু কিছু বিষয়কে নিষিদ্ধ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। আর এখন আপনি এই বিষয়গুলোর বিন্দুমাত্র সমালোচনা করলেও আপনাকে পশ্চাৎপদ মনে করা হবে।

অতএব, নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই যে কেউ ব্যাপারটা বুঝতে পারবে। আমরা যদি সাহসিকতার সাথে এমন কিছুর উপর অটল থাকি, যা অপরিবর্তনীয়; তাহলে আমাদের সামনে আর কোনো বাধা থাকবে না। আমাদের জন্য সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। আর এই অপরিবর্তনীয় বিষয়টি হচ্ছে আল্লাহর বাণী। তাই আমি মনে করি, এসব ভাইবোনদের সাথে কথা বলার সময় নিছক যুক্তিখণ্ডন কিংবা ‘আল্লাহ এই বলেছেন, সেই বলেছেন’ এগুলো না বলাই উত্তম। কারণ, তাদের অন্তরে যথেষ্ট ঈমান নেই।

তাদেরকে দুইভাবে মোকাবেলা করা যায়। প্রথম উপায়টি হলো – আধুনিক চিন্তা এবং দর্শনের বিশ্লেষণ করা। অবশ্য এই কাজটা ইতোমধ্যেই এক প্রকারে সম্পন্ন হয়ে গেছে। আধুনিক জ্ঞানজগতের অসংখ্য চিন্তাবিদ উত্তরাধুনিকতাবাদ কিংবা উত্তর-কাঠামোবাদ নিয়ে কাজ করেছেন। উত্তরাধুনিকতাবাদ নিয়ে জানতে গুগল সার্চ করতে পারেন, অন্তত এ সংক্রান্ত উইকিপিডিয়ার পাতাটি পড়ুন। এভাবে কিছু ঘাটাঘাটি করলে আপনি এ ব্যাপারে খানিকটা ধারণা পাবেন। আপনি যদি সত্যিই এগুলো বুঝতে পারেন, তাহলে তাদেরকে মোকাবেলা করার একটা পথ পেয়ে যাবেন। দ্বিতীয় উপায়টি হলো – কোরআনের বাণী, আধ্যাত্মিকতা ও এ ধরনের আন্তরিকতাপূর্ণ নানা উপায়ে তাদের অন্তরে ঈমানের আলো প্রজ্জ্বলনে সহায়তা করা।

মোটকথা হলো, এটা একধরনের দ্বৈত প্রক্রিয়া। এর একদিকে ডমিন্যান্ট ন্যারাটিভগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। তারপর অন্যদিকে, তারা যেন সত্যিকার অর্থে আল্লাহর প্রতি অনুগত হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে, সে ব্যাপারে সহায়তা করা।

দেখুন, ইসলাম হচ্ছে একটা সামগ্রিক ব্যাপার। আপনি যদি আল্লাহ ও কোরআনের উপর বিশ্বাস রাখেন, তাহলে আল্লাহর নাজিলকৃত গ্রন্থের আইন অনুযায়ী জীবনযাপন করাটাই হবে আপনার জন্যে সবচেয়ে যৌক্তিক কাজ। এমনকি আপনি যদি প্রতিটি আইন নাও বুঝে থাকেন। যেহেতু আপনি বিশ্বাস করেন, এই আইন আল্লাহরই আইন তাই আপনাকে এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে।

এ বিষয়টি নিয়ে আমি আগেও কথা বলেছি। আপনারা চাইলে কয়েক বছর আগে অনুষ্ঠিত আমার ‘দোহা ডিবেট’ দেখতে পারেন। সেখানে একজন নারী প্রশ্ন করেছিলেন, ‘দুইজন নারীর পরস্পরকে বিয়ে করার বিধান ইসলামে থাকা উচিত। এখানে সমস্যাটা কোথায়? এটাকে অন্যায় বলার আপনি কে?’ তারপর আমরা সেই ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করেছি। এখান থেকে আপনারা বর্তমানকালের প্রগতিবাদী মুসলমানদের সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। যাইহোক, এ বিষয়ে আমার বেশ কিছু আলোচনা এবং আর্টিকেল রয়েছে।

শেষ কথা হলো, প্রগতিবাদীদেরকে আমি বড় কোনো হুমকি মনে করি না। আমি সবসময় বলার চেষ্টা করেছি, এদের দলে হাজার হাজার মুসলিম তরুণ কখনোই যোগ দেবে না। দিলেও বড়জোর এক শতাংশ। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

প্রশ্ন ২

আমাদের কমিউনিটির রাজনৈতিক ও আইনী স্বার্থ রক্ষার জন্য রক্ষণশীল আলেমদের দেয়া যুক্তিসম্মত মতামতগুলোকে সেলফ-সেন্সরশীপের মাধ্যমে আমরা কি নিজেদেরকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছি?

উত্তর

আমরা সেলফ-সেন্সরশীপ করছি বলে আমি মনে করি না। বরং এর উল্টোটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমি মনে করি, অধিকাংশ মানুষই অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলে থাকে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা প্রায়শ কোনো ন্যারাটিভের মূলকথাই ধরতে পারি না। আমরা কোনো সমস্যার গভীরে না গিয়েই তা থেকে উত্তরণ পেতে চাই।

এই মুহূর্তে এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে সমকামী সম্পর্ক নিয়ে আমাদের মনোভাব। আমার বিনীত অভিমত হলো, এ ব্যাপারে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে না পারায় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। এ কথা থেকে আবার সমকামিতা নিয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করবেন না যেন। তবে আমি আমার মতামতকে ভদ্রোচিত ভাষায় ব্যক্ত করতে চাই। কোনোভাবেই অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন বিষয়টি নৈতিকতার আওতাভুক্ত আর কোনটি আওতাবহির্ভূত, এককথায় নৈতিকতা প্রসঙ্গে আমাদের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমাদের মসজিদে আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যত্যয় ঘটাবো না। আমাদের বিয়েতেও আমরা সমকামিতাকে অনুমোদন করবো না। কিন্তু একইসাথে আমরা মসজিদের বাইরে এসব ইস্যুতে জড়িত হবো না।

ধরুন, দুইজন ব্যক্তি নিয়মিত পানশালায় যায়। আমরা কি পানশালায় যাওয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কথা তাদেরকে শোনাই? না। একইভাবে তারা যদি অন্য এমন কিছু করে, যা অনৈতিক বলে আমরা মনে করি; সে ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতি করা বা দুর্ব্যবহার করা উচিত হবে না। তারা যা করছে, তা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই আর কি।

আমি একে সেলফ-সেন্সরশীপ হিসেবে দেখি না। বরং বিচক্ষণতা হিসেবেই দেখি। আপনি যা বিশ্বাস করেন, তা কীভাবে উপস্থাপন করবেন? অবশ্যই শালীনভাবে। তাতে তো কোনো সমস্যা নেই। মূর্তিপূজা নিয়ে কোরআনে আল্লাহ কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, ‘তারা যে মূর্তির পূজা করে, সেগুলোকে গালমন্দ করো না।’ তারমানে কি আমরা সেগুলোকে সম্মান করি? আমরা সেগুলোর ওপর বিশ্বাস রাখি? না। কিন্তু আল্লাহ কী বলেছেন? তিনি বলেছেন,

وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّـهِ

তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদের উপাসনা করে (সূরা আনআম: ১০৮)

কেন? আপনি তাদের কাছ থেকে কী অর্জন করতে চাচ্ছেন? আপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যেন আপনার কথাগুলো বিবেচনা করে এবং তাদের কাজকর্মে এর প্রতিফলন ঘটায়। দেখুন, মুসাকে (আ) আল্লাহ তায়ালা উপদেশ দিয়েছিলেন এভাবে,

فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ‌

অতঃপর, তোমরা দুজনে তার সাথে নম্রভাবে কথা বলবে সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে (সূরা ত্বহা: ৪৪)

অর্থাৎ, এই বিনম্র কথাগুলো হয়তো তাকে নাড়া দিয়ে যাবে, যা তাকে ভালো চিন্তা করতে সহায়তা করবে।

যাইহোক, বর্তমানে মূর্তিপূজা কোনো ইস্যু নয়। আমি মূর্তিপূজা নিয়ে কথা বললেও আপনাদের বৃটিশ সরকার এতে গা করবে না। কিন্তু আমি যদি সমকামিতা নিয়ে কঠোর ভাষায় কিছু বলি, তাহলে এই দেশে এটাই আমার শেষ সফর হতে পারে। এটা একেবারেই ভিন্ন একটা ব্যাপার। তাই আমি যদি এ বিষয়টা একটু ভিন্নভাবে বলি, তাহলে তারা আশ্বস্ত থাকে। তাই না?

গার্ডিয়ান পত্রিকাসহ অনেকেই আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা আমার কাছে জানতে চায়, ‘অমুক ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?’ আমি বলেছি, ‘দেখুন, ইসলামে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক অনুমোদিত নয়।’ এ কথার সাথে তারাও একমত। ‘যেহেতু বিবাহ-বহির্ভূত যে কোনো সম্পর্ক অনৈতিক, তাই বিবাহ-পূর্ব সম্পর্ক বা সমকামী সম্পর্কও আমাদের জন্য অনৈতিক। কিন্তু কেউ যদি বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তাহলে আমরা তার কোনো ক্ষতি করি না। আমরা কোনো কিছুই চাপিয়ে দেই না। কোনো সমকামী মুসলমান আমাদের কমিউনিটিতে এলে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। আমরা তার ওপর হামলা করি না। মূলধারার অনেক খ্রিস্টান এবং ইহুদীদের অবস্থানও এ রকম। তাদের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?’ আমি বলতে চেয়েছি, মুসলমানরা তাদের ব্যাপারে কোনো বিদ্বেষ পোষণ করে না। মুসলমানদের সরল বক্তব্য হচ্ছে, ‘মদ্যপানকে আমরা যে কারণে সমর্থন করি না, একই কারণে সমকামিতাকেও সমর্থন করি না।’

আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, আইনগত ও জ্ঞানগত উভয় ব্যাপারেই আমাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আরো বেশি প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। আল্লাহ আমাদের জন্য যে সুন্দর ধর্ম মনোনীত করেছেন, তার দাবি হচ্ছে মানানসই ভাষায় কথা বলা। মহানবীর (সা) সীরাত অধ্যয়ন করে আমি দেখেছি, এটাই ছিল তাঁর সুন্নাহ। তিনি তাঁর বিশ্বাসে অটল ছিলেন এবং এ ব্যাপারে আপস করেননি। কিন্তু এসব ব্যাপারে তিনি সুন্দর ভাষা ও পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাউকে অপমান বা হেয় করা উচিত নয়।

তাই সেলফ-সেন্সরশীপ নয়, বরং এর উল্টোটাই সত্য বলে আমি মনে করি। এ ধরনের বিষয়ে এখুনি আমাদের উন্মুক্ত আলাপ-আলোচনা শুরু করা উচিত। যাতে করে আমাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সুন্নাহর ভাষায় কথা বলার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(চলবে)

আইয়ুব আলী
আইয়ুব আলী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *