মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭
হোম > লেকচার অনুবাদ > ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (পর্ব ৫)

ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (পর্ব ৫)

এডিটর’স নোট:

ইসলামী চিন্তার সংস্কারের প্রসঙ্গ আসলে প্রায়শই একটা প্রশ্ন উত্থাপিত হয় – সংস্কারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনাযোগ্য, আর কোনগুলো অপরিবর্তনীয়? এক্ষেত্রে অতি উদার কেউ কেউ শরীয়াহর খোলনলচে পাল্টে ফেলতে চান, আবার অতি রক্ষণশীল কেউ কেউ মনে করেন ইসলামে সংস্কারের কোনো ধরনের সুযোগ নেই। এই দুই প্রান্তিক অবস্থানের বাইরে সঠিক পথ কী হতে পারে?

২০১৪ সালের নভেম্বরে লন্ডনে প্রদত্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার এক বক্তৃতায় শায়খ ড. ইয়াসির ক্বাদী এ ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন। একটি গল্পের আশ্রয় নিয়ে পুরো বিষয়টিকে তিনি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্যে বক্তৃতাটি ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করা হচ্ছে। অনুবাদ করেছেন আইয়ুব আলী


বক্তৃতা: পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫,পর্ব ৬ ||| প্রশ্নোত্তর: পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩


সংস্কারপন্থী ধারার বিশ্লেষণ

এবার আসুন সংস্কারপন্থী ধারা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। সংস্কারপন্থীরা ঐতিহ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল। বিদ্যমান প্রভাবশালী সংস্কৃতি নিয়ে তাদের কোনো ধরনের হীনমন্যতা নেই। তারা ভালো করেই জানে, ভেগানিজম নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী ব্যাপার। বছর বিশেক আগে ভেগানিজম যেভাবে চালু হয়েছিল, এখন থেকে পনের বছর পর হয়তো এর আকর্ষণ ফুরিয়ে যাবে। আবার তারা ভেগানিজমকে পুরোপুরি বাতিলও করে না। ইউকেভি রাষ্ট্র ভেগান হওয়ার কারণেই ভেগানিজম এবং এর সকল উপাদান বাতিল বলে তারা মনে করে না। ভেগানিজমের মাঝেও ভালো কিছু থাকতে পারে। আমাদের পূর্বপুরুষরা ভেগান ছিলেন না বলেই ভেগানিজম ভুল – ব্যাপারটা তা নয়। চলুন বিষয়টির দিকে আরেকটু দৃষ্টি দেওয়া যাক।

ভেগানিজম ও ইসলামের মাঝে সমন্বয়
সংস্কারপন্থীরা মতে, আমাদের খাদ্যাভ্যাসে বেশি পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি থাকা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মাংস কম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রাণীদেরকে যথাযথভাবে প্রতিপালন ও যত্ম করা আমাদের কর্তব্য। আর জবেহ করার সময়ে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে আমাদের ধর্ম নির্দেশ দেয়।

সত্যি কথা হলো, সংস্কারপন্থীরা ভেগানিজমের কিছু কিছু উপাদান গ্রহণ করে। যদিও সেগুলো তাদের পূর্বপুরুষরা বিবেচনা করেনি এবং গতানুগতিক ঐতিহ্যেও সেসব অনুপস্থিত। এসব ব্যাপারে তাদের মত হচ্ছে, ‘ভেগানিজমের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা
হিজাব ইস্যুটি এখানে আবারো প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারপন্থীরা ব্যক্তির প্রতিটি কাজকর্ম, রক্ষণশীলদের পালিত প্রতিটি রীতিনীতিকে সেগুলোর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিবেচনা করে। কোর্তা পরিধান করা আপনার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় কেন? কারণ, এর একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ১৮৫৭ সালে সংঘটিত বিদ্রোহে সেখানকার মুসলমানরা বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন সময়ে কোনো ব্যক্তির পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদের স্টাইল থেকেই বুঝা যেত তিনি ব্রিটিশ বিরোধী নাকি তাদের সমর্থক। একইভাবে, ‘সাওব’ কেন আপনার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পোশাক? এর পেছনের কারণটা সংস্কারপন্থীরা তুলে ধরে।

এভাবে সংস্কারপন্থীরা প্রতিটি কাজকর্ম ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের আলোকে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরে। বলাবাহুল্য, সংস্কারপন্থীরা সবচেয়ে কম জনপ্রিয়। কেননা, অপরাপর সকল পক্ষই তাদের ব্যাপারে সমালোচনামুখর।

সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রক্ষণশীলরা সংস্কারপন্থাকে সমস্যা মনে করে। কারণ ঐতিহ্যের ব্যাপারে রক্ষণশীলদের যে বুঝজ্ঞান, সেই অর্থে সংস্কারপন্থীরা ঐতিহ্যের প্রতি অনুগত নয়। ব্যাপারটা পরিষ্কার। তাই না? আপনি বিরিয়ানীর সমালোচনা করলে, তারা একে সুন্নতের সমালোচনা হিসেবে বিবেচনা করবে। আপনারা কি পয়েন্টটা ধরতে পারছেন? একই কথা সাওব কিংবা কোর্তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি মতে, এটা সুন্নাহ বিরোধী। কেউ লন্ডনের মতো শহরে সালোয়ার-কামিজ পরিধান করাকে অধিক ইসলামী রীতি মনে করলে তা হবে সুন্নতের খেলাফ।

নিছক নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এ ধরনের পোশাক পরিধান করা নিশ্চয়ই অনুমোদনযোগ্য। তবে একে ইসলামী ব্যাপার মনে করাটা ঠিক নয়। সাওব বা কোর্তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলোতে ইসলাম খুঁজতে যাওয়া একগুঁয়েমি ছাড়া কিছুই নয়।

মহানবীর (সা) রীতি
আমাদের মহানবী (সা) যতটা সম্ভব স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতেন। যেমন, ভিন্ন অঞ্চলের কোনো মেহমান মহানবীর (সা) সাথে দেখা করতে আসলে, হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘তিনি ইয়েমেনী শাল পরিধান করতেন’। কে তাকে বলেছিল বিশেষ উপলক্ষ্যে ইয়েমেনী শাল পরিধান করাই হলো সপ্তম শতাব্দীর আরবীয় রীতি? এটা কি তিনিই উদ্ভাবন করেছিলেন? নাকি কোনো অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ পোশাক পরিধান করতে হলে ইয়েমেনী শাল পরিধান করাই তাঁর সময়ের প্রচলিত রীতি ছিল? হ্যা, এটাই ছিল তখনকার রীতি। তখন ভালো পোশাকে সজ্জিত হওয়ার মানে ছিল চমৎকার ইয়েমেনী শাল পরিধান করা।

স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে চলা
আমাদের সময়ে ইয়েমেনী শাল নয়, বরং স্যুট পরিধান করাই হচ্ছে প্রচলিত রীতি। মহানবী (সা) যখন বিভিন্ন প্রতিনিধি দলকে দাওয়াত দিতেন, তখন তাঁর সময়ের প্রচলিত উৎকৃষ্ট পোশাকই পরিধান করতেন। তাহলে আমাদের দাওয়াতী কাজের অবস্থা কী? আমরা এসব ক্ষেত্রে কী করি?… এটাই হলো ব্যাপার।

আপনি যখন সমাজের লোকদের চেয়ে ভিন্ন পোশাক পরিধান করবেন এবং ভিন্নতর ধর্মীয় বক্তব্য নিয়ে তাদের কাছে হাজির হবেন, তখন আপনার প্রত্যাখ্যাত হওয়াটাই স্বাভাবিক। অথচ আপনি তো তাদের সাথে একই ভাষায় কথা বলেন! আল্লাহ তায়ালা কেন প্রত্যেক নবীকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় ভাষায় বাণী দিয়ে পাঠিয়েছিলেন? আপনি যখন একই রকম পোশাক পরিধান করবেন, তখনই কেবল আপনি ওই সমাজের একজন হিসেবে বিবেচিত হবেন।

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَ‌أَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّ‌بِّي وَآتَانِي رَ‌حْمَةً مِّنْ عِندِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَارِ‌هُونَ

সে বললো, হে আমার জাতি! তোমরা কি ভেবে দেখেছো, আমি যদি আমার মালিকের পাঠানো একটি সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, তারপর তিনি যদি আমাকে তাঁর বিশেষ রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও যদি তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে তোমরা অপছন্দ করা সত্বেও আমি কি তা তোমার উপর চাপিয়ে দিতে পারি? (সূরা হুদ: ২৮)

কেউ যদি সমাজের লোকদের পরিচিত হয়, তারা যদি তাকে নিজেদের ঘনিষ্ট মনে করে, এরপর সে ব্যক্তি যদি ভিন্ন একটা ধর্মীয় বক্তব্য তাদের সামনে উপস্থাপন করে, তখন তারা তার ব্যাপারে ততটা বিরোপ মনোভাব পোষণ করবে না। আমার মতে, এটিই হলো ইসলামের লক্ষ্য। তাই আমি যদি বলি, ‘অমুসলিম শ্রোতাদের সামনে বক্তব্য রাখার সময় আলেমদের উচিত আমাদের যুগের প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা।’ তখন অনেকেই সমালোচনা করে বলবে, ‘এই লোকটাকে দেখো, সে এখনো প্যান্ট-শার্ট পরে আছে। এই ব্যক্তি কোন ধরনের আলেম!’ তাই না?

টুপি পরিধান
আপনারা জানেন, আমি সাধারণত টুপি পরি না। যদিও হজ্বের পর থেকে আমার মাথা কামানো। এ ব্যাপারে আমার বিনম্র মত হচ্ছে, মাথা ঢেকে রাখা পুরোপুরিই সাংস্কৃতিক একটি ব্যাপার। হ্যা, আমাদের মহানবী (সা) মাথা ঢাকতেন; কিন্তু তিনি কখনোই কাউকে এটা করার জন্য নির্দেশ দেননি। তিনি এটা করতে বলেছেন বলে বিশুদ্ধ কোনো হাদীস নেই। এটা ছিল তখনকার একটি সামাজিক প্রথা। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই তখন মাথা ঢাকতো। শতাধিক বছর আগে ইংল্যান্ড-আমেরিকার লোকজনও তো তাদের মাথা ঢাকতো। তাই না? লোকজনের এই অভ্যাসটা একটা সাংস্কৃতিক ব্যাপার। আপনি চাইলে মাথা ঢাকতেই পারেন। কিন্তু একে ইসলামী রীতি মনে করলে এই দেশে তা অহেতুক জটিলতা তৈরি করবে বলে আমার মনে হয়। নিজের দেশ (অর্থাৎ যেখানে এটি প্রচলিত) হলে অবশ্য ভিন্ন কথা।



সমকামী বিবাহ
রক্ষণশীলরা সংস্কারপন্থার ব্যাপারে রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত। তাদের দৃষ্টিতে, সংস্কারপন্থীরাই আধুনিকতাপন্থী ও প্রগতিবাদীদের উত্থানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ‘আপনি যদি স্যুট-টাই পরাকে অনুমোদন দেন, তাহলে এরপর কী অনুমোদন দিবেন? সমকামী বিবাহ?’ রক্ষণশীলরা এভাবে স্যুট-টাই থেকে একলাফে সমকামী বিবাহ ইস্যুতে চলে যায়। এটা রক্ষণশীলদের এক ধরনের ভীতি। আপনারা হাসছেন? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমাকে এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

নিতান্তই সাংস্কৃতিক কিছু রীতিকে রক্ষণশীলরা হারাম বলে থাকে। আপনি যদি যুক্তি সহকারে এগুলোকে হালাল বলেন, তাহলে তাদের গড়ে তোলা ইসলাম ভেঙে পড়ে। ফলে স্বভাবতই এটা তাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘ও আল্লাহ, এরপর আর কী দেখার বাকি আছে! কোত্থেকে আপনি এইসব বলছেন?’ তারা সবসময় এক অজানা ভয়ে কুঁকড়ে থাকে।

নতুন প্যারাডাইমের প্রয়োজন কেন?
রক্ষণশীলদের একটি শক্তিশালী প্যারাডাইম রয়েছে। সেটা হচ্ছে ইসলামের মূলনীতির দিকে ফিরে যাওয়া। একইভাবে প্রগতিশীলদেরও নিজস্ব শক্তিশালী প্যারাডাইম আছে। যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ডমিন্যান্ট পশ্চিমা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করা। এর বিপরীতে, সংস্কারপন্থীরা একটা নতুন প্যারাডাইম গড়ে তুলছে, যেটা অন্যদের কাছে আশংকার ব্যাপার। সংস্কারপন্থীদের হারানোর কিছু নেই। তারা নতুন স্থান, কাল ও প্রেক্ষিতকে বিবেচনায় রেখে একটি নতুন মডেল গড়ে তুলছে।

এর ফলে স্বভাবতই রক্ষণশীলরা সংস্কারপন্থীদের প্রচুর সমালোচনা করছে। প্রগতিবাদীরাও তাদের বিরোধিতা করে। কারণ তাদের দৃষ্টিতে – সংস্কারপন্থীরা যথেষ্ট প্রগতিশীল নয়, বরং তারা শেষ পর্যন্ত কোরআন-সুন্নাহর উপরই অটল থাকে।

ওমর সিরিজ নিয়ে বিতর্ক
পোশাক থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে এতক্ষণ আমি উদাহরণ দিয়েছি। ইস্যুগুলো নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে হয়তো আমরা আরো বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পাবো। এখন আমি একটি সহজ উদাহরণ দেবো। রক্ষণশীলদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তারা এই ব্যাপারটি নিয়ে ভুল বুঝেছেন বলে আমার ধারণা। আমাদের সার্কেলে গত বছর এটা বোধহয় সবচেয়ে বেশি কৌতুহলের বিষয় ছিল।

বিষয়টি হলো, ওমর ইবনে খাত্তাবের (রা) জীবনীর উপর মিডলইস্ট ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এমবিসি) একটি সিরিজ নির্মাণ করেছে। বিশ্বের একদল প্রাজ্ঞ আলেমের নির্দেশনা অনুসারেই ত্রিশ পর্বের এই সিরিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমার জানা মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান এমবিসি এই প্রথম কোনো বিষয়ে খ্যাতিসম্পন্ন আলেমদের সাথে যোগাযোগ করেছে। এদের মধ্যে শায়খ সালমান আল আওদা, আলী সালাবীসহ আরো বিখ্যাত আলেম ও ইতিহাসবিদগণ রয়েছেন। সীরাত ও ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ এই ব্যক্তিগণ সিরিজটির প্রতিটি সংলাপ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দেখেছেন। ওমর ইবনে খাত্তাবের (রা) জীবনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলতে তারা কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

তারপর সিরিজটি যখন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হলো তখন পৃথিবীর প্রতিটি রক্ষণশীল ক্যাম্পের আলেমগণ এর বিরোধিতা করেছেন। সালাফী থেকে শুরু করে দেওবন্দী, এমনকি সুফীরা পর্যন্ত এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। কোনো বিষয়ে আল আজহার এবং সৌদি আলেমদের একমত হওয়া বিরল ঘটনা। কিন্তু এ ব্যাপারে তারা সবাই একমত। তাদের কথা হলো, ‘না, আপনি এর চিত্রায়ণ করতে পারেন না। এটা হারাম।’

তারা হারাম বিষয়গুলোর একটি দীর্ঘ তালিকা দিয়েছেন। কিন্তু সে তালিকার অধিকাংশ বিষয়গুলোই আসলে হালাল। তবে আমি তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তারা অনায়াসেই এই সমালোচনা করেছেন। তাদের কথা হচ্ছে, ‘কেউ কখনো যা করেনি, আপনি কীভাবে তা করতে পারেন? আপনি তো সাহাবীদের অনুকরণ করেছেন! তাই নয় কি?’

গঠনমূলক চলচ্চিত্র ঈমানকে মজবুত করে
এখানে উপস্থিত সবাইকে আমি চ্যালেন্জ করে বলতে পারি, ওমর সিরিজের কয়েকটা পর্ব দেখে আপনি না কেঁদে পারবেন না। এতে অবশ্যই আপনার ঈমান বৃদ্ধি পাবে। আমি একজন সীরাত বিশেষজ্ঞ, তাই আমি সিরিজটির সংলাপগুলো হৃদয়ের গভীর থেকে উপলব্ধি করেছি। সিরিজটি দেখার সময় পেছনের সংলাপগুলো বার বার উদ্ধৃত করায় আমার স্ত্রী বিরক্ত হচ্ছিল। আমার কোট করা সংলাপ শোনার চেয়ে সিরিজটি দেখে যাওয়াকেই সে পছন্দ করছিল। এটি না দেখা পর্যন্ত আপনি এ সম্পর্কিত আবেগকে ঠিক বুঝতে পারবেন না। আপনারা কি জানেন, আমিও কেঁদেছি! আমার ঈমান অনেক মজবুত হয়েছে। আপনারা কি ভাবতে পারেন, সাধারণ মুসলমানরা এই সিরিজের প্রতিটি পর্ব দেখছে! একেকটি পর্ব বেরুচ্ছে আর লোকজন সিনেমা হলের দিকে ছুটছে!

এখানে এমন কে আছেন, যিনি ‘ব্যাটমান’, ‘রিটার্ন অব দ্য ডার্ক এজেস’ কিংবা ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ দেখেন নাই? আমার পয়েন্ট হচ্ছে সেটাই। এগুলো এখন আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, উম্মাহর ৯৯ শতাংশ মানুষ পর্দায় আপত্তিকর কিছু না কিছু দেখছে। অথচ তারা ওমর ইবনে খাত্তাবের (রা) জীবনী পড়ছে না। এই যখন অবস্থা, তখন সংস্কারপন্থীরা এগিয়ে এসে বলে, ‘ভাইয়েরা, এই মানুষগুলোর কল্যাণের জন্যই ওমর ইবনে খাত্তাবের (রা) জীবনীর উপর একটি ধারাবাহিক মুভি তৈরি করা প্রয়োজন।’

চিত্রায়ণের মাত্রা
সংস্কারপন্থীদেরকে অবশ্যই একটি সীমারেখা মেনে কাজ করতে হবে। আমার মতে, এই সীমারেখা হলো মহানবীকে (সা) প্রত্যক্ষভাবে কোথাও চিত্রায়িত না করা। এই সীমারেখা আমরা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করতে পারি না। এ ব্যাপারে সহীহ হাদীসে মোহাম্মদ (সা) বলেছেন, ‘শয়তান আমার চেহারা অনুকরণ করতে পারবে না।’ এই হাদিসের মর্মার্থ হলো – যে কারো জন্যই মহানবীর (সা) চেহারা অনুকরণ করা হারাম। তাই কোনো অভিনেতাই আমাদের মহানবীর (সা) চরিত্রে অভিনয় করে না। আমার মতে, এটাই হলো সীমারেখা। এই সিরিজ মুভিতে যেহেতু মাত্রা অতিক্রম করা হচ্ছে না, তাই গড়পরতায় এটা অনুমোদনযোগ্য। এটা একটা ভালো মুভি।

সময়ের প্রয়োজন
ওমর সিরিজের সবকিছুই অকাট্য, আমি তা বলছি না। আমার কথা হচ্ছে, এটা মন্দের ভালো। কারো বিন্দুমাত্র কাণ্ডজ্ঞান থাকলে সে বিষয়টি বুঝতে পারবে। তারমানে লোকজনকে তাহাজ্জুদের নামাজের পরিবর্তে ওমর সিরিজ বেছে নিতে বলা হচ্ছে না। বরং এখানে দর্শকরা সমাজপতি ‘সিটিজেন কেইন’[1] ও হজরত ওমরের (রা) মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেবেন। আপনি কোনটা দেখবেন? কোনটা দেখা আপনার জন্য উপকারী? এখানে সেই অপশনটা দেয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্কারপন্থীদের কথা হলো, ‘দেখুন, আমাদেরকে বর্তমান যুগের কথা বিবেচনা করতে হবে। মহানবী (সা) হাসান বিন সাবিতের (রা) কবিতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর সময়টা ছিল কাব্যের। অন্যদিকে, আমাদের সময়টা হচ্ছে মিডিয়া ও সিনেমার।’

কাব্যচর্চা প্রসঙ্গে
এক অর্থে, ইসলাম কাব্যচর্চাকে উৎসাহিত করে না। কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে,

وَالشُّعَرَ‌اءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ

বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। (আশ শোয়ারা: ২২৪)

সর্বদা কাব্যচর্চা ভালো কিছু নয়। কিন্তু সমাজে এর প্রচলন থাকায় গঠনমূলক কাব্যচর্চা এবং তা প্রচার করা যেতে পারে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলছেন,

إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَذَكَرُ‌وا اللَّـهَ كَثِيرً‌ا

তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে (আশ শোয়ারা: ২২৭)

ইসলামের সাংস্কৃতিক বোধ
ইসলামকে পরিবর্তন করা সংস্কারপন্হীদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু সংস্কৃতি সম্পর্কে ইসলামের বোধকে তারা গুরুত্ব দেয়। আমরা কখনোই সাহাবীদেরকে নাট্যমঞ্চ কিংবা মুভিতে চিত্রায়িত করিনি। এমন কোনো নাটক-সিনেমা করা হয়নি যেখানে আবু বকর (রা) কিংবা ওমরকে (রা) সরাসরি চিত্রায়িত করা হয়েছে। হয়েছে কি? না, হয়নি। কিন্তু কোরআন-হাদীসে কি এ ব্যাপারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আছে? না, নেই।

ইতিবাচক ফলাফলের জন্যে পরিবর্তনকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সংস্কারপন্হীরা বেশ উদার মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এভাবে প্রচুর উদাহরণ দেয়া যাবে, যার মধ্যে কিছু মামুলি উদাহরণও রয়েছে। আমার পরিষ্কার কথা হলো, ছোটবেলা থেকেই আমরা কিছু ব্যাপারে শুনে আসছি যে, এগুলো হচ্ছে – হারাম, হারাম, হারাম। অথচ এগুলোর কোনোটাই হারাম নয়!

বার্ষিকী পালন
এ সংক্রান্ত খুব সহজ একটা উদাহরণ হলো জন্মদিন কিংবা বিভিন্ন বার্ষিকী উদযাপন। এসবের কোনোটাই ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। বরং ইসলাম বিভিন্ন বার্ষিকী পালনকে উৎসাহিত করে। কারণ, কাজ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়, এমন সবকিছুকেই ইসলাম উৎসাহ দেয়। কথা হচ্ছে, আমাদের বাপ-দাদারা বিবাহ বার্ষিকী ও জন্মদিন পালন করেনি বলেই আমাদের জন্যে তা অনৈসলামী হয়ে যাবে না। প্রকৃতিগতভাবেও এগুলোতে অনৈসলামী কোনো উপাদান নেই।

এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত ফিকহী আলোচনা করতে আমি আগ্রহী। কারো কারো মতে, এগুলো পালন করার মাধ্যমে লোকজন বিধর্মীদের রীতি অনুকরণ করছে। এগুলো এক ধরনের ডমিন্যান্ট কালচারাল ন্যারেটিভ। তবে এটা ফিকাহর অনেকগুলো ব্যাখ্যার একটা ব্যাখ্যা মাত্র। তবে অন্যপক্ষের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠান উদযাপনকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত বলবো

হ্যাঁ, বড়দিন বা দেওয়ালি – এগুলো অন্যদের ধর্মীয় উৎসব। আমরা এসবের অনুসরণ করতে পারি না। কারণ, অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবগুলো আমাদের জন্যে হারাম। আমাদের নিজস্ব উৎসব রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত বা ঘরোয়া – এমন যে কোনো উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে শরীয়াহ সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেনি। এসব ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের কার্যকলাপ হালাল হলে অনুষ্ঠানটিও হালাল হিসেবে গণ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে কেউ পার্টির আয়োজন করলে শরীয়াহর দৃষ্টিতে তা কি হারাম? না। এমনকি আপনি চাইলে কোনো বাৎসরিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন অথবা যে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন। এ ধরনের কোনো উদযাপন সম্পর্কে শরীয়াহ সরাসরি হ্যাঁ-না কিছু বলে না।

একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের পুনর্মূল্যায়ন
আরেকটি ইস্যু নিয়ে আমরা এখন কথা বলবো। এটি বেশ বিতর্কিত একটি বিষয়। তবে এই আলোচনা আমাদের মধ্যে ভাবনার খোরাক জোগাবে। আপনারা আমার সাথে একমত বা দ্বিমত যাই পোষণ করুন না কেন, চলুন আগে আলোচনাটা শুরু করা যাক। সমকামী সম্পর্কের ব্যাপারে মুসলমানদের বক্তব্য কী হওয়া উচিত? এ ব্যাপারে এখন খুব বিতর্ক চলছে।

এ প্রসঙ্গে প্রগতিবাদীদের বক্তব্য হলো – ‘কোনো সমস্যা নেই, এগিয়ে যাও। আমাদের উচিত একে অনুমোদন দেয়া।’ রক্ষণশীলরাও তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনা কথাই বলতে থাকে।

এটি করতে গিয়ে রক্ষণশীলরা নিজেরাই ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়ে। এর ফলে তাদের বক্তাগণ এ দেশে নিষেধাজ্ঞারও সম্মুখীন হন। তাই না? কারণ তারা স্বভাবতই পর্যাপ্ত সহযোগিতা পায় না।

আমি মনে করি, সমকামীদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ইসলামসম্মত নয়। তারমানে, আমরা কি তাহলে সমকামী সম্পর্ককে অনুমোদন করছি? অবশ্যই নয়। তা যদি না করি, তাহলে কি দেশের সমকামীদের সাথে অপ্রীতিকর, জঘন্য ও নিষ্ঠুর আচরণ করতে হবে? না। এটা তাদের দেশ। তারা চাইলে এটা করতে পারে। আমরা নৈতিকতার জায়গা থেকে তাদেরকে অনুমোদন না দিলেও রাজনৈতিক ও আইনগত দিক থেকে এটি ভিন্ন ব্যাপার।

বিচ্যুত মুসলমানের সাথে ব্যবহারের আদব
সমকামিতা থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছে এমন কোনো মুসলমানের সাথে দেখা হলে অধিকাংশ রক্ষণশীল মুসলমান খুবই নির্দয় ও কঠোর আচরণ করে। এমনও বলে, ‘আমাদের মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান, আপনাকে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।’

আমি বলতে চাই, এই ব্যক্তি একজন মুসলিম। তিনি এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন, একজন ভালো মুসলমান হতে চাচ্ছেন। অথচ তিনি তো প্রগতিবাদীদের মতো নিজেকে সঠিক দাবি করছেন না। তিনি তো আর বলছেন না – ‘সমকামিতা তো হালাল। আপনি কেন আমাকে এটা হারাম বলছেন? আমি একে মসজিদে প্রকাশ্যে উদযাপনের আয়োজন করবো।’ তিনি যদি এটা না বলে থাকেন, বরং তার কথা যদি হয় এমন – ‘দেখুন, আমি এটা সহজে ছাড়তে পারছি না। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ এভাবে তিনি যাই বলুন না কেন, তিনি যদি তার ভুল স্বীকার করে বলেন – ‘আমি জানি এটা একটা সমস্যা। আমি এই অভ্যাস থেকে বেরুতে চেষ্টা করছি।’

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির – যিনি তা ছেড়ে দেওয়ার জন্যে চেষ্টা করছেন – সাথে আমরা যে রকম আচরণ করি, উপরোল্লিখিত ধরনের সমকামী মুসলিমের সাথে আমরা কেন এরচেয়ে ভিন্ন আচরণ করি? মসজিদে আগত মুসল্লীদের জনে জনে গিয়ে আপনি কি জিজ্ঞাসা করেন – ‘এই যে ভাই, আপনি কি কখনো মদপান করেছেন? আপনি কি কখনো ড্রাগস নিয়েছেন?’ অথবা, আপনি জানেন এক ব্যক্তি মদপান করে। আপনি তাকে পানশালায়ও দেখেছেন। সেই লোকটি জুমার নামাজ পড়তে এলো। আপনি কি তখন বলা শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা, এই লোকটি স্থানীয় পানশালায় মদপান করে।’ আপনি কি এভাবে সিন ক্রিয়েট করেন? নিশ্চয় না। বরং আপনার বা আমার বলা উচিত ‘আলহামদুলিল্লাহ, লোকটি অবশেষে জুমার নামাজ আদায় করতে এসেছে।’ তাই না? সুতরাং, যে ব্যক্তি একটা সমস্যা থেকে নিজেই বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, আমরা কেন তাকে বুঝতে পারি না এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারি না?

গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই কি আপসকামী মনোভাব?
আমি কি এখানে ইসলামী আইনের পরিবর্তন করেছি? না। আমি মোটেও সমকামিতাকে অনুমোদন করার কথা বলছি না। আমি বলছি না, ‘আমরা একে আইনসম্মত করে নিচ্ছি। আমরা একে উদযাপন করবো। তাই গরু-ভেড়া জবাই করে ভোজের আয়োজন করো।’ এভাবে ভেগান ইস্যুতে ফিরে যাওয়ার কথা আমি বলছি না। তবে আমি বলতে চেয়েছি, এসব লোকদের সাথে আমরা যে ধরনের আচরণ করি, তা পুনর্বিবেচনা করতে ডমিন্যান্ট ন্যারেটিভ আমাদেরকে বাধ্য করেছে। অবশ্যই বাধ্য করেছে।

ভালো আচরণ করতে অসুবিধা কি? আমার চেয়ে একটু ভিন্নতর সমস্যায় নিমজ্জিত একজন মুসলিম ভাইয়ের প্রতি আমরা কি একটু সহানুভূতিশীল হতে পারি না? এই সমস্যায় হয়তো আমি নাও পড়তে পারি, তাই বলে তার আপ্রাণ চেষ্টার প্রতি কি আমি সহানুভূতি প্রকাশ করবো না? তার সাথে কি আমার জঘন্য ও অপ্রীতিকর আচরণ করতে হবে? তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে? তাকে যাচ্ছেতাই বলতে হবে? কখোনোই না। অন্য আর দশটা গোনাহগার মুসলিমের মতো তাকে আমি বড়জোর বলতে পারি, ‘ভাই, আল্লাহ সকল পাপই ক্ষমা করে দেন। মসজিদে চলুন। বেশি বেশি কোরআন পাঠ করুন। আপনি যদি এখনো এই অভ্যাস থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে না পারেন, তাহলে তা আমাদেরকে বলার দরকার নেই। এটা আল্লাহ এবং আপনার মধ্যে গোপন রাখুন। কাউকে বলার দরকার নেই। আল্লাহর কাছে অনুশোচনা করুন এবং একজন ভালো মুসলমান হওয়ার চেষ্টা করুন।’

সহযোগিতামূলক হওয়া মানে আপসকামিতা নয়
উপরোক্ত পরামর্শগুলোই আমাদের দেওয়া উচিত। আমি কী বলতে চাইছি, আপনারা নিশ্চয় তা বুঝতে পারছেন। আমরা ইসলামী আইনকে পরিবর্তন করার কথা বলছি না। আসলে আমার বলা উচিত, ইসলামের কোনো আইনকে আমরা পরিবর্তন করছি না। বরং ইসলামী আইনের প্রচলিত ব্যাখ্যার পুনর্মূল্যায়ন করতে আমরা আগ্রহী।

মুসলমানদের এই পাঁচটি প্যারাডাইম সম্পর্কে আমি যা বলতে চেয়েছি, এতক্ষণে বোধহয় তা আপনাদের সামনে পরিষ্কার করতে পেরেছি।

নোট:

[1] ১৯৪১ সালে নির্মিত জনপ্রিয় একটি আমেরিকান ড্রামা মুভি। যেখানে সিটিজেন কেইন একজন সমাজপতি।

(চলবে)

আইয়ুব আলী
আইয়ুব আলী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *