ইসলামী চিন্তার সংস্কার: বিচ্যুতি, প্রগতি, নাকি সময়ের দাবি? (পর্ব ২)

এডিটর’স নোট:

ইসলামী চিন্তার সংস্কারের প্রসঙ্গ আসলে প্রায়শই একটা প্রশ্ন উত্থাপিত হয় – সংস্কারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনাযোগ্য, আর কোনগুলো অপরিবর্তনীয়? এক্ষেত্রে অতি উদার কেউ কেউ শরীয়াহর খোলনলচে পাল্টে ফেলতে চান, আবার অতি রক্ষণশীল কেউ কেউ মনে করেন ইসলামে সংস্কারের কোনো ধরনের সুযোগ নেই। এই দুই প্রান্তিক অবস্থানের বাইরে সঠিক পথ কী হতে পারে?

২০১৪ সালের নভেম্বরে লন্ডনে প্রদত্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার এক বক্তৃতায় শায়খ ড. ইয়াসির ক্বাদী এ ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন। একটি গল্পের আশ্রয় নিয়ে পুরো বিষয়টিকে তিনি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্যে বক্তৃতাটি ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করা হচ্ছে। অনুবাদ করেছেন আইয়ুব আলী


বক্তৃতা: পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫, পর্ব ৬ ||| প্রশ্নোত্তর: পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩


আপসকামী ধারা

এই ধারার ব্যক্তিরা তাদের ইসলামী আইডেন্টিটি টিকিয়ে রাখার জন্যে সদাসর্বদা সচেষ্ট। অথচ প্রথম দলটি তাদের ইসলামী আইডেন্টিটি ইতোমধ্যেই ত্যাগ করেছে। দ্বিতীয় দলটি আপসকামী। তারা মনে করে, সমাজের ডমিন্যান্ট ন্যারেটিভ অর্থাৎ ভেগানিজম হচ্ছে একমাত্র নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোড অব ল। আবার একইসাথে তারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা প্রকাশ্যেই বলে, ‘আমরা পবিত্র কোরআন ও নবী মোহাম্মদের (সা) উপর বিশ্বাস রাখি।’

কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? কোরআন স্পষ্টভাবেই মাংস খাওয়াকে অনুমোদন করেছে। অথচ আপসকামীরা মনে করে, এটা একটা জঘন্য, পশ্চাৎপদ এবং অসভ্য কাজ। তাহলে তারা কীভাবে কোরআন ও নবীর (সা) উপর বিশ্বাস রাখে? কীভাবে তারা মুসলিম থাকে?

হাদীস অস্বীকার
এই দলটি বিশেষ কোনো জনপ্রিয় ভাষ্য বা স্থানিক প্রথা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে অজান্তেই নিজেদের মূল্যবোধ পরিবর্তন করে ফেলে। এই বিকৃত আদর্শ ও নৈতিকতাকে তারা কোরআন ও ইসলামী ঐতিহ্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। এরা সাধারণত হাদীস প্রত্যাখ্যান করে। ‘হাদীসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তাই শুধু কোরআন নিয়েই আমাদের ভাবতে হবে’ – এটি তাদের বক্তব্য।

মাংস নিষিদ্ধ করাই শরীয়াহর উদ্দেশ্য
মাংস খাওয়ার অনুমোদন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য হলো – ‘এটা সত্য যে অতীতের কিছু আলেম এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, কোরআন মাংস খাওয়াকে উৎসাহিত করে। কিন্তু আপনি যদি ইসলামের স্পিরিট বা শরীয়াহর উদ্দেশ্যের দিকে খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন, মাংস খাওয়াকে পুরোপুরি বর্জন করাই ছিল শরীয়াহর উদ্দেশ্য। কিন্তু মানুষ মাংস খেতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে শরীয়াহ তা নিষিদ্ধ করতে পারেনি। তবে শরীয়াহ আমাদেরকে কিছু উপায় বাতলে দিয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে মাংস খাওয়াটা এক ধরনের পশ্চাৎপদতা। বর্তমানে আমরা ভেগানোপোলিস রাষ্ট্রে বসবাস করছি। তাই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আমাদেরকে ভেগানিজম গ্রহণ করা উচিত। এটা ইসলামী আইনেরও দাবি! এ আইন মাংস খাওয়াকে হারাম গণ্য করে!’

পিক অ্যান্ড চ্যুজ ফ্যালাসি
তারা আরো বলে – ‘নবীজীর (সা) সীরাত থেকে এটা পরিস্কার যে, তিনি কদাচিৎ মাংস খেতেন।’

এটা ঠিক, মহানবী (সা) কদাচিৎ মাংস খেতেন। কিন্তু এই দলটি সাধারণত হাদীস অস্বীকার করে থাকে। তারপরেও নিজেদের সুবিধামতো দুয়েকটা হাদীস তারা ঠিকই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে। একে বলা হয় পিক অ্যান্ড চ্যুজ ফ্যালাসি বা একপেশে নীতি। তারপর এই রেফারেন্সকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে, যার সাথে মূল বিষয়ের অর্থগত সম্পর্ক নেই। যেমন তারা বলে, ‘মহানবীর (সা) স্ত্রী আয়েশা (রা) বলেছেন, তাদের চুলায় তিন মাস পর্যন্ত আগুন জ্বলেনি। তারমানে, কোনো মাংসও রান্না হয়নি!’

মহানবী (সা) ভেগান ছিলেন
এরপর তারা হয়তো বলবে, ‘এখন কেউ বলতেই পারে, এই ঘটনার মানে হলো মহানবী (সা) ভেগান ছিলেন। আসলে ভেগান হওয়াই ছিল ইসলামের স্পিরিট। এটা ঠিক, তিনি কদাচিৎ মাংস খেতেন। তবে এর পেছনে তখনকার রীতিনীতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। তাই আদর্শ হিসেবে বা দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের ভেগান হওয়াই উচিত।’

উটের অভিযোগ
তারা হয়তো এমনটাও বলতে পারে, ‘তখনকার সমাজে নানা ধরনের প্রথা বা রীতিনীতি থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাঁকে রহমাতাল্লিল আলামীন তথা বিশ্বজগতের জন্যে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন’।

এখানে তারা আরেকটি কৌশল অবলম্বন করেছে। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে নিজেদের অনুকুলে নেওয়ার জন্য সেটির ব্যাপক অর্থের পরিবর্তে তারা বিশেষ কোনো অর্থকে গ্রহণ করে।

আমরা জানি, কোরআনে মহানবীকে (সা) বিশ্বজগতের জন্যে রহমত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, হাদীসের সূত্রে একটি উট কর্তৃক তার মালিকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগের ঘটনা আমরা জানি। সহীহ বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে – ‘একবার একটি উট মহানবীর (সা) কাছে এসে অভিযোগ করলো, আমার মালিক আমাকে সাধ্যের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করায়, কিন্তু অনেক কম খাবার দেয়।’ আরেকটি হাদীসে এসেছে, উটটির অভিযোগ ছিল – ‘আমার মালিক আমাকে প্রহার করে’। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহানবী (সা) উটটির মালিককে তিরস্কার করেন।

এখন আপসকামী দলটি এই উদাহরণ দেখিয়ে বলবে, ‘যিনি বিশ্বজগতের জন্যে রহমত, যিনি উটকে প্রহার না করতে তার মালিককে নির্দেশ দিয়েছেন, অতিরিক্ত কাজ করাতে নিষেধ করেছেন; সেই দয়ালু নবী স্বীয় অনুসারীদেরকে ঈদের দিন রক্তপিপাসু হতে বলবেন, অধীনস্ত পশুদেরকে হত্যা করার কথা বলবেন – এমনটা আপনি কীভাবে ভাবতে পারেন! এটাই কি সেই ইসলাম, যা মহানবী (সা) নিয়ে এসেছিলেন! স্পষ্টতই এটা ভুল চিন্তা। কারণ তিনি তো রহমাতাল্লিল আলামীন! তাই ঈদের দিন পশু জবাই করাটা একটা অসঙ্গত কাজ। এ ধরনের কিছু ইসলামে নেই। আমরা মুসলমানরা হচ্ছি ভেগান। ইসলাম আমাদেরকে ভেগানই হতে বলে।’

এই দলের কৌশল হচ্ছে কোরআন-হাদীস থেকে শুধু সেই দলীলগুলোই গ্রহণ করা যেগুলো তাদের মানদণ্ডের সাথে খাপ খায়। স্পষ্টতই তাদের নিজস্ব মানদণ্ডের আলোকে তারা কোরআন ও সুন্নাহ পাঠ করে। কোনো বিষয়ে কোরআন প্রকৃতপক্ষে কী বলেছে, সেটা নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। বরং তাদের মতামতই তারা কোরআনের উপর চাপিয়ে দেয়।



রক্ষণশীল ধারা

আমাদের মসজিদগুলোর মুসুল্লীদের অধিকাংশই রক্ষণশীল ধারার। দেশের প্র্যাকটিসিং মুসলমানদের বেশিরভাগই এই ধারার অনুসারী। এই দলটি পূর্বপুরুষের মাংস খাওয়ার ঐতিহ্যকে রক্ষা করে চলে এবং একে রীতিমতো আইনসিদ্ধ করার চেষ্টা করে। প্রচলিত বিরুদ্ধ সংস্কৃতি মাংস খাওয়াকে নিষিদ্ধ গণ্য করায় এই দলের কেউ কেউ একে মুসলমান হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত বানিয়ে নিয়েছে।

ধর্মবাদিতা
তারা মনে করে, ‘একজন ভালো মুসলমান হতে হলে আপনাকে অবশ্যই মাংস খেতে হবে।’ এমনকি কোনো মুসলমান ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে মাংস না খেলে তারা তাকে খুবই অবজ্ঞার চোখে দেখে – ‘হায়, তোমার আত্মা তো মরে গেছে! তুমি তো এখন প্রচলিত ভেগান সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছো! কারণ তুমি মাংস খাও না। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষরা মাংস খেতেন!’

ধর্মীয় প্রথা হিসেবে মাংস খাওয়া
রক্ষণশীল ধারার মুসলমানদের নিকট মাংস খাওয়া ধর্মীয় প্রথার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোতেও এর এত গুরুত্ব নেই। মাংস খাওয়াকে তারা ভালো মুসলমানের পরিচায়ক বলে মনে করে। কারণ, আপনি হলেন অমুসলিম সংস্কৃতি তথা প্রচলিত সংস্কৃতির বিরোধী লোক।

সেই কারণে আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, রক্ষণশীল ধারার মুসলমানরা যে কোনো অনুষ্ঠানে তাদের মাংস খাওয়ার অভ্যাসকে প্রতীকে পরিণত করে।

বিভিন্ন উপধারা
এই ধারার মুসলমানদের পূর্বপুরুষরা কোন অঞ্চল থেকে এসেছিল, তার উপর ভিত্তি করে এদের মধ্যে বিভিন্ন উপধারা তৈরি হয়। এক দল বিরিয়ানীকে প্রাধান্য দেয়, তো আরেক দলের পছন্দ শর্মা। অন্যদিকে, আরেক দল এসে বলে, ‘অবশ্যই সেদ্ধ চাল এবং বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে ভেড়ার মাংস রান্না হতে হবে।’ এরইমধ্যে আরো এক দলের দাবি হচ্ছে, ‘অবশ্যই মুরগী দিয়ে কুচ কুচ রান্না করতে হবে।

উল্লেখ্য, ভেগানরা নিরামিষভোজী হওয়া সত্বেও ইউকেভিতে মাছ খেতে কোনো বাধা নেই। এ কারণে ফিশ অ্যান্ড চিপস খাওয়াকে এই উপদলগুলোর কোনোটিই বরদাশত করে না। তাদের বক্তব্য হলো – ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ফিশ অ্যান্ড চিপস খেতো না। এর বদলে আমাদেরকে বিরিয়ানী খেতে হবে।’ আরেক গ্রুপ ‘রুজদে জাজ’র কথা বলবে। তখন অন্য আরেক গ্রুপ এসে হয়তো বলবে, ‘না, শর্মাই খেতে হবে।’ কিন্তু কোনো গ্রুপই ফিশ অ্যান্ড চিপস খাওয়ার কথা বলবে না। কারণ, এর মানে হচ্ছে আপনি বিপথে চলে গেলেন!

এই বিশেষ বিশেষ খাবারগুলো স্ব স্ব উপধারার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে তারা পরস্পরবিরোধী হয়ে যায়। আমরা একে তুচ্ছ মনে করলেও ব্যাপারটাকে তারা অনেক বড় বানিয়ে ফেলেছে।

আপনি যদি শর্মার চেয়ে বিরিয়ানীকে প্রাধান্য দেন, তাহলে তারা আপনার সাথে তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হবে, আপনাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। এমনকি এর ফলে তারা নামাজ পড়তে আলাদা মসজিদে পর্যন্ত চলে যেতে পারে। কারণ, তাদের পূর্বপুরুষরা যেভাবে ইসলাম পালন করেছে, তার সাথে আপনারটা মিলে না। এভাবে রক্ষণশীল ধারার প্রতিটি উপধারাই তাদের পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতিকে আপন মনে করে আঁকড়ে ধরে। এটাকেই তারা ইসলাম অনুসরণের একমাত্র পন্থা বলে মনে করে।

মাংস খাওয়া ভালো মুসলমানের পরিচয়
মাংস খাওয়াকে তারা এমনই তাৎপর্যপূর্ণ একটা ব্যাপারে পরিণত করেছে যে, এর উপর ভিত্তি করেই আপনি কতটকু ইসলাম পালন করেন, তা মূল্যায়ন করা হয়। এটা স্পষ্ট যে, এই ধারাটি প্রচলিত জনপ্রিয় সংস্কৃতির একটা পাল্টা প্রতিক্রিয়া মাত্র। এটাও বাস্তবতা যে, প্রচলিত সংস্কৃতির ব্যাপারে তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব থাকে। যদিও তাদের সন্তানেরা এখানেই জন্মগ্রহণ করেছে। হতে পারে তারা নিজেরাও এখানে জন্মগ্রহণ করেছে। তারপরেও তাদের অনেকে নিজেদেরকে ইউনাইটেড কিংডম অব ভেগানোপোলিসের সত্যিকারের নাগরিক পর্যন্ত মনে করে না।

বুদ্বুদের ভেতর বসবাস
এই মানুষগুলো দুইটি ভিন্ন জগতে বসবাস করে। তারা যখন দৈনন্দিন কাজকর্ম, চাকরি বা শপিংয়ের জন্যে কোথাও যায়; তখন তারা নিজেদের জগতের বাইরে ভ্ন্নি আরেকটা জগতে প্রবেশ করে। এর বিপরীতে, তাদের সামাজিক মেলামেশা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পূর্ণ আলাদা। আক্ষরিক অর্থেই তারা যেন একটা বুদ্বুদের ভেতর বাস করছে।

জেনারেশন গ্যাপের ভ
আরো একটা ব্যাপার হচ্ছে, তাদের সন্তান ও নাতিপুতিদের অধিকাংশই এই বুদ্বুদের ভেতর আর বসবাস করতে চায় না। এটা নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। এ কারণে তাদের মতবিনিময় সভা কিংবা মসজিদগুলোতে বৃদ্ধ মানুষই বেশি অংশগ্রহণ করে। মোটকথা, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই রক্ষণশীল ধারাকে আর মেনে নিচ্ছে না। ফলে তারা বুঝতে পারছে, এটা একটা সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার কোনো সমাধান তাদের কাছে নেই।


কট্টরপন্থী ধারা

চতুর্থ দলকে আমরা কট্টরপন্থী ধারা বলতে পারি। এই দলটি ক্ষুদ্রতর হলেও মনমানসিকতায় উগ্রপন্থী। কারণ, বৃহত্তর সমাজ সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোর উপর চড়াও হতে রাষ্ট্রকে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে ইউকেভি একচোখা বৈদেশিক নীতি ও অন্যায় যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারছে এবং ভেগানিজম ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে আক্রমণ চালাচ্ছে।

এসবের ফলে তারা এত বেশি ক্রুদ্ধ হয়ে পড়ে যে, একপর্যায়ে তারা ভেগানবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। প্রচলিত সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়ে তারা সবজির ফার্ম ধ্বংস করে ও প্রকাশ্যে শাকসবজিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দলটি সর্বক্ষণ ‘আমরা বনাম তারা’ – এই মানসিকতা দ্বারা তাড়িত হয়।

এই লোকদের এসব কাজকর্ম প্রচার করতে মিডিয়া খুবই ভালোবাসে। না হলে আমরা হয়তো এই মানুষগুলোর কথা কখনোই জানতাম না। সংবাদমাধ্যমগুলো এই ক্ষুদ্র কট্টরপন্থী দলটির কাজকর্ম প্রচার করে উচ্ছ্বাসের সাথেই বলে, ‘এই হচ্ছে সব মুসলমানের বৈশিষ্ট্য’।

Leave a Reply