মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭
হোম > লেকচার অনুবাদ > অন্যান্য কমিউনিটির সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক (পর্ব-২)

অন্যান্য কমিউনিটির সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক (পর্ব-২)

এডিটর’স নোট:

অন্যান্য ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়ের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক কী বিদ্বেষপূর্ণ বা শত্রুতামূলক হবে, নাকি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হবে? এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী কী? প্রশ্নটি নতুন না হলেও বর্তমান বৈশ্বিক মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে এটি সবার জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ বৃটেনের ইস্ট লন্ডন মসজিদে জুমার খুতবায় ড. জামাল বাদাবী এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি কোরআন, হাদীস ও রাসূলের (সা) জীবনীর আলোকে এ সম্পর্কিত মূল্যবোধগুলো তুলে ধরেছেন।

ড. জামাল বাদাবী মিশরীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় ইসলামী স্কলার। তিনি কানাডার সেইন্ট মেরি ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক। লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও বক্তা হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। ইসলামের সামাজিক দিক নিয়ে তাঁর প্রচুর কাজ রয়েছে।

সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্যে এই খুতবার ধারাবাহিক অনুবাদের অংশ হিসেবে আজ দ্বিতীয় পর্ব পাবলিশ করা হলো।


অন্যান্য পর্ব: প্রথম পর্ব, তৃতীয় পর্ব এবং শেষ পর্ব



সার্বজনীন ইসলামী মূল্যবোধ:
আপনারা লক্ষ করে থাকবেন, কোরআনে দুই ধরনের সম্বোধন রয়েছে। ঈমানদারগণকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাজীনা আমানু’ (হে ঈমানদারগণ!) বলে। তারমানে কি অন্যান্য মানুষকে বাদ দেয়া হয়েছে? না। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, নামাজ, রোজা, হজ ইত্যাদির মতো মুসলমানদের জন্য অবশ্য পালনীয় বিষয়ে যখন কথা বলা হয়েছে তখনই কেবল ‘হে ঈমানদারগণ’ সম্বোধন করা হয়েছে। যারা এখনো ইসলাম গ্রহণ করেনি তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আগেই এসব বিষয়ে নির্দেশ দেয়ার যৌক্তিকতা নেই। বরং এসব নির্দেশনা তাদের জন্যে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে।

একইসাথে সমগ্র মানবজাতিকে সম্বোধন করে দেয়া বক্তব্যও কোরআনে রয়েছে। সে কারণেই আমরা একে সার্বজনীন মূল্যবোধ বলছি। এ মূল্যবোধগুলো একইসাথে ইসলামী ও সার্বজনীন। কোরআনে যখন বলা হয় ‘ইয়া আইয়ুন নাস’ (হে মানুষ!), তখন কি শুধু মুসলমান কিংবা আসমানী কিতাবধারীদের কথাই বলা হয়? ‘আইয়ুহান নাস’ মানে হলো সমগ্র মানবজাতি। আবার বলা হয়েছে, ‘ইয়া বনী আদম’ অর্থাৎ হে আদমের সন্তানেরা! কেউই আদমের সন্তান হিসেবে নিজেকে অস্বীকার করতে পারে না। আল্লাহর অনুগত কিংবা অবাধ্য তথা বিশ্বাস যাই হোক না কেন, সমগ্র মানবজাতিই আদমের সন্তান। এই কথাগুলো বিবেচনায় রেখে কোরআনের বক্তব্যের আলোকে এখানে কিছু মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোচনা করছি।

মানবিক মর্যাদার সার্বজনীনতা
এ মূল্যবোধগুলোর প্রথমটি হলো মানবিক মর্যাদার সার্বজনীনতা। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ

নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। (সূরা বনী ইসরাইল: ৭০)

এর অর্থ দাঁড়ায়, মুসলিম-অমুসলিম – যে কাউকে ভীতি প্রদর্শন বা অপদস্ত করা কিংবা কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ করা নীতিগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের কাজ কোনো ঈমানদার ব্যক্তির আচরণ হতে পারে না। কোনো যৌক্তিক কার‍ণ ছাড়াই যারা এসব করে, তারা আল্লাহর কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যায়। যে ব্যক্তি ঈমানদার নয়, পরবর্তী কোনো এক সময়ে সে ঈমানদার হতেও তো পারে! কেউ কোনো অন্যায় করে থাকলে উপযুক্ত শাস্তি তার প্রাপ্য, কিন্তু কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানবিক মর্যাদার অবনমন করা যাবে না।

মানব জীবনের অলঙ্ঘনীয়তা (Sanctity)
মানব জীবনের গুরুত্ব নিয়ে কোরআনে একাধিক আয়াত রয়েছে। এ আয়াতগুলো শুধু মুসলমান নয়, বরং সবার জন্যেই প্রযোজ্য। প্রত্যেক মানুষেরই জীবনের মূল্য ও এর পবিত্রতা রয়েছে। একে সম্মান করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে সূরা মায়েদার একটা আয়াতের কথা বলা যায়। কোরআনের এই আয়াতের শিক্ষা পূর্ববর্তী ইসরাইলী নবীদের কাছেও নাজিল হয়েছিল। কোরআন বলছে,

مِنْ أَجْلِ ذَٰلِكَ كَتَبْنَا عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا ۚ وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم بَعْدَ ذَٰلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ

এ কারণেই আমি বনী ইসরাইলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুত এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে। (সূরা আল মায়েদা: ৩২)

এই প্রসঙ্গে এর পূর্বের কয়েকটি আয়াতে আদমের (আ) দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কথা বলা হয়েছে।[1] এই দুই ভাইয়ের মধ্যকার রক্তপাতের ঘটনাই হলো পৃথিবীর প্রথম নরহত্যার ঘটনা। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজো একইভাবে মুসলমানরা পরস্পরকে হত্যা করছে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে বিচ্যুতির ফলেই এমনটা ঘটছে। কিসাসের বিধান অনুযায়ী শাস্তিপ্রাপ্ত নয় – এমন কোনো ব্যক্তিকে কেউ হত্যা করলে হত্যাকারীকে অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে শাস্তি পেতে হবে। নিহত ব্যক্তিটি মুসলিম কিংবা অমুসলিম যে-ই হোক না কেন, তাতে কিছু আসে যায় না। কোরআনের বিধান মতে, নিহতের অভিভাবকরা হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। এর ফলে সে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিতে পারেন কিংবা নাও নিতে পারেন।

কিসাসের বিধানটি ইসলামের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। আধুনিক পশ্চিমা আইনেও এর ছাপ পাওয়া যায়। কোনো অপরাধী যদি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়, তাহলে তাকে একটা সুযোগ দেয়ার বিধান এসব আইনেও রয়েছে।

অন্যদিকে, স্বৈরশাসকরা তাদের নিয়মতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত আয়াতে বর্ণিত ‘ফাসাদ’[2] শব্দটির মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। বিরোধীদের প্রতিবাদ দেখলেই তারা বলে ওঠে, এই তো তারা ফাসাদ (বিশৃঙ্খলা) করছে। আসলে এ ধরনের ব্যাখ্যা কোরআনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। অথচ ফাসাদপূর্ণ কাজ কোনগুলো, তা কোরআনে স্পষ্টভাবেই বলা আছে। এসব কাজ ‘হেরাবা’[3] হিসেবে গণ্য। যেমন – সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ডাকাতি, মানুষ খুন ইত্যাদি। অপরাধের মাত্রা অনুসারে এসব অপরাধীকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিদানের কথা বলা আছে।

যারা শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করে, জালিম শাসককে জালিম হিসেবে অভিহিত করে, ন্যায়বিচার করার আহ্বান জানায়; তাদেরকে হয়রানী বা নির্মূল করার জন্য ‘ফাসাদ’ শব্দের অপব্যবহার একটা বিকৃতি মাত্র। এসব ‘ভিন্ন মতাবলম্বীদের’ মধ্যে কেউ নিহত হলে তারা শ্রেষ্ঠ শহীদদের একজন হিসেবেই গণ্য হবেন। যেহেতু মোহাম্মদ (সা) বলেছেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ হচ্ছেন আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হামজা এবং সেই ব্যক্তি যে জালিম শাসকের মুখোমুখি হয়।” এ ধরনের ব্যক্তি ট্যাংক, মিসাইল বা কোনো প্রকার অস্ত্র নিয়ে নয়, বরং নিরস্ত্র অবস্থায় শাসকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোরআন-হাদীস অনুযায়ী তার কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয় – সেই সত্য কথাগুলো বলে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের শাসকেরা একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকে। এমনকি এসব শাসকের বিরুদ্ধে কেউ একটা আর্টিকেল লিখলেও তাকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হয়।

বর্তমানে ইসলামের নামে মুসলিম ও অমুসলিমদের সাথে যেসব দুঃখজনক ঘটনা ঘটে চলছে, তা বুঝতে হলে এ ব্যাপারগুলো মনে রাখা খুবই জরুরি। মুসলিম নামের জুলুমবাজরা হাজার হাজার নিরপরাধ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে মোটেও দ্বিধা করছে না। তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে, জেলে আটক রাখা হচ্ছে। এভাবে তাদের ও তাদের প্রিয়জনদের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।

মানুষের সমতা
তৃতীয় মূল্যবোধটি হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার নিকট সকল মানুষের সমতা। যদিও পরকালে ঈমানদার ও অন্যান্যদের মধ্যে একটা পার্থক্য থাকবে। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী অবিশ্বাসীদের জন্যে পরকালে কী পরিণতি রয়েছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু আমরা মানুষকে বিচার করার কেউ নই। কেন তারা এই পৃথিবীতে জীবনযাপন করছে? কারণ সমতা শুধু মুসলমান কিংবা বিশ্বাসীদের জন্যে নয়, সকলের জন্য। মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব, তা শুধু মুসলমানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে সম্বোধন করে বলেছেন – ইয়া আইয়ুহান নাস (হে মানুষ সকল!)। এখানে কি শুধু মুসলমানদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে? না। বরং ইসলামী বিশ্বজনীন মূল্যবোধ হিসেবে ‘আন নাস’ তথা সকলকেই সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহ বলছেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَ‌فُوا ۚ إِنَّ أَكْرَ‌مَكُمْ عِنْدَ اللَّـهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারনিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। (সূরা হুজরাত: ১৩)

এ আয়াতের বক্তব্য অত্যন্ত পরিস্কার। যারা প্রচুর অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতা, কৌশল ইত্যাদির অধিকারী হয়ে অহংকারী বা উদ্ধত হয়ে পড়ে এবং এগুলোর অপব্যবহার করে অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সকল মানুষের সমতার নীতিকে অমান্য করে; তখন তারা আসলে আল্লাহর কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যায়। রাসূল (সা) বলেছেন, “অনারবের উপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কালোর উপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কেবল তাকওয়ার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা যায়।” 

এ থেকে বুঝা যায়, কোরআন ও হাদীসের মাঝে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। যারা নিজেদেরকে ‘আহলে কোরআন’ তথা ‘কোরআনের অনুসারী’ বলে দাবি করে কিন্তু হাদীসকে অস্বীকার করে তারা কখনোই ‘আহলে কোরআন’ হতে পারে না। কারণ স্বয়ং কোরআনেই সুন্নাহকে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُ‌دُّوهُ إِلَى اللَّـهِ وَالرَّ‌سُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ‌

তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর, যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। (সূরা নিসা: ৫৯)

এ বিষয়ে আরো অনেক প্রমাণ রয়েছে। কোনো বিষয়ে ইসলামের প্রকৃত বক্তব্যকে গুলিয়ে ফেলার এই ধরনের প্রবণতা খুবই ভয়ংকর। এর ফলে ইসলামের কোনো না কোনো মূলনীতি লঙ্ঘিত হয়ে যেতে পারে।


নোট ও রেফারেন্স

[1] আর তাদেরকে আদমের দুছেলের সঠিক কাহিনীও শুনিয়ে দিন তারা দুজন কুরবানি করলে তাদের একজনের কুরবানি কবুল করা হলো, অন্য জনেরটা কবুল করা হলো না সে বলল, আমি তোমাকে মেরে ফেলব সে জবাব দিল, আল্লাহ তো মুত্তাকীদের নজরানা কবুল করে থাকেন তুমি আমাকে মেরে ফেলার জন্য হাত উঠালেও আমি তোমাকে মেরে ফেলার জন্য হাত উঠাব না আমি বিশ্বজাহানের প্রভু আল্লাহকে ভয় করি আমি চাই, আমার তোমার পাপের ভার তুমি একাই বহন কর এবং তুমি জাহান্নামী হয়ে যাও জালিমদের জুলুমের এটাই সঠিক প্রতিফল অবশেষে তার প্রবৃত্তির কুপ্ররোচনা তার ভাইকে মেরে ফেলা তার জন্য সহজ করে দিল এবং তাকে মেরে ফেলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল তারপর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন সে মাটি খুঁড়তে লাগলো, যাতে তাকে দেখিয়ে দেয় তার ভাইয়ের লাশ কিভাবে লুকিয়ে ফেলবে দৃশ্য দেখে সে বলল, হায় আফসোস! আমি কাকটির মতও হতে পারলাম না যাতে নিজের ভাইয়ের লাশটিও লুকাতে পারি এরপর নিজের কৃতকর্মের জন্য সে অনুতপ্ত হলো (সূরা আল মায়েদা: ২৭-৩১)

[2] এর শাব্দিক অর্থ বিশৃঙ্খলা বা অনর্থ সৃষ্টি করা। কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে এটি বাংলা ভাষায় ‘ফ্যাসাদ’ হিসেবে চালু রয়েছে।

[3] ‘হেরাবা’ হলো ইসলামী দণ্ডবিধি। প্রকাশ্য ডাকাতি, খুন, সশস্ত্রপন্থায় জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, সরকারী সুযোগ-সুবিধা ধ্বংস করা ইত্যাদি অপরাধ এর আওতাভুক্ত।

আইয়ুব আলী
আইয়ুব আলী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *